বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দাপটের সঙ্গে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। তরুণ একটি দলের এমন পারফরম্যান্স দেখে সাবেক ফাস্ট বোলার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ বলেছেন, ‘এরা এমন এক দল, যারা সঠিক পথেই দারুণ উন্নতি করছে।’

শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আরেক ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। বিখ্যাত এই বিশ্লেষক শ্রীলঙ্কা দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ, ‘শ্রীলঙ্কাকে যেতে দেখে ক্রিকেটের অনেক ভক্তই মন খারাপ করবেন। আসালাঙ্কা ও নিসাঙ্কার মতো প্রতিভাকে খেলতে দেখাটা দারুণ ছিল। সে সঙ্গে রাজাপক্ষে, হাসারাঙ্গা, চামিরা, করুনারত্নে, তিকশানাকে যোগ করুন। ভবিষ্যতের দারুণ ভিত এখানে।’

ম্যাচ শেষেও শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ভোগলে, ‘শ্রীলঙ্কা মাথা উঁচু করেই যাচ্ছে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে যাচ্ছে তারা। নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যতের দল হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা।’ আর গতকালই বাংলাদেশকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভোগলের টুইটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন, ‘দুশ্চিন্তার ব্যাপার হলো, প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা (বাংলাদেশের) তাদের প্রত্যাশিত মানে উঠে আসছে না।’

default-image

বিশ্বকাপের আগে ভয়ংকর ফর্মে ছিল শ্রীলঙ্কা। বছরের শুরু হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সিরিজ হার দিয়ে। ইংল্যান্ডের কাছে হয়েছে ধবলধোলাই। ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জিতলেও সে জয় নিয়ে শ্রীলঙ্কাই সন্তুষ্ট হতে পারেনি। একে তো ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ভারত মূল দল পাঠায়নি। এরপর করোনা হানা দেওয়ায় ভারতের সেই ‘বি’ দল শেষ দুই ম্যাচে জোড়াতালি দিয়ে ১১ জন নামিয়েছিল। বিশ্বকাপের আগে তাই এ বছর ১২ ম্যাচে মাত্র তিন জয় নিয়ে খেলতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

এ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য দল ঘোষণার পরই বোঝা গেছে। দলে ত্রিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় ছিলেন মাত্র দুজন। এর মধ্যে মাত্র একজনই নিয়মিত একাদশে ছিলেন। সাবেক অধিনায়ক হয়েও একাদশে নিয়মিত সুযোগ মেলেনি দীনেশ চান্ডিমালের। তরুণদের ওপর আস্থা রাখাটা দারুণ কাজে দিয়েছে তাদের। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ১৬ উইকেট পেয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে উইকেট পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

default-image

উইকেটের সংখ্যায় এই লেগ স্পিনারের মতো অতটা দাপট দেখাতে পারেননি মহীশ তিকশানা। কিন্তু ৭ উইকেটপ্রাপ্তির সঙ্গে প্রতি ম্যাচেই তাঁর কিপটে বোলিং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তুলছেন লঙ্কানদের। ২৪ বছরের হাসারাঙ্গা ও ২১ বছরের তিকশানাকে ঘিরে আরও এক দশকের পরিকল্পনা করতেই পারে শ্রীলঙ্কা।

ব্যাটিংও তরুণদের গান গাইছে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান এখন পর্যন্ত চারিত আসালাঙ্কার। ২৪ বছর বয়সী ১৪৭ স্ট্রাইক রেটে ২৩১ রান করেছেন। একসময় টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বেছে নেওয়া হলেও পাথুম নিসাঙ্কা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। দুজনই ২৪ বছর বয়সী। দলের অধিনায়ক দাসুন শানাকার বয়স ৩০। ব্যাট হাতে সুযোগ পেলেই উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন। সঠিক সময়ে দারুণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছেন।

পাকিস্তানের বিখ্যাত সাংবাদিক সাজ সাদিক তাই কাল ম্যাচ শেষে লিখেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে অনেক ইতিবাচক কিছু নিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। পাঁচটা ম্যাচ জিতেছে, হেরেছে তিনটি। কিন্তু সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হলো, ওদের তরুণ খেলোয়াড়েরা দারুণ করেছে।’

default-image

ওদিকে বাংলাদেশ দলের সেরা পারফরমারের তালিকায় এবারও সেই পরিচিত মুখগুলো। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি রান তরুণ মোহাম্মদ নাঈমের। কিন্তু তাঁর ১৭৪ রান এসেছে ১১০.৮২ স্ট্রাইক রেটে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬৯ রান ৩৬ বছর বয়সী অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪৪ রান ৩৪ পেরোনো মুশফিকুর রহিমের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬–৭ বছর খেলে ফেলেছেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। ৮ ম্যাচে লিটনের রান ১৩৩, সেটা করেছেন ৯৪.৩২ স্ট্রাইক রেটে। সৌম্য সরকার অবশ্য ১০০ স্ট্রাইক রেট দেখাতে পেরেছেন। সেটা ৪ ইনিংস খেলে ২৭ রান তুলতে সাহায্য করেছে তাঁকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের চিন্তায় যার নাম মাথায় আসে, সেই ২২ বছর বয়সী আফিফ ৮ ম্যাচেই ব্যাট করে তুলেছেন ৫৪ রান। স্ট্রাইক রেট তাঁর নাঈমের চেয়েও কম। আরেক তরুণ মেহেদী হাসানের (৬ ইনিংসে রান ৫৩) ক্ষেত্রেও এটা সত্য।

default-image

বোলিংয়েও সেই পুরোনো চিত্র। সাকিবই সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন, কিপটেমিতেও সাকিবই এগিয়ে। তরুণদের মধ্যে তাসকিন ও শরীফুল একটু আশা দেখিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আট বছর ধরে খেলা তাসকিন বিশ্বকাপে গতিময় বলে ৬ ম্যাচে ৬ উইকেট পেয়েছেন। বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম ১৭.৫০ গড়ে ৪ উইকেট পেয়েছেন। ওভারপ্রতি দিয়েছেন মাত্র ৫.৭৫ রান।

ওদিকে মোস্তাফিজ প্রথম পর্বে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে উইকেট পেলেও সুপার টুয়েলভে হতাশ করেছেন। আইপিএল খেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের সঙ্গে ধাতস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতায়ও ৪ ম্যাচে ওভারপ্রতি ১০ রান দিয়েছেন। ২ উইকেটের প্রতিটিতে ব্যয় করেছেন ৬০ রান।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন