default-image

ধরুন, ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ধুমধাড়াক্কা পেটাচ্ছেন ব্যাটসম্যান। তাঁর ওয়াগন হুইলটা যেন চাঁদের বুড়ির চরকা! নির্বিকারভাবে পিটিয়ে যাচ্ছেন, বল ছুটছে মাঠের চারদিকে। ক্রমেই কমে আসছে বল-রানের ব্যবধান। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের এমন সংহার রূপে অধিনায়কের মনে হলো, একটা বাড়তি ফিল্ডার থাকলে বড্ড কাজে লাগত।

ব্যাটসম্যানকে আটকাতে এ সময় অধিনায়ক কী করবেন? দ্বাদশ খেলোয়াড়কেও মাঠে নামিয়ে দেবেন? তা কী করে হয়! আইন তো মাঠে ১২জন খেলোয়াড় অনুমোদন করে না। এ সমস্যা সমাধানে গত বছর ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ব্যতিক্রম এক উপায় বের করলেন উস্টারশায়ার অধিনায়ক ড্যারিল মিচেল। নর্দানসের ৩০ বলে দরকার ৬৭ রান। বোলিং আক্রমণে এলেন এক স্পিনার। মিচেল করলেন কী, উইকেটকিপার বেন কক্সকে গ্লাভস ও প্যাড জোড়া খুলে ফেলতে বললেন! কক্সকে নিয়ে এলেন বৃত্তের সীমানায়। এতে বাড়ল একজন ফিল্ডার।

আম্পায়াররা অবশ্য মিচেলের কৌশলে আপত্তি করলেন না। কারণ, নিয়ম বলছে উইকেটরক্ষক চাইলে কিপিং না করে ফিল্ডিংও করতে পারেন। বোলাররাও এমনভাবে বোলিং করলেন, উইকেটরক্ষক ছাড়াও খুব একটা অসুবিধা হয়নি তাঁদের। ওই সময় মাত্র একটি লেগ বাই দিল উস্টারশায়ার। ম্যাচটা জিতেও নিল মিচেলের দল।
ব্যাপারটা আইনের চোখে অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান জস কব মনে করেন, এটা খেলাটার চেতনাবিরোধী। কব যতই নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলুন না কেন, মিচেলের কৌশলটি যথেষ্ট প্রশংসিতই হয়েছে। এ তো রীতিমতো সাহসী এক সিদ্ধান্ত। ভাবুন তো, খেলা চলছে, অথচ স্টাম্পের পেছনে উইকেটরক্ষক নেই! সেটিও পাড়ার ম্যাচ নয়, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটেই!

তবে এমন অবিশ্বাস্য কৌশল আবিষ্কারের কৃতিত্বটা কিন্তু মিচেল পাচ্ছেন না। ভাবনাটা এসেছিল মূলত উস্টারশায়ারের ক্রিকেট পরিচালক ও সাবেক উইকেটরক্ষক স্টিভ রোডসের মাথা থেকে। তিনি ২০১৪ সালে দেখেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনিংকে এ ধরনের একটি কৌশল প্রয়োগ করতে। যদিও ধোনিকে প্যাড-গ্লাভস খুলতে হয়নি। স্পিনারদের সহায়তায় ধোনি একটু পিছিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যাতে অতিরিক্ত ‘ক্যাচার’ হিসেবে কাজ করতে পারেন।
ক্রিকেটে এ ধরনের ঘটনাও একেবারে নতুন নয়।

১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচেও এমনটা ঘটেছিল। উদ্ভাবনী কৌশলের জন্য বিখ্যাত ইংলিশ অধিনায়ক মাইক ব্রিয়ারলি সব ফিল্ডারকে দাঁড় করিয়েছিলেন সীমানার কাছে। বাদ যাননি উইকেটরক্ষক ডেভিড বেয়ারস্টোও। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, ক্যারিবীয়দের বাউন্ডারি ঠেকানো। এ ধরনের ঘটনা রোধেই আসলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতার প্রবর্তন।
কথা হলো, ভবিষ্যতেও কি উইকেটরক্ষক ছাড়া কোনো দলকে এভাবে খেলতে দেখা যাবে? যেতেও পারে। বিশেষ করে ন্যাড়া উইকেটে ব্যাটিং দলের যখন প্রচুর রান প্রয়োজন হবে, এমন দৃশ্য দেখা যেতেও পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0