ঘরের মাঠে ভারতকে বড় হারের স্বাদ দিল ইংল্যান্ড।
ঘরের মাঠে ভারতকে বড় হারের স্বাদ দিল ইংল্যান্ড।ছবি: বিসিসিআই

৫৬তম ওভারের শেষ বল। জ্যাক লিচের বলটা যেভাবে ঠেকালেন যশপ্রীত বুমরা, তাতে মনে হলো বলটাকে উইকেটে গেঁথে ফেলার ইচ্ছা তাঁর। চেন্নাইয়ের পঞ্চম দিনের উইকেটে বল যেভাবে ব্যাটে লেগে এদিক-ওদিক যাচ্ছিল, কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না ভারতের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান।

চেন্নাইয়ের উইকেটে পঞ্চম দিনে স্পিনারদেরই দাপট দেখানোর কথা। সেটা তাঁরা দেখিয়েছেনও। ডম বেসের বল দুর্দান্ত বাঁক নিয়েছে। জ্যাক লিচের বল অপ্রত্যাশিত বাঁক ও বাউন্সে বিভ্রান্ত করেছে ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু শেষ দিনের নায়ক ইংল্যান্ডের পেসাররা। জেমস অ্যান্ডারসনের এক স্পেলই ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দিয়েছে। আর ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়েছেন বেন স্টোকস।

৪২০ রান তাড়া করতে নামা ভারত আজ অর্ধেক দিনও পার করতে পারেনি। মধ্যাহ্নবিরতির একটু পরই গুটিয়ে গেছে ১৯২ রানে। ২২৭ রানের এ হার ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় হার ভারতের। শেষ দিনে পাঁচ উইকেটই ইংলিশ পেসারদের।

default-image
বিজ্ঞাপন

দিনের খেলা শুরু হওয়ার আগে আলোচনা, ভারত কি বিশ্ব রেকর্ড গড়া পথে ছুটবে? শেষ দিনের উইকেটে ৩৮১ রান নিতে হতো ভারতের। কিছুদিন আগে ব্রিসবেনেই দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে ভারত। পরশুই এশিয়ার মাটিতে রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিরাট কোহলি–সমৃদ্ধ দল সে চেষ্টা করতেই পারে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রায় দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে জেতা ভারতের এই টেস্টে আত্মবিশ্বাস যে ছিল আকাশে।

শেষ দিনে রান তাড়ার লক্ষ্যে একজনকে একপ্রান্ত ধরে রাখতে হয়, অন্যপ্রান্তে তুলনামূলক আক্রমণাত্মক খেলেন অন্যরা। ব্রিসবেনে সে দায়িত্ব ছিল চেতেশ্বর পূজারার। চট্টগ্রামে এনক্রুমা বোনারের। আজও পূজারা সে দায়িত্ব নেবেন বলে জানা ছিল। একদিকে স্বতঃস্ফূর্ত ছন্দে এগোচ্ছিলেন শুভমান গিল, কিন্তু লিচের বাড়তি বাঁক ও বাউন্সের এক বলে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে গেলেন পূজারা। রান তাড়া করার আদি পরিকল্পনা তাই ছুড়ে ফেলতে হলো।

বিরাট কোহলি ও গিল মিলে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা শুরু করলেন। দিনের প্রথম ১৩ ওভারে এসেছে ৫৩ রান। এরপর বল হাতে পেলেন অ্যান্ডারসন। আর ম্যাচের সমীকরণ বদলে গেল। নিজের প্রথম পাঁচ বলে দারুণ তিনটি রিভার্স সুইং। আর তাতেই গিল ও অজিঙ্কা রাহানে নেই। একটু পর ঋষভ পন্তকেও ফিরিয়ে দিলেন অ্যান্ডারসন। ১১০ রানে ৫ উইকেট হারানো ভারতের তখন ম্যাচ বাঁচানোর চিন্তা। প্রথম ইনিংসে একটুর জন্য সেঞ্চুরির দেখা না পাওয়া ওয়াশিংটন সুন্দরও ফিরলেন ৭ রান পরে।

৫১ বলে ৪৫ রান করে মধ্যাহ্নবিরতিতে গেলেন কোহলি। তাঁর সঙ্গী রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ২০১০ সালের আহমেদাবাদ টেস্টের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন কেউ কেউ। ১৫ রানে ৫ উইকেট হারানো ভারতকে ভিভিএস লক্ষণ ও হরভজন সিং কীভাবে রক্ষা করেছিলেন, সে গল্পও আলোচনায় এল। কিন্তু লক্ষণের মতো স্থিতধী হতে পারেননি কোহলি, অশ্বিনও পারেননি হরভজনের মতো সেঞ্চুরি করতে। বিরতির পর আগের চেয়ে রক্ষণাত্মক হয়েছেন কোহলি। কিন্তু লিচ অন্যপ্রান্তে তুলে নিলেন অশ্বিনকে। ৫৪ রানের এই জুটি ভাঙার কিছুক্ষণ পরই ফিরেছেন কোহলি। উইকেটের ভাঙা অংশে পড়ে স্টোকসের একটি বল আচমকা ভেতরে ঢুকে যায়। চেষ্টা করেও স্টাম্প রক্ষা করতে পারেননি কোহলি। ১৭৯ রানে কোহলি বিদায় নিলেন ৭২ রানে। স্কোর সেখানে রেখেই গেলেন শাহবাজ নাদিমও।

বুমরা লিচকে কোনোমতে সামলাতে পারলেও আর্চারের গতির সামনে বেশিক্ষণ টেকেননি। সম্ভাব্য হারটা শুধু ১৩ রান ও মিনিট দশেক পিছিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন