‘আমার বন্ধু চলে গেল’

বন্ধুকে বিদায় জানালেন লারা-টেন্ডুলকারছবি: টুইটার

নব্বইয়ের দশক মাতিয়ে রেখেছিল তাঁদের দ্বৈরথ। একদিকে ব্যাটিংয়ে ব্রায়ান লারা বনাম শচীন টেন্ডুলকারের মধ্যে কে সেরা, সে নিয়ে বিতর্ক চলত, অন্যদিকে তাঁদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে চলেছে শেন ওয়ার্নের লড়াই। ‘টেন্ডুলকার বনাম ওয়ার্ন’ আর ‘লারা বনাম ওয়ার্ন’—বক্স অফিস মাতিয়ে তোলা দুই দ্বৈরথ! অথচ মাঠের বাইরে তাঁদেরই আবার কী দারুণ বন্ধুত্ব!

বিশ্বকে বিষাদমাখা বিস্ময়ে ভাসিয়ে আজ ওয়ার্ন চলে গেলেন। মাত্র ৫২ বছর বয়সে, হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে। লারা আর টেন্ডুলকারের কেমন লাগছে? মনের শোক শব্দে ফুটিয়ে তুলতে পারা, এই মুহূর্তে সব গুছিয়ে বলতে পারা সহজ নয়। তবু টুইটারে লারা-টেন্ডুলকারের কষ্ট কিছুটা ফুটে উঠেছে ঠিকই।

আইপিএলে ওয়ার্ন ও টেন্ডুলকার
ছবি: এএফপি

লারা আর টেন্ডুলকারের সঙ্গে ওয়ার্নের দ্বৈরথ ক্রিকেট আর্কাইভে চিরকাল জ্বলজ্বলে থাকবে। কিন্তু লারা আর টেন্ডুলকারের কাছে হয়তো সেই স্মৃতিগুলোই সবচেয়ে বড় দীর্ঘশ্বাসের কারণ! স্মৃতিগুলো ওয়ার্নকে মনে করাবে তাঁদের, লড়াইয়ের ভেতরের খণ্ড খণ্ড গল্প হয়তো ঠোঁটের কোণে হাসিও আনবে। আবার এই স্মৃতিগুলোই তো পোড়াবে লারা আর টেন্ডুলকারকে, বারবার মনে করাবে ওয়ার্ন আর নেই!

ওয়ার্ন নিজেও কী ওপারে লারা-টেন্ডুলকারকে নিয়ে একই মুগ্ধতায় গল্প করবেন? এই তো, খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। বছর দুয়েক আগে করোনার প্রথম ধাক্কায় যখন বিশ্ব থমকে গেছে, ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের সঙ্গে লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্বে লারা আর টেন্ডুলকারকে নিয়ে প্রশ্নে ওয়ার্ন বলেছিলেন, ‘এক ছিল ওরা দুজন...এরপর যোজন যোজন দূরত্ব, এরপর আসবে অন্য ব্যাটসম্যানরা।’

লারা না টেন্ডুলকার, তাঁর চোখে কে সেরা—সে ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, ‘যেকোনো কন্ডিশনে ব্যাট করার জন্য যদি কোনো ব্যাটসম্যানকে চান, সে ক্ষেত্রে এই দুজনের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। আমি হয়তো সেখানে টেন্ডুলকারকেই বেছে নেব। আর যদি এমন হয় যে শেষ দিনে ৪০০ রান করতে হবে, তাহলে লারাকে নেব।’

দেওয়া-নেওয়া, পাওয়া না পাওয়ার সব হিসাবের ঊর্ধ্বেই তো চলে গেলেন ওয়ার্ন! লারা আর টেন্ডুলকারের কতটা খারাপ লাগতে পারে এখন, সে অনুমান করতে যাওয়াই হয়তো অনুচিত। বিশ্বের আনাচকানাচে ক্রিকেটপ্রেমীদের মন ছুঁয়ে যাওয়া ওয়ার্নের মৃত্যুতে ক্রিকেটবিশ্বই যেভাবে শোকাহত, তাঁদের দুজনের কষ্টটা সেখানে হয়তো যোজন যোজনই বেশি! টুইটে কষ্টটা হয়তো কিছুটা বোঝাতে পেরেছেন লারা-টেন্ডুলকার।

মাঠ থেকে যেদিন বিদায় নিয়েছিলেন ওয়ার্ন
ছবি: এএফপি

হৃদয় ভেঙে যাওয়ার ইমোজি দিয়ে লারার টুইট, ‘কিছু বলার ভাষা পাচ্ছি না। সত্যিই বুঝতে পারছি না কীভাবে মনের অবস্থাটা বোঝাব। আমার বন্ধু চলে গেল!’ প্রিয় ‘ওয়ার্নি’র জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তির ভালোবাসা, ‘সর্বকালের সেরা একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে হারালাম আমরা। ওর পরিবারের জন্য সমবেদনা। ওয়ার্নি, শান্তিতে থেকো। তোমাকে অনেক মনে পড়বে।’

আবেগের প্রকাশে সব সময়ই পরিমিত টেন্ডুলকারের টুইটের শুরুতে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির মৃত্যুর খবরে বিস্ময়, ‘অবাক। স্তব্ধ। শোকে মুহ্যমান। তোমাকে অনেক মিস করব, ওয়ার্নি।’ ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তির স্মৃতিতে ভেসে উঠছে ওয়ার্নের সঙ্গে কাটানো সময়, ‘তুমি আশপাশে ছিলে—এমন একটা মুহূর্তও কখনো নিরুত্তাপ কাটেনি, মাঠে হোক বা মাঠের বাইরে। মাঠে তোমার সঙ্গে লড়াই, মাঠের বাইরের হাসিঠাট্টা...সব সময়ই মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে সেগুলো। ভারতের ইতিহাসে তুমি একটা বিশেষ জায়গা নিয়ে থাকবে। ভারতীয়দের হৃদয়েও তোমার জন্য একটা বিশেষ জায়গা বরাদ্দ থাকবে।’