রঙ্গমঞ্চে সবার দৃষ্টি থাকে মূল কুশীলবদের ওপর, মানুষ গাঁটের পয়সা খরচ করে টিকিট কাটে তাদেরই দেখার জন্যই। কিন্তু সেই তারকাদের আড়াল করে যদি পার্শ্বচরিত্ররা অনেকটুকু আলো কেড়ে নেন? এই বিশ্বকাপ যেন সেটিরই আদর্শ বিজ্ঞাপন। আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তানের মতো সহযোগী দেশগুলোই বিশ্বকাপ-রোমাঞ্চের পেয়ালা অনেকখানি ভরে দিয়েছে। তাই আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপ কটি দলকে নিয়ে হবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যেন দেরি হচ্ছে আইসিসির। বিশ্বকাপে দল কমিয়ে দিলে ক্রিকেট-উন্নয়নও যে বাধাগ্রস্ত হবে—আইসিসি এটিও মাথায় না রেখে পারছে না।
২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ১৪ থেকে কমিয়ে দশে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে আইসিসি। বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে দেশগুলো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকবে তারা সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। আর বাকি দুটি দেশকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসতে হবে। এখন পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ের যে অবস্থা, তাতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে বাছাইপর্ব খেলতে হবে। আর সহযোগী দেশগুলোর বিশ্বকাপ খেলার দরজা প্রায় বন্ধই হয়ে যাচ্ছে।
তবে আইসিসি প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন দাবি করছেন, এখনো কিছু নিশ্চিত হয়নি, ‘আমি নিশ্চিত করে কিন্তু কিছুই বলিনি। আমি নিশ্চিত, এই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর পরেরটির ফরম্যাট নিয়ে কথা হবে।’ রিচার্ডসন অবশ্য এক অর্থে কথাটা বলতে বাধ্যই হয়েছেন। টানা তিন বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড কোনো টেস্ট দলকে হারাল। ২০০৭ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড হারায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে। এবার হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। পরশুর আফগানিস্তান-স্কটল্যান্ড ম্যাচটি তো চলমান বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচ। আরেক ছোট দল সংযুক্ত আরব আমিরাতও বিনা প্রতিরোধে হারছে না। রিচার্ডসন ছোট দলগুলোর এমন পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ না করে পারছেন না, ‘এখন পর্যন্ত বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা দলগুলোর পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট। টুর্নামেন্টের আগে আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল এটা জমজমাট হবে কি না। এখন আমরা অনেকটাই নির্ভার। তবে ওদের বড় পরীক্ষা এখনো আসেনি।’
তবে ১০ দলের বিশ্বকাপ যে আইসিসির মাথায় ভালোভাবেই ক্রিয়াশীল, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার, ‘প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বকাপকে আমি কেমন দেখতে চাই? আমি কি বিশ্ব ক্রিকেটের মহাসম্মেলন চাই, নাকি ওয়ানডে ক্রিকেটের সেরা প্রদর্শনী দেখতে চাই। এই বিশ্বকাপের আগে ফরম্যাট নিয়ে অনেক রকম সমালোচনা চলছিল যে, গ্রুপ পর্ব বেশি লম্বা হয়ে যাচ্ছে কি না, বা সবাই যে আটটি দলকে ভেবেছেন, সেগুলোই কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে।’ রিচার্ডসন অবশ্য ১৯৯২ বিশ্বকাপের ফরম্যাটকেই সেরা ভাবেন, ‘সেরা ফরম্যাট ছিল ১৯৯২টির। নয়টা দলের নিজেদের মধ্যে খেলার পর সেমিফাইনাল, প্রতিটি ম্যাচেই কিছু না কিছু পাওয়ার ছিল।’
এর মধ্যেই অবশ্য আইসিসির ২০১৫ বিশ্বকাপ পরিকল্পনা সমালোচনার মুখে পড়ে গেছে। আয়ারল্যান্ড ব্যাটসম্যান এড জয়েস তো বলে দিয়েছেন, এমনটা হলে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটই সংকটে পড়বে, ‘বিশ্বকাপ ১০ দলের হলে আইরিশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েই আমার শঙ্কা জাগে। আইসিসি চার বছর আমাদের বিশ্বকাপে সুযোগ দিয়ে বলে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে হবে। অথচ আমরা এর মাঝে যথেষ্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই না। বলা হচ্ছে বিশ্বকাপটা অনেক লম্বা হবে, কিন্তু ২০১৯ সালে এখনকার চেয়ে আরও দুটি ম্যাচ বেশি হবে।’ এএফপি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন