বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কিন্তু সেই মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে মুমিনুলের ব্যাটিং-বোলিংই সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের তালিকায় ঠাঁই পাওয়ায় হয়তো গর্ব হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। সেরা পাঁচ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের তালিকায় রবীন্দ্র জাদেজা, ম্যাট হেনরি, শার্দূল ঠাকুর ও কেশব মহারাজের পর যে মুমিনুলের নামও আছে।

রবীন্দ্র জাদেজা

সবার ওপরে আছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের রবীন্দ্র জাদেজার চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স। মোহালিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৭৫ রানের ইনিংসের পাশাপাশি বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ম্যাচে ১৫০ রান আর ৫ উইকেটের কীর্তিতেই তিনি ষষ্ঠ, আর এক উইকেট পেলে ১৫০ রান আর ১০ উইকেটের প্রথম কীর্তিও গড়া হয়ে যেত জাদেজার। ভারত ম্যাচটা জিতেছে ইনিংস ও ২২২ রানে।

ম্যাট হেনরি

ক্রাইস্টচার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে জায়গা পেলেন ট্রেন্ট বোল্টের চোটের কারণে। তাতেই বাজিমাত! কন্ডিশনের সুযোগ নিয়ে সুইং আর বাউন্সে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ উইকেট হেনরির, ইনিংসে ২৩ রানে পেলেন ৭ উইকেট। এরপর ব্যাট হাতেও ১১ নম্বরে নেমে ৬৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংস হেনরির ব্যাটে। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস ও ২৭৬ রানে জয়ের পথে দ্বিতীয় ইনিংসে হেনরি বল হাতে পেলেন আরও ২ উইকেট।

শার্দূল ঠাকুর

ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টেস্টে যেন টি-টোয়েন্টির ইনিংস খেললেন শার্দূল, ৩৬ বলে তাঁর ৫৭ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। মাত্র ৩১ বলেই অর্ধশতক পেয়েছেন শার্দূল, তাতে ইয়ান বোথামের রেকর্ড ভেঙে গড়েছেন ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে দ্রুততম ফিফটির নতুন রেকর্ড। বোথামের রেকর্ডটি ছিল ৩২ বলের।

default-image

অত বিধ্বংসী না হলেও দ্বিতীয় ইনিংসেও আরেকটা অর্ধশতক শার্দূলের ব্যাটে। কিন্তু সেখানেই থামলে তো! ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ওলি পোপের সঙ্গে (৮১) দ্বিতীয় ইনিংসে দুই সেট ব্যাটসম্যান জো রুট (৩৬) ও ররি বার্নসকে (৫০) ফিরিয়েছেন শার্দূল, ভারত ম্যাচ জেতে ১৫৭ রানে।

কেশব মহারাজ

বাংলাদেশের বিপক্ষে সম্প্রতি শেষ হওয়া সিরিজটা তো পুরোটাই মহারাজের। দুই টেস্টেই ইনিংসে ৭টি করে উইকেট নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান বাঁহাতি স্পিনার, এর মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট হাতেও দেখা গেল মহারাজের দাপট। আট নম্বরে নেমে ৯৫ বলে ৮৪ রানের ইনিংসের পর চতুর্থ ইনিংসে ৪০ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়েছেন তিনিই। ম্যাচে তাঁর ৯ উইকেটই দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৩২ রানে জয়ের পথ সহজ করেছে।

মুমিনুল হক

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট তো বটেই, সব সংস্করণ মিলিয়ে ৩৩তম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম জয়। সেটিতে অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে কী দারুণভাবেই না নেতৃত্ব দিলেন মুমিনুল হক! প্রথম ইনিংসে মুমিনুলের ২৪৪ বলে ৮৮ রান বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছে। এতটুকুই মুমিনুলকে আলাদা করে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু বল হাতে আগেই নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে দারুণ ধাক্কা দিয়েছেন মুমিনুল। উইকেট মাত্র দুটি পেয়েছেন, কিন্তু সে দুটিই ওই মুহূর্তে ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—১২২ রান করে ফেলা ডেভন কনওয়ে ও ৭৫ রান করা হেনরি নিকোলস। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত হওয়ার সময়ে যে মুমিনুলই ক্রিজে ছিলেন, সেটিই সম্ভবত সর্বাঙ্গসুন্দর সমাপ্তি।

default-image

মুমিনুলকে নিয়ে অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের এই তালিকা প্রকাশের আগে আইসিসির প্রকাশিত তালিকাগুলো বাংলাদেশের জন্য ছিল যন্ত্রণার নাম। কাল প্রকাশিত হয়েছে আইসিসির চোখে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সবচেয়ে বড় অঘটনের তালিকা, সেখানে সবার ওপরেই ছিল মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে বাংলাদেশের জয়! এর বাইরে ছিল কিংস্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১ উইকেটের জয় আর ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হেরেও পরের দুই টেস্টে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয়।

এর আগে ব্যাটিং আর বোলিংয়ের তালিকাও বাংলাদেশের জন্য যন্ত্রণা হয়েই এসেছে। ব্যাটিংয়ে যেমন, ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে নিউজিল্যান্ডের টম ল্যাথামের ২৫২ জায়গা পেল সবার শুরুতে। এরপর ছিল করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানকে ড্র এনে দেওয়া বাবর আজমের ১৯৬, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই রাওয়ালপিন্ডিতে আজহার আলীর ১৮৫, লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে জো রুটের অপরাজিত ১৮০ আর মোহালিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রবীন্দ্র জাদেজার অপরাজিত ১৭৫।

বোলিংয়ে সেরা পাঁচের তিনটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে—মিরপুরে সাজিদ খানের ৪২ রানে ৮ উইকেট, ডারবানে কেশব মহারাজের ৩২ রানে ৭ উইকেট, পোর্ট এলিজাবেথে মহারাজেরই ৪০ রানে ৭ উইকেট। এর বাইরে তালিকায় স্থান পেয়েছে ক্রাইস্টচার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাট হেনরির সেই ২৩ রানে ৭ উইকেটের স্পেল। তবে এসব ছাপিয়ে সবার ওপরে কোনটি জায়গা পেয়েছে, তা নিশ্চয়ই অনুমান করতে কষ্ট হয় না—মুম্বাইয়ে ভারতের বিপক্ষে অ্যাজাজ প্যাটেলের ১১৯ রানে ১০ উইকেট!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন