default-image

নতুন এক ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের পথে হাঁটছে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলছেন শহীদ আফ্রিদির মতো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিচিত অনেক মুখ। অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আলো ছড়ানো ধুমধাড়াক্কা এই ব্যাটসম্যান এলপিএলেও ব্যাট-বল হাতে আলো ছড়াবেন, আলোচনার জন্ম দেবেন, এটাই প্রত্যাশিত ছিল। আলোচনার জন্ম আফ্রিদি ঠিকই দিচ্ছেন, তবে ক্রীড়া নৈপুণ্যের জন্য নয়। তরুণ আফগানি পেসার নাভিন-উল-হকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে নিজেকে বেশ কয়েক দিন ধরে আলোচনায় রেখেছেন সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক।

এরপর দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সেদিন কী হয়েছিল, দুজনই জানিয়েছেন। জানিয়েছেন বলার চেয়ে জানানোর ছলে একে অপরকে দোষারোপ করেছেন বলাটাই যুক্তিযুক্ত। এবার আলোচনায় এলেন এলপিএলে আফ্রিদির সতীর্থ বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির। সেদিন আসলে কী হয়েছিল, জানিয়েছেন এই পেস তারকা।

বিজ্ঞাপন

এক সাক্ষাৎকারে আমির জানিয়েছেন, ‘ম্যাচের শেষ দিকে আমরা সবাই একটু উত্তেজিত ছিলাম। বুঝতেই পারছেন, অমন সময় সবার বুকের ধুকপুকানিটা একটু বেশিই থাকে। শহীদ ভাই ওকে (নাভিন) বোঝাতে চাইছিলেন যে ক্রিকেট খেলতে এসে এমন আচরণ করা উচিত নয়। সিনিয়রদের সঙ্গে ওর অমন ব্যবহার করা ঠিক নয়। ওর আরও ভদ্র হওয়া উচিত। এটা ক্রিকেট, এখানে আপনি এক বলে উইকেট পাবেন তো আরেক বলে চার বা ছক্কা হজম করবেন।’

ঘটনা শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল)। সেটিও গত সোমবার। শহীদ আফ্রিদির গল গ্ল্যাডিয়েটরস ২৫ রানে হারে ক্যান্ডি টাস্কার্সের কাছে। ম্যাচে গলের পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে আফগান পেসার নাভিন-উল-হকের বাগ্‌যুদ্ধ হয়েছিল। এ ঘটনার জের ম্যাচের শেষে টেনেছেন আফ্রিদি ও ক্যান্ডির আফগান পেসার নাভিন-উল-হক। দুই দল হাত মেলানোর (আসলে কনুই ঠোকাঠুকি) সময় কড়া বাক্যবিনিময় হয় আফ্রিদি ও নাভিনের মধ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল এই ভিডিও।

default-image

ভিডিওতে দেখা যায়, আফ্রিদি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাসিমুখেই শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন। কিন্তু নাভিন আসামাত্রই তাঁর চাহনি পাল্টে যায়। কড়া চোখে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় দুজনের। নাভিনের উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখে আফ্রিদিও নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। তাঁদের এই বাগ্‌যুদ্ধের ভিডিও ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে।

ঘটনা সেখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক টুইটারে এ নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। ৪০ বছর বয়সী আফ্রিদি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি আমার পরামর্শ খুব সহজ—নিজের খেলাটা খেলো, গালাগালিতে জড়িয়ে পোড়ো না। আফগানিস্তান দলে আমার বন্ধুবান্ধব আছে। আমাদের মধ্যে সম্পর্কও খুব ভালো। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানবোধ খেলার মৌলিক চেতনা।’

বিজ্ঞাপন

আফ্রিদি এই কথাগুলো যে নাভিনকে তাক করে বলেছিলেন, তা বলাই বাহুল্য। আফগান এই তরুণও মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলেন না। আফ্রিদির সেই পোস্টেই জবাব দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ অবশ্য গুরুতর, ‘পরামর্শ নিতে ও সম্মান দিতে সব সময় প্রস্তুত আছি। ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। কিন্তু কেউ যদি বলে, তোমরা আমাদের পায়ের তলায় আছ এবং সেখানেই থাকবে, তাহলে সে শুধু আমাকে বলছে না; বরং আমার দেশের মানুষকে নিয়ে বলছে।’

নাভিন এখনো তরুণ, ফলে তারুণ্যের তেজটা এখনো রক্তে বেশ ভালোই মিশে আছে, এটা বোঝেন আমির। সব বুঝেই বলেছেন, এই দ্বন্দ্বটাকে একদমই ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছেন না তাঁরা, ‘ও একজন তরুণ তারকা। ও আস্তে আস্তে আরও শিখবে। আপনি ক্রিকেটে নতুন এলে এমন ঘটনা আপনার সঙ্গে অনেক হবে। আমি যখন খেলা শুরু করেছিলাম, তখন অনেক ব্যাটসম্যানের সঙ্গে আমারও এমন ঝগড়া লেগে যেত। এটা ক্রিকেট, আর মুহূর্তের উত্তেজনায় অনেক কিছুই হয়ে যেতে পারে। এসব ব্যাপারগুলোকে মাঠে রেখে আসাই ভালো। ব্যক্তিগত জীবনে আসলেই এর কোনো প্রভাব নেই।’

দেখা যাক, আমিরের মধ্যস্থতায় ব্যাপারটার ইতি ঘটে কি না।

মন্তব্য করুন