বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসার আগে পাকিস্তান দলকে নিজের বাসভবনে ডেকেছিলেন ইমরান খান। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে শোনান ১৯৯২-এর বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতার কথা। ইমরানের মুখে বিশ্বকাপ জয়ের কথা রূপকথার গল্পের মতো মনে হচ্ছিল ক্রিকেটারদের কাছে। গত ২৩ অক্টোবর বিশ্বকাপ খেলতে দুবাইয়ে এসেও পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম যেন সেই মোহেই আচ্ছন্ন ছিলেন, ‘এখানে আসার আগে তাঁর (ইমরান খান) সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলটার মানসিকতা এবং শরীরী ভাষা কেমন ছিল, আমাদের সেসবই বলেছেন তিনি।’

এরপর দুবাইয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে পাকিস্তানকে উৎসবের আনন্দে ভাসায় বাবর আজমের দল। আমিরাতপ্রবাসী পাকিস্তানিদের আনন্দের উপলক্ষ এনে দিতে আসতে থাকে একটার পর একটা জয়। নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, নামিবিয়া—পাকিস্তানের সামনে দাঁড়াতে পারেনি কোনো দলই।

default-image

ব্যাট হাতে উজ্জ্বল অধিনায়ক বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচ জেতানো আসিফ আলী। বল হাতে সাফল্যের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি-হারিস রউফরা। তাঁদের হাত ধরেই জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে বিশ্বকাপে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত অপরাজিত। শারজায় আজ স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারলেই এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষ দল হয়ে ১০ নভেম্বর আবুধাবির প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে তারা।

কোচ মিসবাহ-উল হক আর ওয়াকার ইউনুসের অধীনে পাকিস্তানের হয়ে এই খেলোয়াড়েরাই এর আগে খেলেছেন। কিন্তু পারফরম্যান্সে সে ধারাবাহিকতাটা ছিল না, যেটা দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপে। পাকিস্তানের জিও টিভির অভিজ্ঞ সাংবাদিক সোহাইল ইমরানের চোখে ইমরান খানের মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়েই দলটার এমন বদলে যাওয়া, ‘এই খেলোয়াড়েরাই এর আগে খেলেছে। বিশ্বকাপে তাদের ভালো পারফরম্যান্সের মূলে কাজ করছে ইমরান খানের কাছ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস।’

default-image

গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান সফর বাতিল করে দেয় নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড দল। সেই ঘটনাও ক্রিকেটারদের মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্বকাপে ভালো কিছু করে দেখিয়ে দেওয়ার জেদও চলে আসে তাতে, যেটাকে আরও উসকে দেয় ইমরান খানের পড়ে দেওয়া মন্ত্র। ইমরান সেদিন ক্রিকেটারদের বলেছিলেন, ‘তোমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দাও আমাদের শক্তি। কোনো দল যাতে আর আমাদের সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানাতে না পারে।’

বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলছে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ সাকলায়েন মুশতাকের অধীনে। দলকে উজ্জীবিত রাখতে নানা উপায় বের করছেন সাবেক এই অফ স্পিনারও। অনুশীলনে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানো তার একটা। এ নিয়ে মুশতাক বলছিলেন, ‘দলটা আমাদের পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। এই পতাকা খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দেবে, তাদের পেছনে ২২০ মিলিয়ন মানুষ আছে।’

আর আছেন ইমরান খানের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী, যার অদৃশ্য নেতৃত্বে মাঠেও খেলছে পাকিস্তান।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন