রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে কাল ভালো ব্যাট করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে কাল ভালো ব্যাট করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।ছবি: টুইটার

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কেমন ব্যাটসম্যান? ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখা যে কেউ চোখ বন্ধ করে বলবেন, মেরে বলের চেহারা পাল্টে দেওয়া লোক। মাঝেমধ্যে তো হারিয়েও ফেলেন!

কাল আইপিএলে প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলেন। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো অবশ্য দ্বিধাবিভক্ত—কেউ বলছেন, স্টেডিয়ামের ছাদে পাঠিয়েছেন, কারও দাবি বল স্টেডিয়ামের মধ্যে থাকেনি। বাতাসে ভাসতে ভাসতে বাইরে পড়েছে।

ম্যাক্সওয়েলের জন্য এই ছক্কা আসলে তাঁর পিঠ থেকে ‘সিন্দাবাদের ভূত’ নেমে যাওয়ার মতো। অস্ট্রেলিয়ান এ অলরাউন্ডার কাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ছক্কা মেরেছেন দুটি। ২৮ বলে তাঁর ৩৯ রানের ইনিংস বেঙ্গালুরুকে ২ উইকেটে জিততে ভালোই সহায়তা করেছে। তবে এই ইনিংস সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে ম্যাক্সওয়েলকেই।

বিজ্ঞাপন

তাঁর ছক্কা মারার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। ম্যাক্সওয়েল নিজেই এই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে বিদায় করেছেন রূপকথার সেই ‘ভূত’কে, যা আঠার মতো সেঁটে থাকা কোনো সমস্যা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

এই সমস্যা শুধু ছক্কা মারতে না পারার ধাঁধা নয়। গত আইপিএলে নিদারুণ রানখরায় ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। ১৩ ম্যাচে তাঁর রান মাত্র ১০৮। পাঞ্জাবের ১০ কোটি ৭৫ লাখ রুপির খেলোয়াড়ের এমন পারফরম্যান্স দেখে টিপ্পনী কেটেছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। আইপিএলের ‘১০ কোটি দামের চিয়ারলিডার’ বলেছিলেন ম্যাক্সওয়েলকে।

সেই ম্যাক্সওয়েলের ওপর এবার বেঙ্গালুরু ১৪.২৫ কোটি রুপি খরচায় আস্থা রাখার পর ভ্রু কুঁচকে ফেলা মানুষের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি ছিল না। কারণ, টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর সামর্থ্য নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। একটা ইনিংস, একটা বল কিংবা সামান্য সেকেন্ড–ভগ্নাংশের একটা মুহূর্তও ছন্দে ফিরিয়ে আনতে পারে যেকোনো ব্যাটসম্যানকে।

কাল সেই ছন্দ ফিরে পাওয়ার পর আইপিএলের ওয়েবসাইটকে বেঙ্গালুরু তারকা বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লেগেছে। গত বছর তো একটি ছক্কাও মারতে পারিনি। বিরাটকেও তা বলেছি। মাঝ ব্যাটে লাগিয়ে পার করায় মনে হচ্ছে পিঠের ওপর থেকে ভূতটা নেমে গেছে। শুরুটা ভালো হয়েছে। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক থাকায় কাজটা সহজ হয়ে গেছে।’

কোহলির সঙ্গে তাঁর ৪২ বলে ৫২ রানের জুটি বেঙ্গালুরুর জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছে। ১১তম ওভারে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে মারা ম্যাক্সওয়েলের প্রথম ছক্কাটি ছিল ১০০ মিটার দূরত্বের বেশি। অত বড় ছক্কা দেখে কোহলিও বিস্ময় লুকাতে পারেননি।

আইপিএলে দীর্ঘ ১,০৭৯ দিন পর এটা ছিল তাঁর প্রথম ছক্কা! ব্যাটে ঠিকঠাক লাগায় আত্মবিশ্বাসটা ফিরে আসে ম্যাক্সওয়েলের। তাই আর দেরি করেননি। রাহুল চাহারের করা পরের ওভারের প্রথম বলেই খেলেছেন ‘সুইচ হিট’—ডিপ পয়েন্টের ওপর দিয়ে ছক্কা!

জয়ের পর ম্যাক্সওয়েলের গত মৌসুমের ছক্কাখরা ব্যাখ্যার চেষ্টা করলেন কোহলি। সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় অস্ট্রেলিয়ান তারকা নিজের খেলাটা খেলতে পারেননি বলে মনে করেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক, ‘সব সময় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকাটা ঝুঁকির। ম্যাক্সওয়েলের ক্ষেত্রে এটাই হয়েছিল। তার ওপর সবার খুব বেশি মনোযোগ ছিল। আসলে একটা খেলোয়াড়কে শুধু কিনলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না, তাকে ঠিকঠাক দেখেও রাখতে হয়।’

ম্যাক্সওয়েলকে দেখে রাখার কাজ করছে বেঙ্গালুরু। বিনিময়ে ম্যাক্সওয়েল কি এবার বেঙ্গালুরুকে দেখে রাখতে পারবেন?

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন