লিজেন্ড কাপ জিতে নিয়েছে ভারত।
লিজেন্ড কাপ জিতে নিয়েছে ভারত।ছবি: টুইটার

রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ শেষ হয়েছে গতকাল। কঠিন এই নাম অনেকের কাছেই অপরিচিত ঠেকতে পারে, বরং লিজেন্ড ক্রিকেট নামেই বেশি পরিচিত ছিল মহারাষ্ট্রের রায়পুরে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট। ছয় দেশের সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট সাড়া ফেলেছিল দারুণ। গ্যালারি ভরে উঠেছিল প্রতিদিন। পছন্দের ক্রিকেটারদের আবারও মাঠে চোখের সামনে দেখার লোভ সামলানো যে কঠিন।

কিংবদন্তিদের এই প্রতিযোগিতায় সময়কে বোকা বানানোর মতোই পারফরম্যান্স ছিল শচীন টেন্ডুলকার-ব্রায়ান লারাদের। এখনো আগের মতো চোখের পলকে সীমানায় বল আছড়ে ফেলেছেন বীরেন্দর শেবাগ। এখনো লারার পুল দেখে থমকে যেতে হয়েছে সবাইকে, সনাৎ জয়াসুরিয়ার আপার কাট এখনো বিংশ শতাব্দীর শুরুর স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। আর তাঁদের মধ্যে যুবরাজ সিং যেন জ্বলেছেন আরও উজ্জ্বল হয়ে।

কাল ফাইনালে ঝড় তুলেছেন যুবরাজ। তাঁর ঝড় দেখে খুদে এক ভক্তের আনন্দের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা দেখেছেন যুবরাজ নিজেই। ভক্তকে ভালোবাসা জানিয়ে সতর্কও করে দিয়েছেন, বলে দিয়েছেন এই মহামারির সময় মাস্ক মুখে রাখতে।

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশ, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে আয়োজিত লিজেন্ড ক্রিকেট ধারণার চেয়েও বেশি সাড়া ফেলেছে। ফেলবে নাই-বা কেন! মাঠে টেন্ডুলকার, জয়াসুরিয়া, লারা, কেভিন পিটারসেন, শেবাগরা এখনো যে ঝড় তুলতে জানেন। জন্টি রোডস এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলে দিতে পারেন এ প্রজন্মের সেরা ফিল্ডারকে। ইরফান পাঠানের সুইংয়ে এখনো আগের মতোই ধার। টিনো বেস্ট এখনো ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার ছোঁয়া গতিতে বল করেন।

ভারতকে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ জেতানো যুবরাজ তো যা দেখিয়েছেন, তাতে আইপিএলের দলগুলো তাঁকে অবসর ভেঙে ফিরে আসার অনুরোধও জানাতে পারে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও নাম কাটিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে ধার তাঁর এতটুকুও কমেনি। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেন্ডার ডি ব্রুইনকে টানা চার ছক্কা মেরে ২২ বলেই ফিফটি করেছিলেন। সেমিফাইনালেও অগ্নিরূপ ছিল, মহেন্দ্র নাগামুটুকে টানা তিন ছক্কা মেরেছিলেন। ইনিংস শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০ বলের বেশি খেলতে পারেননি। তাতেই ১ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৯ রান!

গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে তাই যুবরাজ নামতেই গ্যালারি ভর্তি দর্শক নড়েচড়ে বসেছিলেন। এই তো বুঝি শুরু হলো আতশবাজির খেল! যুবরাজও হতাশ করেননি। দর্শকদের বিমল আনন্দ দিয়েছেন। এ সময় এক ছোট্ট মেয়ের উল্লাসের দৃশ্য ভিডিওতে ধরে রাখেন আরেক দর্শক। টুইটারে সে ভিডিও ছড়িয়েও দেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাঠে যুবরাজের ব্যাটিং দেখতে দেখতে খুদে ভক্ত চিৎকার করছে, ‘ইউভি’ ‘ইউভি’ বলে। এই ভিডিও যুবরাজের নজরেও এসেছে। ভিডিওটি রিটুইট করে লিখেছেন, ‘এই আদুরে মেয়েটা কে? বাবু, নিরাপদ থাকো আর সব সময় নিজের মাস্ক পরে থাকো।’

রায়পুরের গ্যালারিতে কাল ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’ অবস্থা ছিল। বিশ্বজুড়ে করোনার প্রকোপ আবারও বাড়ছে। ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাঝপথেই দর্শকহীন অবস্থায় খেলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে সময়ই আবার ভারতের অন্য প্রান্তে খেলা গ্যালারিভর্তি দর্শকের উপস্থিতি বিস্ময়কর। এর মধ্যে অনেকের মুখেই করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো ইচ্ছা দেখা যায়নি।

default-image

দর্শকদের মাস্ক খুলে চিৎকার করার দায় তো আর যুবরাজদের নয়। তাঁরা মাঠে নেমে তাঁদের কাজ করেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছেন টুর্নামেন্টজুড়ে। কালও দুর্দান্ত খেলেছেন যুবরাজ। শেবাগ জ্বলে উঠতে না পারায় কাল শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। কিন্তু যুবরাজের আগ্রাসী ব্যাটিং সে ধাক্কা পুষিয়ে দিয়েছে। ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৪১ বলে ৬০ রান করেছেন খুদে ভক্তের প্রিয় ‘ইউভি’। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৭ ছক্কা মেরেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। যুবরাজের পাশাপাশি ইউসুফ পাঠানের ৩৬ বলে ৬২ রানে ৪ উইকেটে ১৮১ রান তোলে ভারত।

জবাবে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তিদের হয়ে চেষ্টা করেছিলেন জয়াসুরিয়া। কিন্তু ‘মাতারা হারিকেনে’র ৪১ রান ছাড়া টপ অর্ডারে আর কেউ ভালো করেননি। শেষ দিকে কৌশল্য বীরারত্নে ১৫ বলে ৩৮ রান করে লঙ্কানদের পরাজয়ের ব্যবধান ১৪ রানে নামিয়ে এনেছেন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন