অ্যাগারের স্পিনে ভুগেছে নিউজিল্যান্ড
অ্যাগারের স্পিনে ভুগেছে নিউজিল্যান্ডছবি: এএফপি

আইপিএলে খেলোয়াড়দের দাম এক কুহেলিকা। যাঁর দাম কোটির ঘরেও নয়, তাঁর ওঠে চার-পাঁচ কোটি! আবার অনেক পরীক্ষিত ক্রিকেটারও থেকে যান অবিক্রীত।

অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগারের কথাই ধরুন। আইপিএল নিলামের আগে গত সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ছিলেন ধারাবাহিক।
কিন্তু আইপিএল নিলামে তাঁকে কেউ কেনেনি।

ওদিকে নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলার কাইল জেমিসন কিংবা অস্ট্রেলিয়ারই ফাস্ট বোলার ঝাই রিচার্ডসনদের দাম উঠেছে ১৪-১৫ কোটি করে। আইপিএলে খেলোয়াড় কেনার সিদ্ধান্ত অন্তত দামের দিক থেকে যে সব সময় যৌক্তিক হয় না, তার একটা প্রমাণ হতে পারে আজ ওয়েলিংটনের ম্যাচ। আইপিএলে দল না পাওয়া অ্যাগারের সামনে ম্লান জেমিসন-রিচার্ডসনরা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ ৪ উইকেটে ২০৮ রান তুলে ৬৪ রানের জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ টি-টোয়েন্টির সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার আজকের জয়ের মূল কারিগর অ্যাগার। ৩০ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট, যা ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সেরা বোলিং ফিগার। এর আগের রেকর্ডটিও ছিল তাঁরই। অ্যাগারের ঝলকে নিউজিল্যান্ড গুটিয়ে গেছে ১৪৪ রানে।

অ্যাগারের ভিত্তিমূল্য ছিল ৫০ লাখ রুপি। বরাবরের মতো এবারও আইপিএলের জার্সি গায়ে তোলা অধরা থেকে গেছে এ স্পিনারের। অথচ আজ অ্যাগারের বিপরীতে একই ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য কিউই পেসার কাইল জেমিসন।

নিউজিল্যান্ডের এই উঠতি পেসারকে এবার কিনতে কাড়াকাড়ি পড়েছিল পাঞ্জাব কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মধ্যে। শেষ পর্যন্ত ১৫ কোটি রুপিতে তাঁকে দলে টানে বেঙ্গালুরু।

জেমিসন তো প্রতিপক্ষ, অ্যাগারেরই সতীর্থ পেসার ঝাই রিচার্ডসনের কথাই ধরুন। ৩ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে আজ উইকেটশূন্য থেকেছেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার। কিন্তু এবারের নিলামে তাঁকে নিয়ে কাড়াকাড়ি করেছে সেই পাঞ্জাব ও বেঙ্গালুরু। ১৪ কোটি রুপিতে এ যাত্রায় জয়ী পাঞ্জাব। অর্থাৎ মোট ২৯ কোটি রুপির দুই খেলোয়াড় মিলেও আইপিএলে অবিক্রীত থাকা খেলোয়াড়ের সমান পারফর্ম করতে পারেননি।

অবশ্য সব সময়ই যে এমন হয় কিংবা হবে, তা নয়; কিন্তু দামে তাকালে পারফরম্যান্সের পার্থক্য চোখে বিঁধবেই। অবশ্য এর ব্যতিক্রম আছে। রাইলি মেরেডিথ যেমন ৮ কোটি রুপিতে পাঞ্জাবে বিক্রি হওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছেন ২৪ রানে ২ উইকেট নিয়ে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১৪ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে যাওয়া ম্যাক্সওয়েলের ৩১ বলে ৭০ রানের ঝড়েই অস্ট্রেলিয়ার রান ২০০ পেরিয়েছে।

অবশ্য এখানেও কথা বলার জন্য হাত তুলতে পারেন আরেকজন—অ্যারন ফিঞ্চ। আইপিএলে দল পাননি অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক, তা নিয়ে অনেক কথাও হয়েছে। সেই ফিঞ্চ রানখরা কাটিয়েছেন আজ ৪৪ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে।

তবে অ্যাগার আজ চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আইপিএলে তাঁকে নেওয়া উচিত ছিল। কিউইদের মিডল অর্ডার থেকে শুরু করে ‘লেজ’ ছেঁটেছেন তিনি। গত বছর জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন, আজ নিজেকেই ছাপিয়ে গেলেন।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগে এক ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ছিল মাত্র চারটি। চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে পঞ্চমবারের মতো এ সংস্করণে এক ম্যাচে ৬ উইকেট নিলেন অ্যাগার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন ডেভন কনওয়ে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন