বল করতে গিয়েই ঝামেলায় পড়েছেন নারাইন।
বল করতে গিয়েই ঝামেলায় পড়েছেন নারাইন। ছবি : আইপিএল ওয়েবসাইট

ইনিংসের ১৭তম ওভার শেষ। ম্যাচ জিততে ১৮ বলে ২২ রান দরকার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের। হাতে উইকেটও আছে নয়-নয়টি। যে কারওরই মনে হতে পারে, ম্যাচ জেতা তো হয়েই গেছে পাঞ্জাবের, বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু কলকাতা নাইট রাইডার্সের সুনীল নারাইন হাল ছেড়ে দেননি। ১৮তম ওভারে তুলে নিলেন স্বদেশি নিকোলাস পুরানকে, তাঁর বলে হাঁসফাঁস করা শুরু করলেন প্রভসিমরান সিং। সে ওভারে রান হলো মাত্র দুই। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রানের, দিলেন ১১। সঙ্গে তুলে নিলেন মনদীপ সিং কে। অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জিতে নিল কলকাতা।
যে বোলিং দিয়ে কলকাতাকে ম্যাচ জেতালেন, সে বোলিং নিয়েই ম্যাচ শেষে কপালে চিন্তার ভাঁজ যুক্ত হলো নারাইনের কপালে। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে তাঁর। সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের দায়ে নারাইনের বিরুদ্ধে ম্যাচের দুই আম্পায়ার, নিউজিল্যান্ডের ক্রিস গ্যাফানে ও ভারতের উলহাস গান্ধে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

তবে এখনই অত চিন্তার কিছু নেই, আম্পায়ারদের সন্দেহের তালিকায় পড়লেও এখনো বোলিং চালিয়ে যেতে পারবেন নারাইন। আবারও কোনো ম্যাচে নারাইনের অ্যাকশন দেখে আম্পায়ারদের সন্দেহ হলে শুধু তখনই বোলিং করতে পারবেন না এই অলরাউন্ডার।

আপাতত শুধু সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এই ক্যারিবীয় তারকাকে।
আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইপিএল জানিয়েছে, ‘আইপিএলের সন্দেহজনক সম্ভাব্য অবৈধ বোলিং অ্যাকশন নীতি অনুযায়ী ম্যাচে মাঠের দুজন আম্পায়ার নারাইনের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছেন। তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত তিনি বল করতে পারবেন।’

তবে এখন বল করতে পারলেও আরেকবার যদি সন্দেহের তির যায় তাঁর অ্যাকশনের দিকে, বোলিং করা বন্ধ করে দিতে হবে। তখন বিসিসিআইয়ের সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন কমিটির ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত আর বল করতে পারবেন না নারাইন।

এবারই যে প্রথম এমন ঝামেলায় পড়লেন নারাইন, তা কিন্তু নয়। এর আগে ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলতে পারেননি এই ঝামেলায় পড়েই। ২০১৫ সালের নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ওয়ানডেতে তাঁর বোলিং অ্যাকশন তৈরি করেছিল সন্দেহের। পরে সেই অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় আইসিসি।

বিজ্ঞাপন

সেবার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার অ্যান্ডি রবার্টস তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন কিছুদিন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার জন্য। পরে নতুন অ্যাকশনে বল করা শুরু করেন নারাইন। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালের পাকিস্তান সুপার লিগেও নারাইনের বোলিংয়ের দিকে সন্দেহের তির ছুড়েছিলেন আম্পায়াররা।

কলকাতা-সমর্থকদের এখন একটাই কামনা, চলতে থাকা আসরে নারাইনের বোলিং আর যেন আম্পায়ারদের মনে সন্দেহ না জাগায়!

মন্তব্য পড়ুন 0