default-image

নিশ্চিত নয় পরের বিশ্বকাপ। তাদের বাদ দিতে আইসিসির ‘চেষ্টার’ কমতি নেই। ‘বড়’দের একপেশে লড়াইয়ে বিশ্বকাপ যখন ম্যাড়মেড়ে ঠেকছে, দুই ‘পুঁচকে’ তখন উপহার দিল একটা রোমাঞ্চকর লড়াই। ব্রিসবেনে আয়ারল্যান্ড ও আরব আমিরাতের ম্যাচ রং বদলাল ক্ষণে ক্ষণে।
আর্দ্র উইকেটে ফিল্ডিং নিলেন আইরিশ অধিনায়ক, ৪৯ রান পর্যন্ত উইকেটের দেখা নেই। পরের ২৯ রানেই অবশ্য ৪ উইকেট খোয়াল আমিরাত। এরপর ৬ রানের ব্যবধানে আবার জোড়া ধাক্কা। সপ্তম উইকেটে শাইমান আনোয়ার ও আমজাদ জাভেদের ৭১ বলে ১০৭ রানের জুটিতে ২০০ পেরোল আমিরাত। বিশ্বকাপে এসেই আনোয়ার পেলেন তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। ১০ চার ও এক ছয়ে ৮৩ বলে ১০৬ রান। শেষ ২৩ বলে এল ৪০, আমিরাতের রান ২৭৯।
আগের ম্যাচে ৩০৪ রান তাড়া করা আইরিশদের প্রথম ধাক্কাটা দিলেন মঞ্জুলা গুরুগে, স্কোরবোর্ডে ৪ রান উঠতেই আগের ম্যাচের নায়ক স্টার্লিং আউট। এড জয়েস ও অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ৬৮ রানের জুটিতে একটু ধাতস্থ আইরিশ ইনিংস। জয়েস একবার বেঁচে গেলেন অদ্ভুতভাবে। আমজাদ জাভেদের বল জয়েসের স্টাম্পে লাগল, বেল উঠে এলইডির ঝলকানিও দেখা গেল। জয়েস নড়লেন না, বেল যে আবার বসে গেছে স্টাম্পে!
জয়েস, পোর্টারফিল্ড, নিয়াল ও’ব্রায়েন—আইরিশ মিডল অর্ডারের তিন স্তম্ভ ফিরলেন ২৫ রানের মধ্যে। আইরিশদের টেনে নিয়ে গেলেন গ্যারি উইলসন (৬৯ বলে ৮০)। অ্যান্ডি বালবার্নির সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি যখন ভাঙল, প্রতি ওভারে সাড়ে নয়ের ওপর রান দরকার তখনো। তখনই মঞ্চে আবির্ভাব কেভিন ও’ব্রায়েনের। গত বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে বধ হয়েছিল ইংল্যান্ড। ২৫ বলে ৫০ রানের ইনিংসটিকে হয়তো বেঙ্গালুরুর সঙ্গে মেলানো যাবে না, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এর মাহাত্ম্যও কম নয়। ৪৫তম ওভারে এক্সট্রা কাভারে যখন ক্যাচ দিলেন, জয় আইরিশদের হাতের নাগালে। নাটক বাকি তখনো, জন মুনিকে ফেরালেন আমজাদ জাভেদ। জাভেদই শর্ট থার্ডম্যানে অসাধারণ ক্যাচ বানালেন উইলসনকে। তীরে এসেও তরি ডোবার আশঙ্কা তখন আইরিশদের। তবে শেষ পর্যন্ত ৪ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নিল ২ উইকেটে।
ক্যাচ মিস, সেন্টিমিটার ব্যবধানে রিভিউ বিপক্ষে যাওয়া, বেল উঠে গিয়েও বসে যাওয়া। ম্যাচের প্রতীকী হয়ে থাকল এসবই। রোমাঞ্চকর নাটক, যেখানে আমিরাত পরাজিত এক চরিত্রের নাম! স্টার স্পোর্টস, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন