ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে এ মুহূর্তে এক নম্বরে আছে ইংল্যান্ড দল।
ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে এ মুহূর্তে এক নম্বরে আছে ইংল্যান্ড দল। ছবি: এএফপি

আইপিএল আগে, নাকি দেশের হয়ে খেলা আগে—এই প্রশ্নে কদিন আগে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) ধুয়ে দিয়েছেন কিংবদন্তি ইংলিশ ক্রিকেটার জিওফ বয়কট। খেলোয়াড়েরা যদি জাতীয় দলের খেলা বাদ দিয়ে ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতে যায় তাহলে বেতনের অর্থ কেটে নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ইসিবির কর্মকর্তাদের কঠোর সমালোচনাও করেছেন। এমনকি বোর্ড কর্তাদের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এত দিন পর বুঝি বয়কটের সেই সমালোচনার উত্তর দিলেন ইসিবির ক্রিকেট পরিচালক অ্যাশলি জাইলস।

জাইলস একবারও মুখে বলেননি, তিনি বয়কটের কথার উত্তর দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি সাদা বলে ইংল্যান্ডের সাফল্য নিয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, সেটা শুনলেই স্পষ্ট হয় এগুলো আসলে বয়কটের সমালোচনার জবাব। এ মুহূর্তে আইসিসির টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪ নম্বরে আছে ইংল্যান্ড। কিন্তু সাদা বলের দুই সংস্করণ ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টিতে ১ নম্বর দল তারাই।

একটা কথা অনেক দিন ধরেই অনেকে বলে আসছেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড আর রানার্সআপ দল নিউজিল্যান্ড ভারতের ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আইপিএলকে খুব গুরুত্ব দেয়। আইপিএলের বিষয়টি মাথায় রেখেই নাকি দল দুটি নিজেদের সূচি সাজানোর চেষ্টা করে। দল দুটি সম্পর্কে অনেকে এটাও বলে থাকেন, দুই বোর্ডই নাকি খুব করে চায় আইপিএলে তাদের খেলোয়াড়েরা খেলুক।

বিজ্ঞাপন
default-image

এই যে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলল, এতেও অনেকে আইপিএলের অবদান দেখছেন। অনেকেই মনে করেন, ইংল্যান্ড তাদের ইতিহাসে ২০১৯ সালে যে প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতল, সেটাতেও অবদান আইপিএলের। ভারতের ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে প্রতিবছর বিদেশি অনেক খেলোয়াড় খেলেন। আর এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততর দুটি সংস্করণে তাদের পারফরম্যান্সে উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে বলেও ধারণা অনেকের।

ইংল্যান্ড যে তাদের খেলোয়াড়দের আইপিএলে খেলতে উদ্বুদ্ধ করে সেটা এবারের আইপিএলের দিকে তাকালেও স্পষ্ট হয়। এবারের আইপিএলে ইংল্যান্ডের ১২ জন খেলোয়াড় আছেন। আর এই ১২ জনের ক্ষেত্রে আইপিএল চলাকালে জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি শিথিল করে দিয়েছে ইসিবি। এবারের আইপিএল শুরু হবে ৯ এপ্রিল, ফাইনাল ৩০ মে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ইংল্যান্ডের দুই টেস্টের সিরিজ শুরু ২ জুন। এখন ইংল্যান্ডের যে খেলোয়াড়দের দল আইপিএলের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে, তাঁদের পক্ষে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলাটা একটু কঠিনই।

default-image

ইসিবি অবশ্য ওই খেলোয়াড়দের আইপিএল রেখে দেশে ফেরার জন্য জোর করবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে। বয়কট এই জোর না করার বিষয়টি উল্লেখ করে সম্প্রতি তাঁর লেখা এক কলামে ইসিবির সমালোচনা করেছেন। কিন্তু ইসিবির ক্রিকেট পরিচালক জাইলসের কথা অন্য, ‘খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার সময় আমি এটা বলেছি যে নিজেদের কী কী খেলা আছে, তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে খেলোয়াড়দের। তারা কী করবে, তা আমি বলে দিতে পারি না। আমরা তাদের কোনো বিষয়ে জোরও করতে পারি না। আইপিএল আমাদের জন্য উপকারীই।’

আইপিএলের শুরুর বছরগুলোয় ইংল্যান্ড এই টুর্নামেন্টে তাদের খেলোয়াড়দের একটু কমই ছাড়ত। সেই সময়ের কথা মনে করে জাইলস বলেছেন, ‘অনেক বছর আগের কথা, আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য আইপিএলের অভিজ্ঞতা অর্জন করা কঠিনই ছিল। এখন আমাদের সব খেলোয়াড়েরই খুব চাহিদা আছে। এ কারণেই আমরা সাদা বলের দুই সংস্করণেই ১ নম্বর দল।’

এবারের আইপিএলে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে জাইলস বলেছেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের আইপিএলে খেলতে যেতে দিতে রাজি হয়েছি। (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে) টেস্ট দুটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত পরে হয়েছে। আসল সূচিতে এ দুটি ম্যাচ ছিল না।’ এটুকু ব্যাখ্যা দেওয়ার পর জাইলস যোগ করেন, ‘শুধু খেলোয়াড়দের সঙ্গেই নয়, আইপিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। আইপিএল কর্তৃপক্ষকে আমরা কথা দিয়েছি যে আমাদের খেলোয়াড়দের দল টুর্নামেন্টের শেষ দিকে থাকলেও তারা খেলবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান জস বাটলারও একই কথা বলেছেন। ইসিবি তাঁকে আইপিএল বাদ দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলার জন্য জোরাজুরি করেনি বলেই দাবি তাঁর। দেশের হয়ে না খেলে আইপিএলে খেলা নিয়ে বয়কট যতই সমালোচনা করুন না কেন, সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের অন্য একপর্যায়ে নিয়ে যেতে ইংলিশরা যে আইপিএলকেই মাধ্যম করেছে; জাইলস আর বাটলারের কথাই সেটাই স্পষ্ট।

আপাতত ইংলিশরা দুটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। যার প্রথম ধাপে এ বছরের শেষ দিকে হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পরের ধাপে পরবর্তী অ্যাশেজ সিরিজ। জাইলস বলেছেন, ‘আমরা একটি ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি। যে ভারসাম্যটি খুঁজে পেলে আমরা দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে পারি। আমাদের এখন দুটি লক্ষ্য—বছরের শেষ দিকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর অ্যাশেজ। আমরা আরও অনেক কিছু পেতে পারি। আমরা সাদা বলের দুটি ট্রফিই জিততে চাই। এটা করতে পারলে দারুণ এক ব্যাপার হবে। আমরা অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজও জিততে চাই।’

বয়কট তাঁর কলামে সমালোচনা করেছেন সম্প্রতি ইংল্যান্ড দলের বিশ্রামনীতি নিয়েও। করোনাভাইরাস মহামারির পর ক্রিকেট আবার শুরু হলেও সব দলকেই খেলতে হচ্ছে নতুন স্বাভাবিক নিয়ম মেনে। যার মধ্যে অন্যতম পুরো সিরিজে খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকা। এভাবে ক্রমাগত জৈব সুরক্ষাবলয়ে থাকতে থাকতে খেলোয়াড়েরা মানসিক দিক থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন বলেই মনে করে ইসিবি। এ কারণেই বিভিন্ন সিরিজে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে খেলানোর পক্ষে তারা।

ভারতের কাছে সম্প্রতি সিরিজ হারার কারণ এই বিশ্রামনীতিকেই মনে করেন বয়কট। তাঁর কথা, ভারত সফরে বিশ্রামনীতি নিয়ে ভজকট পাকিয়ে ফেলেছে ইসিবি। জাইলস এ বিষয়েও কথা বলেছেন। দলে ভারসাম্য আনতে হলে বিশ্রামনীতিটা খুব প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি, ‘আমরা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর অ্যাশেজে মানসিক ও শারীরিকভাবে ফিট খেলোয়াড়দেরই চাই। এ কারণেই আমাদের বেশি ভাবনা হচ্ছে খেলোয়াড়দের চাপ নিয়ে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন