বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছে বছর দুয়েক হলো। ২০১৯ থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত চলা প্রথম আসর বাংলাদেশের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্ন হয়ে ছিল। এ সময়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে চারটি সিরিজ খেলেছিল (আসলে সাড়ে তিনটি, পাকিস্তানের মাটিতে একটি সিরিজের দুই টেস্টের একটি হতে পেরেছে, করোনার কারণে আরেকটি হয়নি) বাংলাদেশ। এই চার সিরিজে ৭ ম্যাচে বাংলাদেশের কোনো জয় তো ছিলই না, সব মিলিয়ে ড্র-ই করতে পেরেছে মাত্র একবার। হেরেছে বাকি ছয়টি।

সেবার সব মিলিয়ে ৪২০ পয়েন্টের খেলায় মাত্র ২০ পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। বলাবাহুল্য, ৯ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে থেকেই অভিযান শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের। গত জুনে সাউদাম্পটনে ভারতকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসর।

দ্বিতীয় আসরের শুরুতেও অবশ্য বাংলাদেশের ভাগ্যে এত দিন কোনো পয়েন্ট জোটেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজের আগে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে একটি সিরিজই খেলেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে কদিন আগে শেষ হওয়া সেই সিরিজের দুই টেস্টেই জুটেছে অসহায় হার। এরপর নিউজিল্যান্ডে গিয়ে বাংলাদেশ কতটা কী করতে পারবে, তা নিয়ে ঘোর সংশয়ই ছিল বেশির ভাগ ক্রিকেটপ্রেমীর।

default-image

কিন্তু সব সংশয় মিথ্যা প্রমাণ করে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিনে আজ জিতে গেছে বাংলাদেশ। জয়ের হারের ভিত্তিতেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান নির্ধারিত হয়। এ পর্যন্ত ৩ টেস্টের ১টিতে জয় ও ২টিতে হার দেখায় বাংলাদেশের জয়ের হার ৩৩.৩৩ শতাংশ।

৬ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের হার ২৫ শতাংশ। চার টেস্টের একটিতে জিতেছে তারা, বাকি তিনটি হেরেছে। সাতে নিউজিল্যান্ড, তিন টেস্টে দুই হারের পাশাপাশি এক ড্র থাকায় তাদের ‘জয়ের হার’ ১১.১১। বাংলাদেশের ঠিক ওপরে থাকা ভারতের জয়ের হার ৬৩.০৯। তারা ৭ টেস্টের চারটিতে জিতেছে, দুটি ড্র করেছে, হেরেছে একটিতে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ম্যাচে জিতলে জয়ের হার হবে ১০০%, ম্যাচ টাই হলে জয়ের হার হবে ৫০%। ড্র করলে ২৫ আর হেরে গেলে ‘জয়ের হার’ ০ ছাড়া কিছু হওয়ার তো কোনো কারণ থাকে না!

default-image

প্রতি ম্যাচ জিতলে ১২ পয়েন্ট পাওয়া যায়। টাই হলে ৬, ড্র করলে ৪ আর হেরে গেলে ০। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে না পারলে সেটির জন্য পয়েন্ট কাটাও যায়। নির্ধারিত সময় শেষে যত ওভার বাকি থাকবে, তত পয়েন্ট কাটা যাবে।

যে কারণে ৪ নম্বরে থাকা ভারতের পয়েন্ট ৫৩। ৪ জয় আর ২ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট হওয়ার কথা ছিল ৫৬, কিন্তু ওভাররেটের কারণে ৩ পয়েন্ট কাটা গেছে তাদের।

পয়েন্ট কাটার শাস্তি সবচেয়ে বেশি পেয়েছে ইংল্যান্ড। অ্যাশেজে একের পর এক টেস্টে হারের মুখ দেখতে থাকা দলটি এ পর্যন্ত ৭ টেস্টে জিতেছে ১টি, ড্র করেছে ১টি, বাকি ৫ টেস্টে হেরেছে। সে হিসাবে তাদের পয়েন্ট হওয়ার কথা ছিল ১৬।

কিন্তু ওভার শেষ করায় ধীরগতির কারণে এ পর্যন্ত তাদের ১০ পয়েন্ট কাটা গেছে! তালিকার ৮ নম্বরে থাকা ইংল্যান্ডের নামের পাশে তাই পয়েন্ট মাত্র ৬!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন