ইমরানের সঙ্গে বোথাম-হ্যাডলিকে যোগ করেও অ্যাথলেট কপিল হয় না

বিজ্ঞাপন
default-image

পাকিস্তানের ছিল ইমরান খান, ভারতের কপিল দেব। সঙ্গে ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম, নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হ্যাডলি। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের ছোট্ট তালিকায় যাঁদের নাম আসে, আশির দশকে তাঁরা মাঠে ছিলেন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীই। চারজনের মধ্যে সে প্রজন্মের সেরা কে—তর্কটা হয় নিয়মিতই।

কিন্তু নিজের সময়ের অলরাউন্ডারদের মধ্যে সেরার তর্কে নতুন করে ঘি ঢাললেন বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় অধিনায়ক কপিল দেব। ইমরান খান, রিচার্ড হ্যাডলি ও ইয়ান বোথাম—অ্যাথলেট হিসেবে তিনজনকে যোগ করলে যা হয়, তার চেয়েও তিনি এগিয়ে ছিলেন বলে দাবি কপিলের!

ভারতীয় নারী দলের প্রধান কোচ ডব্লিউ ভি রমনের সঙ্গে এক পডকাস্টে (অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠান) কপিল বলেছেন, ‘আমি বলব না যে আমি সেরা অলরাউন্ডার ছিলাম। তবে অ্যাথলেট হিসেবে বাকি তিনজনকে যোগ করলে যা হয়, তার চেয়েও ভালো ছিলাম।’

অ্যাথলেট হিসেবে কপিলের পরিচিতি অবশ্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। ভারতের হরিয়ানা থেকে উঠে আসা কপিল ছোটবেলায় সব ধরনের খেলাই খেলতেন। যা পরে কপিলের ক্রিকেটে খুব কাজে লেগেছে। ফিল্ডিংয়ে বরাবরই কপিল ছিলেন দলের সেরা। ১৯৮৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভিভ রিচার্ডসের সেই দুর্দান্ত ক্যাচ এখনো অনেকের মনে ভাসে। আর সেই যুগে ভারতের কেউ ফাস্ট বোলিং করবে, তা-ই তো কেউ চিন্তা করত না। কপিল ছিলেন প্রথম ভারতীয় পেসার, যাঁর গতির ভয়ে থাকতেন বিদেশি ব্যাটসম্যানরাও।

অ্যাথলেট হিসেবে নিজেকে এগিয়ে রাখলেও চার অলরাউন্ডারের মধ্যে সেরা বোলার হিসেবে নিউজিল্যান্ডের হ্যাডলিকে বেছে নিয়েছেন কপিল, ‘আমাদের মধ্যে সেরা বোলার ছিল হ্যাডলি। সে ছিল একেবারে কম্পিউটারের মতো নিখুঁত।’ পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক ইমরান খানের অধিনায়কত্ব ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন কপিল, ‘ইমরানকে সেরা অ্যাথলেট বলব না। তবে আমার দেখা ক্রিকেটারদের মধ্যে ইমরান ছিল সবচেয়ে পরিশ্রমী। সে যখন খেলা শুরু করে, তখন গড়পড়তা ক্রিকেটার ছিল। পরে কঠোর পরিশ্রম করে ফাস্ট বোলারে পরিণত হয়। সব নিজে শিখেছে সে। নিজের ব্যাটিং নিয়েও অনেক কাজ করেছে। উন্নতি করেছে।’

তবে ৮০-র দশকের চার কিংবদন্তি অলরাউন্ডারদের মধ্যে বোথামকে সত্যিকারের অলরাউন্ডার মনে করেন কপিল, ‘ইয়ান বোথাম ছিল সত্যিকারের অলরাউন্ডার। কন্ডিশন ঠিক থাকলে একাই সে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারত। আমি হ্যাডলিকে সেরা ব্যাটসম্যান বলব না। কিন্তু বোথাম ব্যাট ও বলে—দুই বিভাগেই প্রতিপক্ষকে ভোগাত। ইমরান বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে পারত। অবশ্য নেতা হিসেবে ইমরান ছিল অনেক ভালো। পাকিস্তান দলটাকে সামলানো কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল।’

ভারতের হয়ে ৩৫৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন কপিল। ৬৮৭ উইকেট ও ৯০৩১ রান করেছেন এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন