default-image

অঘটন? শব্দটা ব্যবহার করার আগে আরেকবার ভাবুন। যে শব্দটা আইরিশদের জন্য হতে পারত গর্বের, সেই শব্দটাকে তো তারা নিজেরাই বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছে। বলছে, ‘অন্তত আজকের ম্যাচটিকে অঘটন বলবেন না, প্লিজ।’ বলাটা কঠিনও। হতে পারে তারা তিন শর বেশি রান তাড়া করে জিতেছে। কিন্তু জয়টি একেবারে আকস্মিক ছিল না, অপ্রত্যাশিত ছিল না। শুরু থেকেই তাদের ব্যাটিং দেখে একবারও মনে হয়নি, ম্যাচটা তারা হারতে পারে। হয়েছেও তা-ই। ৪ উইকেট, সবচেয়ে বড় কথা, ৩০৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে ২৫ বল হাতে রেখেই!

শুধু আজকের ম্যাচের জন্য নয়, ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের উত্থানটা ধারাবাহিক। চোখে পড়ার মতো। মাত্র আট বছর আগে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিল তারা। এটি তাদের মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপ। কিন্তু এরই মধ্যে আইরিশ-রূপকথার আয়তনটা বেশ বড়সড়ই। আয়ারল্যান্ড মানেই যেন এখন চমক।
অথচ আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট ইউনিয়ন আইসিসির সদস্যপদ পেয়েছে খুব বেশি দিন হয়নি। ১৯৯৩ সালে। সেটাও পূর্ণাঙ্গ নয়, সহযোগী দেশ হিসেবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবির্ভাব ২০০৭-এর আসরে। আর সেই আসরেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে হারিয়ে তাদের ‘চমক’-উপাখ্যানের শুরু। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই চলে গিয়েছিল সুপার এইটে। সুপার এইটে আরেক টেস্ট খেলুড়ে দেশ বাংলাদেশকে বধ করে তারা।
গতবার বেঙ্গালুরুর মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়, সেটিও তিন শ রান তাড়া করে। কেভিন ও’ব্রায়ান গড়েছিলেন বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আজ কেউ সেঞ্চুরি না করলেও আবারও তিন শ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতল তারা।
একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিন শতাধিক রান তাড়া করে ম্যাচ জেতা হয়তো এখন অনেকটাই ডাল-ভাত। তবে বিশ্বকাপে তিন শর বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল মাত্র চারটি। আজকের ম্যাচটি সেই তালিকায় যুক্ত হলো পঞ্চম ম্যাচ হিসেবে। আইরিশদের জন্য গর্বের বিষয় হলো এর তিনটি কীর্তিই তাদের। গত আসরে ৩০১ রান করে ইংল্যান্ড-বধের পর গ্রুপ পর্বের অপর আরেকটি ম্যাচে হল্যান্ডকে হারায় তারা। হল্যান্ড লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিল ৩০৭ রানের। ম্যাচটা তারা জিতেছিল ৬ উইকেটে।
আজকের ম্যাচটি এবারের আসরের জন্যেও একটু আলাদারকম গুরুত্ব বহন করে। গত দুই দিনের চারটি ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করা প্রতিটি দলই টপকেছিল ৩০০ রানের ফলক। যে রান তাড়া করে জিততে পারেনি কেউই। আয়ারল্যান্ডই প্রথম পরে ব্যাট করে তিন শ রান তাড়া করে কেড়ে নিল ক্যারিবীয়দের মুখের গ্রাস। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই জয়কে ‘অঘটন’ মানতে নারাজ খোদ আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। সঙ্গে একমত হওয়ার লোকের সংখ্যাই এখন বাড়ছে। নিয়মিতই টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোকে নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছে অপেক্ষাকৃত নবিশ এই দলটি। আইরিশরা তো বাংলাদেশের রীতিমতো যম হয়ে উঠেছে। সেদিন প্রস্তুতি ম্যাচেও হারিয়েছে।
ইংল্যান্ড দলও মাঝেমধ্যেই ক্রিকেট প্রতিভার জন্য হাত পাতছে আইরিশদের কাছে। শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ অধিনায়কই তো একজন আইরিশ!
এই বিশ্বকাপটা আইরিশরা নিয়েছে তাদের টেস্ট স্ট্যাটাসের দাবি জোরাল করতে। এভাবে চমক অব্যাহত থাকলে আইসিসিকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে বৈকি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন