default-image

তিনি দলে নেই, তবে দলের সঙ্গেই আছেন। যে দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে ছিলেন এত দিন, সেই সম্পর্ক তো এখনই শেষ হওয়ার নয়! জাতীয় দল আর ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে বিশ্বকাপ দলের সবাইকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের ১৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের ধারাবাহিক লেখা
সাব্বিরকে আমি প্রথম দেখি জাতীয় লিগে। যদ্দুর মনে পড়ে, তখন উইকেট আঁকড়ে রাখার চেষ্টা করত। সেই সাব্বির কীভাবে যেন ওয়ানডে বিশেষজ্ঞ হয়ে গেল! পরে তো ওয়ানডে ছাড়িয়ে আরও বেশি হয়ে উঠল টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ!
শুরুতে বলে নিই, এ রকম তকমা লেগে যাওয়া কোনো ক্রিকেটারের জন্য খুব ভালো বিজ্ঞাপন নয়। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শুরুতে। সবাই একটা ধারণা নিয়ে বসে থাকে যেকোনো এক ফরম্যাটেই কার্যকর। আমি নিজেই এর ভুক্তভোগী। ওয়ানডে বিশেষজ্ঞ ধরে বসে না থাকলে হয়তো আমার টেস্ট ক্যারিয়ার অন্য রকম হতে পারত। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়, ওই ক্রিকেটারের নিজেরও নিজের সম্পর্কে ওই ধারণা বদ্ধমূল হতে থাকে। আমি আশা করব, সাব্বির নিজেকে শুধুই সীমিত ওভার ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ হিসেবে মেনে নেয়নি। বয়স এখনো কম, নিজেকে বিকশিত করার সময় অনেক আছে। তবে সেটা ভবিষ্যতের কথা। এ মুহূর্তে আমাদের সীমিত ওভার বিশেষজ্ঞ সাব্বিরকেই সেরা চেহারায় প্রয়োজন!

ঘরোয়া ক্রিকেটে সাব্বির যখনই খেলেছে, সব সময়ই দারুণ কার্যকরী এক ক্রিকেটার। ব্যাটিংয়ে নেমে কিছু রান করে, সব সময়ই বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। বল হাতে ৫-৬ ওভার কাজ চালিয়ে দেয় খুব ভালোভাবে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু দেয়। কাজ চালানোর মতো একজন লেগ স্পিনার থাকা সব সময়ই বোলিং আক্রমণকে বৈচিত্র্যময় করে। কিছুদিন হলো লেগ স্পিনের পাশাপাশি অফ স্পিনও করছে, নিজের বোলিংকেই বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে! আর ফিল্ডিং ওর বরাবরই দুর্দান্ত। সব মিলিয়ে আকর্ষণীয় প্যাকেজ।

default-image


ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে অনেক দিন ধরেই। তবে জাতীয় দলে ঢুকতে এত সময় লাগার মূল কারণ, কখনোই ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব ধারাবাহিক কিছু করতে পারেনি। প্রতি মৌসুমেই দুর্দান্ত ব্যাট করে ২-৩টি ম্যাচ জেতায় দলকে, বড় বড় দলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ একাই জিতিয়েছে বেশ কবার। কিন্তু চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের সঙ্গে দারুণ ধারাবাহিকতা ছিল না। মৌসুম শেষে সবচেয়ে বেশি রানের তালিকায় সেরা দুই-তিনে ছিল না মনে হয় কখনোই। আসলে ওর ব্যাটিংয়ের ধরনের সঙ্গেই মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিকতা ব্যাপারটি যায় না। জাতীয় দলে ঢোকার মৌসুমে খুব দারুণ কিছু করেনি। নির্বাচকেরা হয়তো ওকে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবেই দলে নিয়েছেন।

সাব্বিরের সবচেয়ে বড় গুণ এটিই। মাঠে ওর উচ্ছল, চঞ্চল উপস্থিতি। প্রাণশক্তিতে ভরপুর। ছটফটে, চটপটে। যেটাই করবে, অন্যদের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম, একটু বাড়তি কিছু থাকবে। এ রকম একজন ক্রিকেটার দলের জন্য খুব দরকার। টিম স্পিরিট ভালো থাকে। ফিল্ডিং দিয়ে বিশ্বকাপে সাব্বির আলাদা করে নজর কাড়বেই। আর আসল কাজ যেটি, সেই ব্যাটিংয়েও আশা করি খারাপ করবে না। জিম্বাবুয়ে সিরিজে খানিকটা দেখিয়েছে। ব্রিসবেনে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতেও তো নিজের মতো খেলেছে। আমি আশা করব, সাব্বিরকে এমন সময়ে ব্যাটিংয়ে নামতে হবে যখন নিজের মতো খেলতে পারবে। হয়তো ৩ ওভারে ৩০ বা এমন কিছু, সেটা করার সামর্থ্য ওর আছে।
আর যদি খুব দ্রুত ৪-৫ উইকেট পড়ে যায়, এমন যদি হয় যে সাব্বিরকে ২৫ ওভার খেলতে হবে বা উইকেটে পড়ে থাকতে হবে, সত্যি বলতে সেটি ওর জন্য একটু কঠিনই হবে। তবে বিশ্বকাপে তো সহজ বলে কিছু নেই!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন