default-image

পাকিস্তান ক্রিকেটে নাকি মোহাম্মদ আমির সৌভাগ্যের বরপুত্র। উল্টো দিকে আরেক বাঁ হাতি পেসার জুনায়েদ খান অবিচারের স্বীকার। ইংল্যান্ড সফরে হারিস রউফের বিকল্প হিসেবে আমির ডাক পাওয়ার পর নতুন করে এই ‘সৌভাগ্য’ আর ‘অবিচারে’র কাহিনি চাউর হয়েছে।

আমির কেন ভাগ্যবান? ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ এই ফাস্ট বোলার বুক ফুলিয়েই ফিরেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। নিষিদ্ধ হওয়ার আগে তাঁর যে ধার ছিল ফিরে তার ছিটেফোঁটাই দেখাতে পেরেছেন তিনি। একটা সময় তো ফর্ম হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ব্রাত্যই হয়ে গেলেন, অবসরও নিলেন এ সংস্করণ থেকে। ভালো পারফরম্যান্স ছাড়াই পাকিস্তানি ক্রিকেট নির্বাচকেরা দিনের পর দিন আমিরকে জাতীয় দলে ডেকে যাচ্ছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। অথচ, এই নির্বাচকেরাই নাকি জুনায়েদকে পারফরম্যান্স থাকা বারবার উপেক্ষা করে চলেছেন।

অভিযোগটা উঠেছে পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার আকিব জাভেদের কাছ দিয়ে। ইংল্যান্ড সফরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত পেসার হারিসের বদলে আমিরকে ডেকে নেওয়ার তীব্র সমালোচনাই করেছেন তিনি। পাকিস্তানি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে তিনি নিজের ক্ষোভের কথা বলেছেন কোনো রাখঢাক না করেই। তাঁর মতে, নির্বাচকেরা সব সময়ই জুনায়েদের প্রতি অবিচার করে চলেছেন, ‘আমার তো মনে হয় আমির নির্বাচকদের খুবই প্রিয় পাত্র। কিছু হলেই জাতীয় দলে ডাক পড়ে তাঁর। আপনারা যদি জুনায়েদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে আমিরের পারফরম্যান্সের তুলনা করেন, তাহলে ব্যাপারটি খুব ভালো করে বুঝতে পারবেন। জুনায়েদ এ মুহূর্তে আমিরের চেয়ে অনেক ভালো মানের বোলার। কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে দলে না নেওয়াটাকে আমি মনে করি তাঁর ওপর এক ধরনের অবিচার। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির পর আমির ক্রিকেটে ফেরার পর একবারই সে ভালো পারফরম করেছে (২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনাল)। এর বাইরে আমির কিন্তু সব সময়ই প্রত্যাশিত মানের নিচে। তাঁকে ইংল্যান্ড সফরে দলে ডাকার আমি কোনো কারণই খুঁজে পাই না। ২৯ জনের স্কোয়াডে যেখানে ১০ জন ভালো ফাস্ট বোলার আছে, সেখানে নতুন করে আমির কেন?’

আমিরকে সৌভাগ্যবান বলছেন জুনায়েদ নিজেই। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকেই দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুনায়েদের তির্যক কণ্ঠে ঝরেছিল আক্ষেপ, ‘আমিরের জন্য আমার মাঝেমধ্যে দারুণ হিংসা হয়। সে কী সৌভাগ্যবান। সে সব সময়ই পাকিস্তানি টিম ম্যানেজমেন্টকে তাঁর সঙ্গে পেয়েছে। গত ১৪-১৫টা ওয়ানডেতে তাঁর বলার মতো কোনো পারফরম্যান্সই নেই। তারপরেও সে ডাক পায়। অথচ আমাকে দেখুন, মাত্র ২টি ওয়ানডেতে বাজে বোলিং করার কারণে আমি পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়েছি।’

২০১১ সালে পাকিস্তানের হয়ে অভিষিক্ত হওয়ার পর জুনায়েদ তিন সংস্করণেই খেলেছেন। ২২ টেস্ট, ৭৬ ওয়ানডে আর ৯ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জুনায়েদের উইকেট সংখ্যা ১৮৯। ২০১৯ সালের মে মাসে তিনি সবশেষ তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছিলেন নটিংহামে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন