শচীন টেন্ডুলকার ও শোয়েব আখতার—ক্যারিয়ারে অনেক দারুণ লড়াইয়ের গল্প লিখেছেন।
শচীন টেন্ডুলকার ও শোয়েব আখতার—ক্যারিয়ারে অনেক দারুণ লড়াইয়ের গল্প লিখেছেন। ছবি: এএফপি

এই একটা ম্যাচ নিয়ে শোয়েব আখতারের কথা যেন ফুরায়ই না! এমন নয় যে ম্যাচটা পাকিস্তান জিতেছে, বা শোয়েব সেই ম্যাচে আহামরি কিছু করে ফেলেছেন। ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে একটা উইকেটই পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার, কিন্তু তার জন্য খরচ করে ফেলেন ৭২ রান। কিন্তু ওই একটা উইকেটই এমন যে, সেটির গল্প সম্ভবত বারবার করতে ইচ্ছে হয় শোয়েবের।

কোন ম্যাচের কথা বলা হচ্ছে? ২০০৩ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরিয়নে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের সেই ম্যাচটা। শচীন টেন্ডুলকারের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সেই ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত সেদিন টেন্ডুলকারকে ২ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছিল তাঁর গায়ের দিকে ধেয়ে আসা শোয়েবের এক বিষমাখা বাউন্সার। যে উইকেট পাওয়ার পর শোয়েবের উপলব্ধি হয়েছিল, মাঝে মাঝে যখন ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বোলিংয়ের কোনো কৌশলই কাজে আসে না, তখন ‘বডিলাইন বোলিং’ বা গায়ের দিকে তাক করেই মারতে হয়!

বিজ্ঞাপন

ওই ম্যাচের প্রসঙ্গটা এসেছে আখতারের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দুই বড় আক্ষেপের গল্পের সূত্র ধরে। যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই তো বিশ্বকাপ জেতা আজীবনের আরাধ্য একটা ব্যাপার। শোয়েব দুবার বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখেও ফিরেছেন খালি হাতে। এর মধ্যে একবার তো একেবারে ট্রফির কাছ থেকে—১৯৯৯ বিশ্বকাপে। সেবার দারুণ দাপটে ফাইনালে উঠেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণই করে পাকিস্তান। এরপর ২০০৩ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে ওই হারেই নিশ্চিত হয়ে যায়, গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিচ্ছে পাকিস্তান। দুটি বেদনার তুলনা হয় না। তবে কোনোটিরই কষ্ট কম নয়।

১৯৯৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার নাকি ২০০৩ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে—দুটির মধ্যে কোনটি বেশি কষ্ট দিয়েছে, ইউটিউব অনুষ্ঠান ক্রিকেট বাজে সে প্রশ্নে শোয়েবের উত্তর, ‘প্রত্যেকটা ম্যাচে হারেরই কষ্ট আছে। অবশ্যই ১৯৯৯-এর কষ্টটা বেশি ছিল। ২০০৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা তো গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ছিল।’

কোনো কিছু করেই ব্যাটসম্যানকে কাবু করতে না পার, সে ক্ষেত্রে মনে রাখবে, ব্যাটসম্যানের একটা শরীর আছে। ওটা ভাঙো
শোয়েব আখতার, সাবেক ফাস্ট বোলার

ভারত, পাকিস্তান, ২০০৩। শচীন টেন্ডুলকারের ৭৫ বলে ১২ চার ১ ছক্কায় ৯৮ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের ২৭৩ রান ৬ উইকেট ও ২৬ বল হাতে রেখেই ভারতের জিতে যাওয়া। ২০০৩ বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গেলে স্মৃতিগুলো তো ভাসেই। সে ম্যাচ নিয়ে শোয়েবের আফসোস, ‘আমার মনে হয়েছে, উইকেট বিবেচনায় আমাদের রানটা কম হয়ে গেছে। আমরা ২৫-৩০ রান কম করেছি। কারণ পিচ একেবারে পাটা ছিল। তবে ভারত ভালো খেলেছে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ভারত বলতে তো সেদিন লড়াইটা শেষ পর্যন্ত টেন্ডুলকারের সঙ্গে পাকিস্তানেরই হয়েছিল। শেষ দিকে রাহুল দ্রাবিড়ের অপরাজিত ৪৪ ও যুবরাজ সিংয়ের অপরাজিত ৫০ রান ভারতকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় বটে, কিন্তু সাঈদ আনোয়ারের ১০১ রানের দারুণ ইনিংসের জবাব ভারতের দিক থেকে এসেছিল তো টেন্ডুলকারের ব্যাটেই। রান তিনটি কম করেছেন বটে, কিন্তু ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তির ইনিংসের আগ্রাসন-শৌর্য চোখ ধাধিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত তাঁর বাউন্সারেই ইউনিস খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরা টেন্ডুলকারের প্রশংসাই করেছেন শোয়েব, ‘শচীন খুবই ভালো খেলেছে। ও ৯৮ রানে আমার বলে আউট হয়ে গেছে।’ ওই আউট থেকেই শোয়েবের উপলব্ধি, ‘ওই ম্যাচের পর বুঝেছি, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হলে বোলারের উচিত ব্যাটসম্যানের গায়ের দিকে বল করা। সেদিন আমার (আরও আগে থেকেই) ব্যাটসম্যানের গায়ের দিকে বল করা উচিত ছিল।’

বিজ্ঞাপন

শেষ পর্যন্ত তা করেই টেন্ডুলকারকে ফিরিয়েছেন। এই ‘বডিলাইন বোলিং’য়ের ঝুঁকিটাও বিশ্লেষণ করেছেন শোয়েব, ‘খুব বেশি হলে ওভারে হয়তো দুটি ছক্কা খেতাম। তাতে কী-ই বা হতো! তবু হয়তো একটা উইকেট পেয়ে যেতাম। দ্বিতীয় স্পেলে এসে টেন্ডুলকারের গায়ের দিকে মেরেই ওর উইকেট পেয়েছিলাম।’

এখান থেকে তরুণদের শিখতেও বলছেন শোয়েব, ‘(ম্যাচটা থেকে আমার শেখার)প্রক্রিয়াটার এই দিকটাই তরুণদের কাছে তুলে ধরতে চাইব। সেটা এই যে, যদি পিচে কিছু না থাকে, কোনো কিছু করেই ব্যাটসম্যানকে কাবু করতে না পার, সে ক্ষেত্রে মনে রাখবে, ব্যাটসম্যানের একটা শরীর আছে। ওটা ভাঙো।’

মন্তব্য পড়ুন 0