default-image

ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মহিমা এমনই যে ‘চিরশত্রু’ও বাধ্য হচ্ছে তাদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিতে। মাঠের লড়াই, ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, বিশ্বসেরা দল হয়ে ওঠা—সব ছাপিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের বড় অর্জন যেন এটিই। অস্ট্রেলিয়াতে কী দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেই না সিরিজ জিতল ভারত। এটা তো একটা সাফল্য। কয়েক বছর ধরে দেশে–বিদেশে, যেকোনো মাঠেই ভারত দারুণ একটা দল। তাদের উপভোগ্য ক্রিকেটের ভক্ত এখন গোটা দুনিয়া। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে সীমান্তের ওপার থেকে পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটকে।

পাকিস্তান ভারতের ‘চিরশত্রু’ সেই শুরু থেকেই। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক দিয়ে দুই মেরুর এই দুই দেশের কারও মুখে তাই পরস্পরের প্রশংসা শুনলে একটু থমকে দাঁড়াতেই হয়। ইমরান যেখানেই যান, ক্রিকেট সব সময়ই তাঁর পিছু তাড়া করে। সেটিই স্বাভাবিক। পাকিস্তান ক্রিকেটের অবিসংবাদিত নায়ক যে তিনিই ছিলেন। দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ১৯৯২ সালে খেলা ছাড়ার পর থেকেই নিজের ইমেজকে কাজে লাগিয়েছেন রাজনীতিতে। রাজনীতিবিদ হিসেবে নতুন ক্যারিয়ারেও সফল হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে। সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার মধ্যেও ইমরান সুযোগ পেলেই ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন।

বিজ্ঞাপন

এই যেমন সেদিন করাচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসঙ্গ উঠল ক্রিকেটের। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রসঙ্গ উঠতেই সোজাসাপ্টা ইমরান। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বকে এক পাশে সরিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘দুর্দান্ত অবকাঠামোর জন্যই ভারতীয় ক্রিকেট আজ এই জায়গায়। সে কারণেই ক্রিকেট দুনিয়ায় আধিপত্য তাদের।’

এটা সত্যি, ইমরান খান যখন পাকিস্তান দলে খেলতেন, তখন ভারত ভালো দল হলেও তারা ঠিক এখনকার মতো ছিল না। সে সময় ভারত দেশের বাইরে টেস্ট জিততে পারত না। সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও ভারতীয় দলের সাফল্য আটকে ছিল দেশের গণ্ডির মধ্যেই। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকে অবস্থাটা ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করে। নতুন শতাব্দীর শুরুতেই ভারতীয় দল পরিণত হয় ভয়ডরহীন একটা দলে, যারা যেকোনো মাঠে জিততে পারে।

default-image

বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, শক্তিশালী ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো, নতুন প্রতিভার অব্যাহত সরবরাহ আজ এই জায়গায় নিয়ে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেটকে। ইমরান খানও সেটিই বলছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানের ক্রিকেট পিছিয়ে গেছে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ার কারণে, ‘পাকিস্তানের ক্রিকেটে প্রতিভা আছে। কিন্তু অবকাঠামোটা কখনোই সেভাবে গড়ে ওঠেনি বলে আমরা পিছিয়ে গেছি। আমরা ভারতের মতো বিশ্বসেরা দল হতে পারিনি। আমি সব সময়ই বলে এসেছি পাকিস্তানের ক্রিকেট অবকাঠামোটা অনুৎপাদনশীল। ভারত অবকাঠামোর উন্নয়ন করেছে। অথচ পাকিস্তানে কিন্তু প্রতিভার সংখ্যা অনেক বেশি।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির ক্রিকেট বোর্ডেরও প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তাঁর সরকারের সময় পাকিস্তানের ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে, এটা বলতে ভোলেননি ইমরান, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হয়েছে। এখন সময় দরকার। আমি তো মনে করি, আমরা যে ধরনের পদ্ধতিগত সংস্কার এনেছি, তাতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ভালো ফল পাওয়া শুরু করব। আমরাও বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে পরিণত হতে পারব।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন