আজহারের হাত থেকে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব যাবে বাবরের হাতে?
আজহারের হাত থেকে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব যাবে বাবরের হাতে?ছবি: আইসিসি টুইটার

অবশেষে নিজের অধিনায়কত্ব হারানোর গুঞ্জনে মুখ খুললেন আজহার আলি।

পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক আজহারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কদিন আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান। ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডে সফরের কথা রয়েছে পাকিস্তান দলের। এর আগে পাকিস্তান দেশের মাটিতে খেলছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আজ দুপুরে রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামে শুরু সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পরই হয়তো নিউজিল্যান্ড সফরের দল চূড়ান্ত করবে পিসিবি।

কিন্তু এর আগেই গুঞ্জন, আজহারী আলীকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব থেকে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পর টেস্ট অধিনায়কত্বও দেওয়া হতে পারে বাবর আজমকে। কিন্তু পুরো ব্যাপারটাকে গুঞ্জন বলে দাবি করলেন আজহার।

বিজ্ঞাপন

করাচিতে এক ভাচু‌র্য়াল সংবাদ সম্মেলনে আজহার বলেন, ‘পিসিবি আমার সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে এখনো কোনো কথা বলেনি এবং আমিও এসব গুঞ্জন সংবাদমাধ্যম থেকেই জেনেছি। তাই এখনই এসব নিয়ে কথা বলার মতো কোনো অবস্থা আসেনি।’

পুরো বিষয়টিকে গুঞ্জনই বলছেন আজহার, ‘যেহেতু এই বিষয় নিয়ে কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেনি তাই আমি মনে করি এটা শুধুই গুঞ্জন। এছাড়া আর কিছু না।’ আপাতত ক্রিকেটেই মনোযোগ দিতে চান আজহার, ‘এসব নিয়ে ভাবার কোনো অর্থই হয় না। আমি এখন প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়েই ভাবছি। যখন আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ এসব বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলবে তখনই আমি এই প্রসঙ্গে কিছু বলব।’

গত বছর অক্টোবরে আজহার টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদের কাছ থেকে। এরপর আজহারের নেতৃত্বে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছে পাকিস্তান। আজহারের অধিনায়কত্বে পাকিস্তান আট টেস্টের দুটিতে জিতেছে। ড্র করেছে তিন ম্যাচ, হার তিনটি।

তবে আজহারের অধিনায়কত্ব আতশি কাচের নিচে পড়ার কারণ যতটা না মাঠের পারফরম্যান্স, তার চেয়েও বেশি মাঠের বাইরের একটা ঘটনার কারণে। পাশাপাশি ব্যাট হাতে তাঁর নিজের পারফরম্যান্সও ভালো নয়।

গত আগস্টে ইংল্যান্ড সফরে ব্যাট হাতে তাঁর পারফরম্যান্সের জন্য বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন আজহার। অবশ্য তিন টেস্ট সিরিজের শেষটিতে অপরাজিত ১৪১ রানের ইনিংসে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক, দলকে সে ম্যাচে এনে দিয়েছিলেন দারুণ ড্র। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে টেস্টে ১৭ ইনিংসে তাঁর সেঞ্চুরি দুটি, কোনো ফিফটি নেই।

শেষ পর্যন্ত সিরিজটা অবশ্য ১-০ ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। ওই সিরিজের পর পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ক্রিকেটারদের দিক থেকে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে আজহারের অধিনায়কত্ব।

বিজ্ঞাপন

আর বিতর্ক? আজহার আলী অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর কোচ মিসবাহ উল হকের সঙ্গে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পৃষ্ঠপোষক ইমরান, তাঁর কাছে নিজেদের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো বদল করার কথা বলেছিলেন মিসবাহ-আজহার। কিন্তু পিসিবিকে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ মোটেও ভালোভাবে নেয়নি সে দেশের ক্রিকেট কর্মকর্তারা।

ওই ঘটনায় বিব্রত পিসিবি কর্মকর্তারা পরে এই দুজনকে জরুরিভাবে ডেকে পাঠান পিসিবিতে। আর এই ঘটনা আজহার আলীকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।

কে জানে আজহার আলীর এমন ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার পরিণতি সত্যি সত্যি অধিনায়কত্ব হারিয়েই দিতে হয় কি না!

মন্তব্য পড়ুন 0