আজই কি দক্ষিণ আফ্রিকা জয়?

আজও সাকিবের পারফরম্যান্সে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশছবি: এএফপি

ইম্পেরিয়াল ওয়ান্ডারার্সের ম্যাচের আগেও পরিস্থিতিটা ঠিক এ রকমই ছিল। জিতলেই সিরিজ জিতে যাবে বাংলাদেশ দল। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াল অসমান বাউন্সে ব্যাটসম্যানদের হোঁচট খেয়ে পড়া। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়ের অপেক্ষা তাতে আর সেদিনই ফুরাল না।

প্রথম ম্যাচটা জিতে থাকায় আজও ঠিক সেই একই রকম পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দল—জিতলেই সিরিজ জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে বাংলাদেশ কখনো সিরিজ জেতেনি বলে ‘সিরিজ জয়’ শব্দ দুটির আগে চাইলে ‘ঐতিহাসিক’ শব্দটাও বসিয়ে দিতে পারেন। বাংলাদেশ আজ সিরিজ জিতে গেলে সেটি একটা ইতিহাস তো হবেই।

সিরিজের শেষ ম্যাচটাও প্রথম ম্যাচের ভেন্যু সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্ট পার্কে। উইকেট নিয়ে দুশ্চিন্তাটা সে কারণেই একটু কম। এ মাঠের গতিময় উইকেটের সুষম বাউন্স আগের ম্যাচে বাংলাদেশকে উপাদেয় ব্যাটিংয়ের স্বাদই দিয়েছে। ১–১ সমতায় থাকা সিরিজেও প্রথম ম্যাচের সুখস্মৃতির সৌজন্যে আজ কিছুটা এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর উইকেট নিয়ে চিন্তাটাও যে এ মাঠে কম, সেটি কাল নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কথায়ও পরিষ্কার, ‘এখানে (সেঞ্চুরিয়ন) বাউন্স অতটা অসমান হয় না। এক ধরনের বাউন্স থাকলে সমস্যা নেই, দুই রকম হলেই সমস্যা। আশা করি, ওয়ান্ডারার্সের চেয়ে ভালো উইকেট হবে এখানে। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রথম ম্যাচের মতো শুরুতে উইকেট না হারাতে।’

সেঞ্চুরিয়নের উইকেটে প্রথম ম্যাচে দারুণ ব্যাট করেন সাকিব
ছবি: এএফপি

তা মাঠের উইকেট না হয় ভালো হলো, বাংলাদেশ দলের মনের উইকেটের কী অবস্থা, সেটাও একটা প্রশ্ন। সাকিব আল হাসানের পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতার খবরে একটা বিমর্ষ ছায়া তো দলের ওপর পড়েছেই। সাকিব যদিও ব্যক্তিগত সমস্যাকে ব্যক্তিগতই রেখে দলের সঙ্গে সবভাবে মিশে আছেন। তবু এ রকম পরিস্থিতিতে মনটাকে শুধু খেলার বৃত্তে আটকে রাখা কঠিন বৈকি।

দলের জন্য যেমন কঠিন এই ম্যাচকে উপলক্ষ করে সামনে আসা বড় কিছুর সম্ভাবনাটাকে মাথা থেকে সরিয়ে রাখা। হ্যাঁ, সিরিজ জয়ের ম্যাচ বলে কথা। যেটা শুরুতেই বলা হলো, উপলক্ষটা আগের ম্যাচেও বাংলাদেশের সামনে এসেছিল। কিন্তু সিরিজ জয়ের আনন্দে সেদিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওয়ান্ডারার্সের উইকেট। সেঞ্চুরিয়নের উইকেট সে রকম হবে না বলে যে আশার কথা বলেছেন হাবিবুল, সেটি দলের কাছে বড় কিছুর প্রত্যাশাও দিচ্ছে বাড়িয়ে। এ ম্যাচের আগে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা যে রকম একটা প্রেরণা, একইভাবে সেই সম্ভাবনা দলের ওপর তুলে দিচ্ছে প্রত্যাশার চাপও।

সেঞ্চুরিয়নে সুষম বাউন্সের স্বদব্যহার করেছেন লিটন
ছবি: এএফপি

কাজেই বড় কিছু করার প্রেরণা এবং প্রত্যাশার চাপ, আজকের ম্যাচের আগে এই দুটি আবরণেই মুড়ে থাকছে তামিম ইকবালের দল। হাবিবুল অবশ্য দুটিকেই স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন, ‘চাপ ও প্রেরণা দুটিই আছে। প্রেরণা থাকলেই কিন্তু চাপ তৈরি হয়। প্রেরণা না থাকলে চাপ আসে না। অবশ্যই এ ম্যাচে আমরা কিছুটা চাপে থাকব। কারণ, আমরা চাই ভালো কিছু করে সিরিজটা জিততে।’

অথচ সফরে আসার আগে সিরিজ জয় দূরের কথা, বাংলাদেশ এখানে পূর্ণশক্তির দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে কোনো ওয়ানডে জিতবে, সেটাই কেউ কল্পনা করেনি। সেখানে এখন শেষ ম্যাচের আগে হাবিবুল বলতে পারছেন, ‘সিরিজ জয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচ জয়ের পর থেকেই আমরা চাচ্ছি যেন সিরিজটা জিততে পারি।’

ইয়াসির আলীর ব্যাট থেকেও প্রথম ম্যাচে রান পেয়েছে বাংলাদেশ
ছবি: এএফপি

এ ম্যাচের আগে দলের সবার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলে হয়তো হাবিবুলের কথার প্রতিধ্বনি শোনা যেত তাঁদের কণ্ঠেও। প্রথম ম্যাচটা জেতার পর সবার শরীরী ভাষায়ই একটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যেটার ছাপ পড়েছিল ওয়ান্ডারার্সের হেরে যাওয়া ম্যাচেও। ৩৪ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৯৫ রানের লক্ষ্য তো দিতে পেরেছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো কঠিন মেনেও তাই বাংলাদেশ এই বিশ্বাসটা হারাতে চায় না যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাঠেও সম্ভব সিরিজ জেতা। কাজটা কঠিন, কিন্তু সেই কঠিনকে জয় করার চ্যালেঞ্জই আজ নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। সেই সুরটা খুঁজে পেতে পারেন কাল মেহেদী হাসান মিরাজের কথায়ও, ‘আমাদের এখনো সুযোগ আছে সিরিজ জয়ের। আমরা সবাই যদি ভালো ক্রিকেট খেলি, তাহলে জিততে পারি। ওইভাবেই আমরা চেষ্টা করব সবাই।’

প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেট নেন মিরাজ
ছবি: এএফপি

সাকিবের পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা বাদ দিলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এখন পর্যন্ত আর কোনো খারাপ খবর নেই। বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের হালকা চোট থাকলেও তিনিসহ দলের সবাই–ই আছেন খেলার মতো অবস্থায়। সেরা একাদশ বেছে নিতে কোনো সমস্যা নেই টিম ম্যানেজমেন্টের। উল্টো স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলই ভুগছে চোটে। হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার কারণে আজকের ম্যাচ থেকে যেমন ছিটকে গেছেন ওয়েইন পারনেল। মার্কো ইয়ানসেন দলে আসতে পারেন তাঁর জায়গায়। হাতে চোট আছে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমারও, তবে তিনি খেলার মতো ফিট।

এসব চোট–আঘাতের চেয়েও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ঘরের মাঠে সিরিজ হার এড়ানো। আইপিএলের জন্য মূল খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেওয়ার পর তাদের টেস্ট দলটা এমনিতেই হয়ে পড়েছে নড়বড়ে। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে আজ ওয়ানডে সিরিজের শেষটাও যদি অঘটন দিয়ে হয়, সেই বিপর্যয়ের রেশ নিশ্চয়ই থেকে যাবে লাল বলের ক্রিকেটেও।

প্রেরণা ও চাপ—দুটোকেই সঙ্গী করে বাংলাদেশ অবশ্য সেটাই চাইছে।