default-image

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রধান ডেভ ক্যামেরন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমিয়ে টি-টোয়েন্টি লিগ বাড়িয়ে দিতে চান। আইসিসি চেয়ারম্যান হলে টি-টোয়েন্টি লিগের দিকে বেশি নজর দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর।

আইসিসি চেয়ারম্যানের পদের জন্য ক্যামেরন বেশ জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্যারিবীয় ক্রিকেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা এখন বিশ্ব ক্রিকেটের কাজে লাগাতে চান। ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও ঘরোয়া লিগকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ক্যামেরন। আইপিএলকে আরও দীর্ঘ করে সব টি-টোয়েন্টি লিগকে আরও শক্তিশালী করতে চান তিনি। অনেকটা ফুটবলের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, ইতালীয় সিরি ‘আ’ কিংবা স্প্যানিশ লা লিগার মতো।

সম্প্রতি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি টেস্ট নিয়েও তাঁর মত জানিয়েছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট ইচ্ছে হলে খেলবে, না হলে খেলবে না। এমন হওয়া উচিত। বিশেষ করে ছোট দল যেমন আফগানিস্তান আর আয়ারল্যান্ডের জন্য। এটা বাধ্যতামূলক হবে না।’

তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে আরও বড় পরিসরে দেখতে চান, ‘আমি আরও লম্বা আইপিএল দেখতে চাই। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে লম্বা লিগ হোক, এটাই চাইব। টি-টোয়েন্টি লিগ এখন সবচেয়ে লাভজনক লিগ। আমাদের লিগগুলোকে বাড়তে দিতে হবে। লিগের জনপ্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে নিতে হবে। ক্রিকেটারদের লিগে বেশি খেলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমিয়ে দিতে হবে। এতে বেশি আর্থিক লাভ হবে। এখন বেশি বেশি আইসিসি টুর্নামেন্ট খেলানোর যে চেষ্টা চলছে, এতে ছোট দেশগুলোর লাভ হবে না। কারণ ক্যালেন্ডারে এত সময় নেই।’

খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতেই তিনি এমনটা করতে চান। উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ক্রিকেটারদের, ‘ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা বিশ্বের প্রায় সব টি-টোয়েন্টি লিগেই খেলে। এতে তাঁরা প্রচুর আয় করে। যখন প্রয়োজন হবে, দেশের হয়ে খেলবে ক্রিকেটাররা। কিন্তু তাঁদের মূল আয়ের উৎস হবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট। এতে বোর্ডের খরচও কমে যাবে।’

ক্যামেরন কোনোভাবেই টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দেখেন না। তিনি মনে করেন আর্থিক কারণেই টেস্ট ক্রিকেট অলাভজনক একটা ব্যাপার, ‘টেস্ট ক্রিকেট দারুণ খেলা। তবে এটা শুধুই ঐতিহ্য। আর কিছুদিন বেঁচে থাকবে টেস্ট ক্রিকেট, সেটাও বড় দেশগুলোর মধ্যে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে ছোট দেশগুলোর মনোযোগ টেস্ট ক্রিকেটে হওয়া উচিত না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তা প্রতিযোগিতাপূর্ণ হচ্ছে। আমাদের মানতে হবে আমরা পুঁজিবাদী পৃথিবীতে বাস করি।’

আইসিসি সভাপতি হলে চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর, ‘উপমহাদেশের বাইরে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার ইচ্ছে আছে। এই পরিকল্পনায় ভারত থাকবে। যে কোনো বড় বৈশ্বিক ব্যাপারে ভারতের সাহায্য লাগবে। কারণ তারাই সবচেয়ে বেশি রাজস্বের উৎস। কিন্তু ক্রিকেটকে আমি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রেও জনপ্রিয় করতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0