default-image

বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখা এই অস্ট্রেলিয়াতেই। ২৩ বছর আগের সেই ম্যাচটা ছিল সিডনিতে। সেবার পাকিস্তান হারাতে পারেনি ভারতকে। পারেনি এরপর আরও চারবারের দেখায়ও। সেই অস্ট্রেলিয়াতেই আজ আবার দেখা হচ্ছে, এবার অ্যাডিলেড ওভালে। ইতিহাসটা কি এবার বদলাতে পারবে পাকিস্তান? ক্রিকেটের শাশ্বত ‘ডার্বি’র আগে ঘুরেফিরে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে এই প্রশ্নটাই।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই এমনিতেই উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দেয়। বিশ্বকাপ হলে তো কথাই নেই। উত্তেজনাকে তুঙ্গে তুলতে যাদের সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে, প্রতিপক্ষ দুই দেশের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের রক্তচাপ বাড়ছে, বাড়ছে হৃৎপিণ্ডের ধুকধুকানি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাই আভাস দিয়ে রেখেছে, এ ম্যাচ ক্রিকেট ইতিহাসে ‘ভিউওয়ারশিপ’-এর নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পারে! আয়োজকদেরও নাকি ধারণা, এ ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে এবারের বিশ্বকাপের আলোকিত ভবিষ্যৎ। নতুন মুক্তি পাওয়া সিনেমার প্রথম সপ্তাহ দেখেই যেমন বোঝা যায় বক্স অফিসে সেটা কেমন যাবে!
শুধু ওয়ানডে বিশ্বকাপ নয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চারবার খেলে ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। অথচ সব মিলিয়ে ওয়ানডে পরিসংখ্যানে পাকিস্তানই এগিয়ে। ১২৬ বারের দেখায় পাকিস্তানের জয় ৭২, ভারতের ৫০। কিন্তু ম্যাচটা যখন কোনো না কোনো বিশ্বকাপের হয়, দিশাহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তান। কেন? কিছুদিন ধরে এ প্রশ্নটাই বেশি শুনতে হচ্ছে পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হককে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনেও শুনতে হলো। আর পাকিস্তান অধিনায়কও গত কয়েক দিনে পুরোনো কথাটাই বললেন ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে, ‘আগে কেন পারিনি সেটা জানি না। এবার আমাদের ইতিহাস গড়ার সময়।’ বরাবরই নিজের ব্যাটিংয়ের মতো কথাবার্তায়ও ধীরস্থির মিসবাহ। তবে সতীর্থ শহীদ আফ্রিদি আগের দিন একই প্রশ্নের বাউন্সারে হুক করেছেন, ‘এসব রেকর্ড কোনো প্রভাব ফেলবে না। রেকর্ড কেউ মনে রাখে না। সর্বশেষ ভারত-পাকিস্তান ওয়ানডেতে যে আমরা জিতেছি সেটাই তো লোকের ভালো করে মনে নেই। খেলা হবে মাঠে। সেখানে আগে কী হয়েছে না হয়েছে সেটি কোনো ব্যাপার না। ভারত পাঁচবার জিতেছে বলে চাপটা ওদের ওপরই বেশি।’
তবে ‘চাপ’কে মোটেই গায়ে মাখছেন না ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। বরং অতীত রেকর্ডের প্রসঙ্গে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁর মতটাও মিলেছে। সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমি জানি আমাকে এই ৫-০ নিয়ে অনেক কথা জিজ্ঞেস করা হবে। দেখুন, আমরা এটা নিয়ে মোটেই ভাবছি না। আগে যা হয়েছে সেটা এই ম্যাচে কোনো ভূমিকাই রাখবে না। তবে হ্যাঁ, আগে জিতেছি বলেই এটা আমাদের মর্যাদার লড়াই।’
সব মিলিয়ে যুদ্ধের আগে দুই দলের অধিনায়কই চাইছেন বাইরের দুনিয়ার কাছে নিজেদের যথেষ্ট সংযত আর চাপমুক্ত প্রমাণ করতে। কিন্তু দলের ভেতরে যে উল্টোস্রোত, সেটা বুঝতে খুব বড় ক্রিকেটবোদ্ধা হতে হয় না। কারণ অনুমেয়, দুই দলের সমর্থকদের অনেকেরই দাবি—বিশ্বকাপ না জিতলেও চলবে, কিন্তু এ ম্যাচ জিততেই হবে!
চিরাচরিতভাবে লড়াইটা ভারতের ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের বোলিংয়ের। কিন্তু এবার পাকিস্তানের বোলিংটাকেও নড়বড়ে মনে হচ্ছে। সাঈদ আজমল, উমর গুল, জুনায়েদ খান, মোহাম্মদ হাফিজ নেই। বোলিং আক্রমণের নেতা তাই পেসার মোহাম্মদ ইরফান। তবে রাহুল দ্রাবিড় ও অনিল কুম্বলের মতো সাবেক ভারতীয় অধিনায়কদের মতে অ্যাডিলেডের উইকেটে ৭ ফুট ১ ইঞ্চির ইরফানই ভোগাতে পারেন ভারতকে। সেটা মাথায় রেখেই কিনা গত কয়েক দিন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা উঁচু থেকে ছুটে আসা বল খেলার অনুশীলনও করেছেন।
তুলনায় ভারতের ব্যাটিং শুধু দুর্দান্তই নয়, বিশ্বের অন্যতম সেরা। তবে শচীন টেন্ডুলকার আর দ্রাবিড়রা আলাদা করে বলছেন বিরাট কোহলির কথা। টেন্ডুলকারের তো ধারণা, এ বিশ্বকাপেরই নায়ক হতে পারেন কোহলি। যদি নাও হতে পারেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ কিছু করলেই ইতিহাসের পাতায় আলাদা জায়গা হয়ে যাবে কোহলির। জায়গা হবে এ ম্যাচের নায়ক অন্য যে কারও।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মাহাত্ম্যই যে এমন!

default-image


মুখোমুখি ভারত–পাকিস্তান
ম্যাচ ভারত পাকিস্তান টাই/পরি.
মোট ১২৬ ৫০ ৭২ ০/৪
বিশ্বকাপে ৫ ৫ ০ -
অস্ট্রেলিয়ায় ৭ ৪ ৩ -
২৫২৬
সবচেয়ে বেশি রান শচীন টেন্ডুলকারের
১৯৪
সর্বোচ্চ ইনিংস সাঈদ আনোয়ারের
৬০
সবচেয়ে বেশি উইকেট ওয়াসিম আকরামের
৭/৩৭
সেরা বোলিং আকিব জাভেদের
এই প্রথম শচীন টেন্ডুলকারহীন ভারত-পাকিস্তান বিশ্বকাপ ম্যাচ। আগের ৫ বারের (১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০১১) মধ্যে তিনবারই ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হয়েছেন মাস্টারব্লাস্টার৷
ভারতের এই দলে মাত্র তিনজন (ধোনি, কোহলি ও রায়না) বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছেন, ২০১১ সালে। পাকিস্তান দলে ভারতের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা আছে মিসবাহ, আফ্রিদি, ইউনিস, আকমল ও ওয়াহাব রিয়াজের৷
এবার দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান খেলেছেন আফ্রিদি (১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০১১)।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কোনো সেঞ্চুরি নেই৷ সর্বোচ্চ ৯৮* টেন্ডুলকারের। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১০১ সাঈদ আনোয়ারের।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন