default-image

তিনি দলে নেই, তবে দলের সঙ্গেই আছেন। যে দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে ছিলেন এত দিন, সেই সম্পর্ক তো এখনই শেষ হওয়ার নয়! জাতীয় দল আর ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে বিশ্বকাপ দলের সবাইকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের ১৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের ধারাবাহিক লেখা
এই কলামে সবার কথা লিখতে গিয়ে বারবার খুলনা দলের কথা চলে আসছে। বিশ্বকাপ দলের অনেকেই যে খুলনার! একসঙ্গে খেলেছি জাতীয় লিগে, খুলনাকে বেশ অনেক দিন থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছি। ওদের কাছ থেকে দেখেছি। আল আমিনকেও যেমন প্রথম দেখেছি খুলনা দলেই, বছর তিনেক আগে। সত্যি বলতে, প্রথম দেখায় খুব একটা মনে ধরেনি ওকে। অনুশীলনে বোলিং দেখে মনে হচ্ছিল, এই ছেলে কি পারবে! কিন্তু ম্যাচে আমাকে চমকে দিল। খুব বেশি উইকেট পায়নি, কিন্তু দারুণ বোলিং করেছিল। পরে আমি জাতীয় দলের খেলায় চলে এলাম। শুনলাম আল আমিন ৪-৫ উইকেট করে নিচ্ছে প্রায়ই। তার পর তো আরও এগিয়ে গেল। গত বছর কী বোলিংটাই না করল সব ধরনের ক্রিকেটে! কখনো কখনো নিজের ভুল প্রমাণিত হওয়া অনেক স্বস্তির, আনন্দের। আল আমিনকে নিয়ে আমার ধারণা ভুল প্রমাণ হওয়ায় যেমন আমি দারুণ খুশি।

খুশি ওকে বিশ্বকাপ দলে দেখেও। আল আমিন, না শফিউল—বিশ্বকাপ দল বাছাইয়ে নির্বাচকদের টেবিলে এটি নিয়ে নিশ্চয়ই অনেক আলোচনা হয়েছে। শফিউল শুধু আামার অনেক প্রিয় ছোট ভাই নয়, প্রিয় বোলারও। ওরও অনেক শক্তির জায়গা আছে, দলকে সেবা দিয়েছে দারুণ। কিন্তু গত বছর আল আমিনের যা পারফরম্যান্স, ওকে উপেক্ষা করা আসলে কঠিনই ছিল। বিশ্বকাপই তো সবকিছুর শেষ নয়। শফিউল দারুণভাবেই ফিরবে। তবে আল আমিনের জন্য বিশ্বকাপ দলে থাকা খুব দরকার ছিল!
গত বছর আল আমিনের জন্য যেমন সাফল্যময় ছিল, উড়ে এসে জুড়ে বসেছিল একটি শঙ্কাও। সোহাগ গাজীর মতো আল আমিন নিষিদ্ধ হয়নি অ্যাকশনের কারণে। তবে অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অনুভূতিও সুখকর কিছু নয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানি। অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা মানে বোলার সত্তা নিয়েই প্রশ্ন। বড্ড কঠিন সময়। আত্মবিশ্বাসে চোট লাগে, মাঠের ভেতরে-বাইরে কিছুই ভালো লাগে না। এই সময় আপন লোকেরাও অনেক দূরে সরে যায়, দূরের মানুষ আরও দূরে। অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর যে কটি ম্যাচ আল আমিন খেলেছে, ভালো করতে পারেনি। করতে পারার কথাও নয়। যে যা-ই বলুক, ওই মানসিক অবস্থায় ভালো করা যায় না।

default-image

আমি সেই সময় যতটা পারা যায় কথা বলেছি ওর সঙ্গে। ফোন করেছি। সাহস দিয়েছি, বারবার বলেছি ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তখন কেবল প্রশ্নবিদ্ধই হয়েছে অ্যাকশন, প্রমাণিত তো হয়নি! অ্যাকশনের পরীক্ষা দেওয়ার জন্যও মনোবল শক্ত থাকা জরুরি। আল আমিনকে কৃতিত্ব দিতে হবে, কঠিন সময়টা ভালোভাবেই উতরে এসেছে। এ জন্যই ওর বিশ্বকাপ দলে থাকা দরকার ছিল। ওর আত্মবিশ্বাসের জন্য খুব ভালো হয়েছে। আর অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আগে যতটা দুর্দান্ত বোলিং করছিল, সেটার একরকম পুরস্কারও দেওয়া হলো এতে। আল আমিন বুঝতে পারবে দল ওকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। ওরও দলের প্রতি নিবেদন বাড়বে আরও।
শুরু থেকেই দেখে আসছি, আল আমিন বেশ পরিশ্রমী। উচ্চতা ভালো। উইকেট টু উইকেট বোলিং করে, ইনসুইঙ্গার তো দারুণ। ওর আরেকটা দুর্দান্ত ডেলিভারি আছে, যেটি নিজেও ভালো করে বুঝতে পারে না। একই অ্যাকশনে একই লেংথের একটা বল, কখনো স্কিড করে, কখনো একটু ধীরে আসে। অদ্ভুত! বেশ কটি উইকেট পেয়েছে এই বলে। আমি ওকে জিজ্ঞেসও করেছি, কীভাবে করিস এটা। বলে, ‘ভাই আমি নিজেও জানি না, কীভাবে যেন হয়ে যায়!’
আল আমিনের জন্যও কিন্তু এক দিক থেকে এটি শিক্ষাসফর। দলে এসেই ভালো করছে বলে অনেকেই ভুলে যায় ওর ক্যারিয়ার এখনো শুরুর দিকে। তবে আমাদের মতো দলে এটাই বাস্তবতা। তাই দায়িত্বও নিতে হচ্ছে, জমছে প্রত্যাশাও। এই ধরনের উইকেট-কন্ডিশনে বোলিংয়ের সুযোগ সব সময় আসে না। আল আমিনের কাছেও তাই চাওয়া আছে। তবে দলের আর সব তরুণের মতো ওকেও আমি বলব, প্রত্যাশা-চাপ মাথায় না রেখে উপভোগ করুক বিশ্বকাপ।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন