দলকে আরেকটি জয় এনে দিয়েছেন  বেন স্টোকস।
দলকে আরেকটি জয় এনে দিয়েছেন বেন স্টোকস। ছবি: আইপিএল

মায়াঙ্ক আগরওয়াল, লোকেশ রাহুল, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কিংবা স্বদেশি নিকোলাস পুরানের জন্য এবার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মূল একাদশে ঢুকতেই পারছিলেন না ক্রিস গেইল। ‘ইউনিভার্স বস’ বলে নিজের পরিচয় দিতে যে পছন্দ করেন, তাঁর এহেন ‘অপমান’ সহ্য হবে কেন? গেইলকে না নেওয়ার কারণেই কি না, প্রথম থেকে পাঞ্জাবের অবস্থাও ছিল তথৈবচ, সাত ম্যাচে মাত্র এক জয় নিয়ে প্লে-অফের দৌড় থেকে অনেক দূরেই ছিল প্রীতি জিনতার দল।

এরপর গেইল এলেন, জয় করলেন। পাঞ্জাবও জিতল টানা পাঁচ ম্যাচ। মৃতপ্রায় প্লে-অফ আশাটাকে জাগিয়ে তুললেন দুই ফিফটি করে। গত রাতে তৃতীয় ফিফটি করার পর সেঞ্চুরি প্রায় হয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু শেষমেশ এক রান আগেই জফরা আর্চারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন। ম্যাচ শেষে সেঞ্চুরি হারানোর বেদনার সঙ্গে যুক্ত হলো ম্যাচ হারের যন্ত্রণা। রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে সাত উইকেটে হেরে নিজেদের প্লে-অফের রাস্তাটা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল পাঞ্জাব। ওদিকে স্টোকস-আর্চার-স্মিথরা নিজেদের প্লে-অফে ওঠার স্বপ্নটা আবারও বাঁচিয়ে তুললেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

‘সকাল দিনের পূর্বাভাস দেয়’—এই প্রবাদটার কথা পাঞ্জাব-রাজস্থান মেনে চললে জেতার কথা ছিল পাঞ্জাবেরই। আবারও রণমূর্তি ধরেছিলেন ক্রিস গেইল। রাহুল, মানদীপদের কল্যাণে এই আইপিএলে প্রিয় ওপেনিং পজিশনে নয়, খেলছেন তিন নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে। তবে প্রথম ওভারে আর্চারের বলে ফিরে যাওয়া মানদীপ গেইলকে ইনিংসের শুরুর ওভারগুলো খেলার ‘সুযোগ’ করে দিলেন। গেইলও নেমে পড়লেন ইনিংস মেরামতের কাজে। যোগ্য সঙ্গী হিসেবে সাহচর্য দিয়ে গেছেন অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। যত বেশি সময় ধরে ক্রিজে থাকা যায়, ঠান্ডা মাথায় থেকে গেছেন গেইল। সঙ্গে রানের চাকাটাও সচল রেখেছেন।

ইনিংস বড় করার পেছনে রাজস্থান খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে পারেন গেইল। নিজের রান যখন মাত্র চার, ডিপ স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মেরেছিলেন, রিয়ান পরাগ আর রবিন উথাপ্পার ভুল-বোঝাবুঝির শিকার হয়ে জীবন পেয়ে যান। দ্বিতীয়বার জীবন পান রাহুল তেওয়াতিয়া আর বেন স্টোকসের কল্যাণে, নিজের রান যখন ৫০ ছিল। পরে ইনিংস টেনে ৯৯-এ নিয়ে যান, সেঞ্চুরির এক রান আগেই শিকার হন আর্চারের দুর্দান্ত এক ইয়র্কারের। আউট হয়ে রেগেমেগে ব্যাট ছুড়ে ফেলা গেইল হয়তো বুঝেছিলেন, এতটুকু রান যথেষ্ট নয় রাজস্থানকে হারানোর জন্য! ১৮৫ রানে থেমে যায় পাঞ্জাবের ইনিংস।

default-image

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই পাঞ্জাব বোলারদের ওপর চড়াও হন রাজস্থানের ব্যাটসম্যানরা। টপ ও মিডল অর্ডারের প্রত্যেক ব্যাটসম্যান রান পেয়েছেন—বেন স্টোকস, উথাপ্পা, সঞ্জু স্যামসন, স্টিভেন স্মিথ ও জস বাটলার। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি, ১৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে থাকা রাজস্থান কখনো পথভ্রষ্ট হতে পারে। ঝড় তুলেছিলেন স্টোকস (২৬ বলে ৫০) ও স্যামসন (২৫ বলে ৪৮)। ওদিকে তাঁদের মারার সুযোগ করে দিয়েছিলেন উথাপ্পা (২৩ বলে ৩০) ও স্মিথ (২০ বলে ৩১)। শেষে বাটলারের ছোট খাট এক ক্যামিও (১১ বলে ২২) জয় এনে দেয় রাজস্থানকে।

রাজস্থানের এই জয়ে প্লে-অফের লড়াইটা আরও জমে উঠল। মুম্বাই (১২ ম্যাচে ১৬), দিল্লি (১২ ম্যাচে ১৪), বেঙ্গালুরু (১২ ম্যাচে ১৪) অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও পাঞ্জাব, রাজস্থান ও কলকাতা (প্রত্যেকে ১৩ ম্যাচে ১২) যেকোনো মুহূর্তে অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে। দৌড়ে চলে আসতে পারে হায়দরাবাদও (১২ ম্যাচে ১০)।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0