default-image

জাতীয় দলে কখনো সুযোগ হয়নি। কিন্তু কাউন্টিতে এক যুগ ছিলেন ওয়ারউইকশায়ারের ব্যাটিং-ভরসা। জুড়ি ছিল না এক পাশ আগলে রাখতে, দাঁতে দাঁত কামড়ে পড়ে থাকতেন উইকেটে। খেলোয়াড়ি জীবনে চ্যালেঞ্জ থেকে পিছপা হননি কখনোই। পিছপা হননি কোচের ভূমিকাতেও। না হলে কি আর আফগানিস্তানের কোচের দায়িত্ব নেন! অ্যান্ডি মোলস সম্ভবত নিয়েছেন ক্রিকেট-বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দায়িত্বটি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে এখনো বাইরে বেরোতে হয় অনেকটা জীবন হাতে নিয়ে। আত্মঘাতী হামলা তো আছেই। নিত্য তাড়া করে অপহৃত হওয়ার শঙ্কাও। একটা দিক থেকে অনেক আফগান ক্রিকেটারদের চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মোলস। ক্রিকেটারদের অনেকেই স্থায়ীভাবে থাকেন পাকিস্তানে। খেলা-টেলা থাকলেই কেবল আসেন। আর মোলস তো থাকেন কাবুলেই!
পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পাননি। তবে মৃত্যু যেখানে ফাঁদ পেতে আছে নিত্য, সেখানে তিনি নিজের ব্যাটিংয়ের মতোই খুব সতর্ক, সাবধানী। তাঁর আফগান জীবনের কথা শুনিয়েছেন ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেনডেন্টকে, ‘কাবুলে যতক্ষণ থাকি, আমি বাইরে বলতে গেলে যাই-ই না। হোটেল রুমেই থাকি। হোটেল থেকে অফিস, অফিস থেকে আবার হোটেলে ফিরে দরজা বন্ধ করে পরের দিনের অপেক্ষায় থাকি। যতটা পারা যায়, নিজের নিরাপত্তার খেয়াল রাখি। চাই না নিজেকে খুব বেশি মেলে ধরতে। তালেবানরা তাই ক্রিকেট কোচ অ্যান্ডি মোলসকে টার্গেট করলে আমি অবাকই হব!’
১৯৯৭ সালে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট দলের দায়িত্ব নেন মোলস। ২০০৩ সালে কেনিয়ার দায়িত্ব নিয়ে চমকে দেন দলকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তুলে। ২০০৫ সালে কেনিয়াকে ছেড়ে দায়িত্ব নেন স্কটল্যান্ডের। আইসিসি ট্রফি খেলে স্কটল্যান্ড যোগ্যতা অর্জন করে ২০০৭ বিশ্বকাপে খেলার। কিন্তু ক্রিকেটারদের সঙ্গে ঝামেলায় ছেড়ে দেন দায়িত্ব। এরপর নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের কোচ হয়ে যান নিউজিল্যান্ডে। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে ছিলেন বছর খানেক। আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশের কোচ হওয়ার দৌড়েও। শেষ পর্যন্ত পরিবারের শঙ্কা-আপত্তি মাথায় নিয়েই যান আফগানিস্তানে।
কাবুলে নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হচ্ছে মোলসের জীবন, ‘সবচেয়ে বড় ভয় অবশ্যই ভুল সময়ে ভুল জায়গায় পড়ে যাওয়া, মানে আত্মঘাতী হামলার শিকার হওয়া। এ জন্য খুব প্রয়োজন হলেই শুধু বাইরে যাই। মাস খানেক আগের কথা বলি। একজন ক্রিকেটার ক্যাম্পে এল দেরি করে। কারণ জিজ্ঞেস করতেই বলল ওর এক জ্ঞাতি ভাইকে গুলি করে মারা হয়েছে। আরও অনেক ক্রিকেটারের পরিবারের অনেককেই অপহরণ করা হয়েছে নানা সময়ে। জীবনটা ওদের জন্য অনেক কঠিন।’
জীবনযুদ্ধ এত কঠিন বলেই ক্রিকেট মাঠের যুদ্ধ এত সহজ আফগানদের জন্য! এএফপি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন