default-image

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলতে যেন কিছু আর রইল না!

বেচারা ডেল স্টেইন না হয় নিজের মত জানিয়েছিলেন। ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএলের চেয়ে পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগ পিএসএলকে না হয় কিছুটা এগিয়ে রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৮ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার। সে জন্য আবার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ক্ষমাও চাইতে হলো তাঁকে!

আইপিএলের নিলামে এবার নাম লেখাননি; বরং এই মুহূর্তে পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলছেন স্টেইন। সেখানেই দিন দুয়েক আগে বলেছিলেন, আইপিএলে টাকার ঝনঝনানির মধ্যে ক্রিকেটটা হারিয়ে যায়, এর চেয়ে পিএসএল বা এলপিএলে (লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ) ক্রিকেটেই মনোযোগটা বেশি থাকে।

কিন্তু সে জন্য বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সমালোচনার মুখে টুইটারে আবার পিছু সরে এসে স্টেইন বললেন, কেউ তাঁর মন্তব্যে কষ্ট পেলে তিনি ক্ষমা চাইছেন।

বিজ্ঞাপন

২০১৪ আইপিএলের পর থেকেই টুর্নামেন্টটাতে স্টেইন আর তেমন শিরোনামে জায়গা করে নেওয়া নাম নন। ২০১৬ থেকে তিন বছর তো খেলেনইনি। মাঝে দুই বছর খেলেছেন, কিন্তু ভালো করতে পারেননি। এবার নামই দেননি।

সেটি গত দুই মৌসুমে পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় দল না পাওয়ার শঙ্কায়, নাকি আইপিএলে এলে দুই মাস জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকতে হবে ভেবে, নাকি অন্য কোনো কারণে—এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছিল। এর মধ্যে এবারই প্রথম পিএসএলে খেলতে এসেছেন স্টেইন।

এসেই বিতর্কে জড়াল তাঁর নাম। প্রথমে তাঁর চুল নিয়ে রসিকতা করায় নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সাইমন ডৌলকে স্টেইন বলেছেন, ডৌলকে তিনি মানুষই মনে করেন না। এরপর আইপিএলের সঙ্গে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর, বিশেষ করে পিএসএলের তুলনা করে কুড়িয়েছেন সমালোচনা।

ক্রিকেট পাকিস্তান ওয়েবসাইটের সঙ্গে আলাপে স্টেইন বলেছেন, ‘আমার কাছে অন্য লিগগুলোতে খেলাটাই বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। আইপিএলে এত বড় স্কোয়াড থাকে, এত বড় সব নাম থাকে এবং কে কত দামে বিক্রি হলো, সেটায় এত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে এসবের মধ্যে মানুষ ক্রিকেটের কথাই ভুলে যায়।’

সে তুলনায় পিএসএলে খেলতে আসার অভিজ্ঞতা স্টেইনের কাছে ভালো লেগেছে, ‘আমি এখানে মাত্র কয়েক দিন হলো এসেছি। এখন পর্যন্ত অনেকেই আমার রুমে এসেছে। তারা শুধু জানতে চেয়েছে, আমি কোথায় খেলেছি এত দিন এবং কীভাবে খেলেছি। অথচ আইপিএলে যখন খেলতে যাই, এসব মানুষ ভুলেই যায়। সেখানে মূল আলোচনাই হলো, আইপিএলের জন্য কত অর্থ পাচ্ছেন আপনি। আমি একদম কঠিন সত্য বলছি। আমি এ থেকে দূরে থাকতে চেয়েছি।’

একে তো ভারতীয়দের প্রিয় আইপিএল নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য, তার ওপর সেটি থেকে পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে এগিয়ে রেখেছেন স্টেইন। সেটার সঙ্গে যোগ করে নিন, আইপিএলে এত বছর খেলার পর এখন পিএসএলে গিয়ে এমন কথা বলছেন স্টেইন।

ভারতীয়দের তা সহ্য হবে কেন! টুইটারে রীতিমতো দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলারকে ধুয়ে দিয়েছেন ভারতীয়রা। প্রশান্ত মিশ্র নামের একজন লিখেছেন, ‘আইপিএল অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ছোট লিগগুলো তাঁর মতো বুড়োদের গা বাঁচিয়ে খেলার সুযোগ করে দেয়।’

অ্যাডাম ইউজার নামের একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন তাঁর চোখে স্টেইনের মন্তব্যের অনুবাদ, ‘বুড়ো হয়ে গেলে, ঝলক হারিয়ে গেলে আইপিএলে ভালো টাকার চুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। কারণ, সেখানে দলগুলোর বেছে নেওয়ার মতো মানসম্পন্ন অনেক বিদেশি খেলোয়াড় থাকে। কিন্তু পিএসএলের মতো ছোট লিগগুলোতে কিংবদন্তির মর্যাদায় একাদশে আপনার জায়গা পাকা থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

এ মন্তব্যে সহমত জানিয়ে একজন লিখেছেন, ‘সত্যি। কয়েক বছর ধরেই আইপিএলে বেশ মার খেয়েছেন তিনি, গত বছর ভিত্তিমূল্যেই বিক্রি হয়েছেন। এখন এসেছেন ক্রিকেটের গুরুত্ব আর একজন খেলোয়াড়ের ওপর টাকার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে।’ আইপিএল ইউজার নামের এক ব্যবহারকারীর চোখে স্টেইনের এমন মন্তব্য ‘মাঝবয়সের ভীমরতি’।

তবে অনেকে স্টেইনের কথার পক্ষেও যুক্তি-প্রমাণ তুলে ধরেছেন। এর আগেও আইপিএলের মাঠের বাইরের বাড়াবাড়ি নিয়ে নিজের বিরক্তি জানিয়েছিলেন স্টেইন। ইঞ্জিনিয়ার আদিল মুস্তাফা নামের একজন তেমন তিনটি স্ক্রিনশট তুলে ধরেন।

যেখানে দেখা যায়, ২০১১ সালে এক টুইটে স্টেইন লিখেছিলেন, ‘আবার এল আইপিএল! অনেক রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান, এরপর সকাল আটটায় ফটোশুট, আর তিন ঘণ্টার ঘুম...জঘন্য।’ ২০১৪ সালে আবার লিখেছেন, ‘আরেকটা ফটোশুট! আইপিএলে আমি ক্রিকেটার না মডেল হয়ে এসেছি, সেই প্রশ্ন জাগছে।’

সে যা-ই হোক, নিজের মন্তব্যের এমন প্রতিক্রিয়া দেখে এখন পিছু হটে এসেছেন স্টেইন। আইপিএলকে অপমান করতে চাননি বলে জানিয়েছেন। ‘আমার ক্যারিয়ারে আইপিএল দারুণ কিছুই ছিল সব সময়। অন্য অনেকের ক্যারিয়ারেও। আমার কথাগুলো কখনোই কোনো লিগকে ছোট করে দেখানো, অপমান করা কিংবা অন্য লিগের সঙ্গে তুলনা করার জন্য বলিনি’—টুইটারে লিখেছেন স্টেইন।

তাঁর মন্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলেও দাবি দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলারের, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন কোনো কথাকে উল্টোভাবে দেখা হয়, তখন এমন (বিতর্ক) হতেই পারে। কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি মাফ চাইছি।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন