আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বছর কাটিয়ে দিলেন সাকিব
২০০৬ সালের ৬ আগস্ট। ১৫ বছর আগে আজকের এই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল সাকিব আল হাসানের।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাকিব বাংলাদেশের ইতিহাস-সেরা ক্রীড়াবিদ তো বটেই, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে।
দীর্ঘ এই যাত্রার শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠ থেকে। স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল সাকিবের।
নিজের অভিষেক ম্যাচে বল হাতে ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন সাকিব। পরে ব্যাট হাতে ৪৯ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জেতান। সেদিনের ৮ উইকেটের জয়টি ছিল কেবল শুরু।
সোনায় মোড়ানো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সাকিব খেলেছেন ৫৮ টেস্ট, ২১৫ ওয়ানডে ও ৮১ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ৫ টেস্ট সেঞ্চুরিতে ৩৯৩৩ রানের মালিক সাকিব। ওয়ানডেতে ৯ সেঞ্চুরিতে ৬৬০০ রান করেছেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।
টি-টোয়েন্টিতেও সমান সফল সাকিবের সংগ্রহ ১৬৬৬ রান। ২১৫ টেস্ট উইকেট, ২৭৭ ওয়ানডে উইকেট ও ৯৭ টি-টোয়েন্টি উইকেটের মালিক সাকিব।
সংখ্যাই বলে দেয়, ১৫ বছর ধরে অলরাউন্ডারদের মধ্যে সাকিবের ধারেকাছে কেউই ছিলেন না। বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে তিন সংস্করণেই একসঙ্গে এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন সাকিব।
প্রায় এক যুগ ধরে অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে আধিপত্য ছিল শুধু সাকিবের। এখনো ওয়ানডেতে শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব। শীর্ষ অলরাউন্ডারের তালিকায় আছেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও।
আজ ঠিক ১৫ বছর পরের ৬ আগস্টেও বাংলাদেশের জার্সিতে খেলতে নামবেন সাকিব। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের খেলায় আজ সাকিবের বাংলাদেশ দলের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ৬২ রান ও ২ উইকেট নিয়ে সাকিব বাংলাদেশের জয়ে অবদান রাখেন।
এবার তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে প্রথমবারের মতো কোনো সিরিজে হারানোর সুযোগ। ক্যারিয়ারের ১৫তম বছরে পা দেওয়ার দিনেও এর চেয়ে ভালো উপহার আর কী হতে পারে!