দারুণ ছন্দে আছেন তাসকিন।
দারুণ ছন্দে আছেন তাসকিন।ছবি : এএফপি

ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর চট্টগ্রামের সেই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন হয় তাসকিন আহমেদের। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিন ওয়ানডেতে তিনিই ছিলেন দলের দলের সবচেয়ে ভীতি–জাগানিয়া বোলার। টি-টোয়েন্টি সিরিজে এক ম্যাচে বিশ্রামে থাকলেও বাকি দুই ম্যাচ খেলেছেন। উইকেট শিকারের তালিকায় তাসকিনের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন হয়তো সেভাবে নেই, কিন্তু নেতিবাচকতায় ভরা সেই সফরজুড়ে তাসকিনই ছিলেন সম্ভবত একমাত্র ইতিবাচক ‘আলো’।

সেই ধারা এবার শ্রীলঙ্কা সফরেও বজায় রাখছেন তাসকিন। লাল বল, সম্পূর্ণ পেসবিরুদ্ধ কন্ডিশন—এমন অবস্থায় তাসকিন কেমন করেন, কেমন মানসিকতা দেখান, কতক্ষণ গতি ধরে রাখতে পারেন, উইকেটের সাহায্য না থাকলেও অন্য কোনো দক্ষতা নিয়ে ব্যাটসম্যান আউট করতে পারেন কি না, এসবে কৌতূহলী দৃষ্টি ছিল অনেকের। কারণ সাদা জার্সিতে তাসকিনের সর্বশেষ স্মৃতি মোটেই ভালো ছিল না।

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাসকিন বল করছিলেন ১২৫ থেকে ১৩০ কিলোমিটারের আশপাশে। চোট, অনিয়মে গতি হারিয়ে তাসকিন ছিলেন অসহায়। সেখান থেকে নিজেকে বদলে ফেলতে কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প ছিল না। পরের দুই বছর জাতীয় দলের আশপাশে থাকলেও সুযোগ পাচ্ছিলেন না। নিজেও যে খুব বদলে গিয়েছিলেন তাও না। কিন্তু গত বছর করোনার সময়টায় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের পণ করেন তাসকিন।

২০২০ সালের শুরুতে ওমরা থেকে ফিরেই তাসকিন বুঝেছিলেন, এভাবে চললে একদিন তিনি হারিয়ে যাবেন। এরপর এল করোনাভাইরাস। সময় পেয়ে কঠোর পরিশ্রমে ডুবে পড়েন তাসকিন। সবাই যখন গৃহবন্দী, তখন তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন ফিটনেস ও বোলিং নিয়ে। বাসার গ্যারেজ, সিঁড়ি, ধানমন্ডি চার নম্বর মাঠ, জিমেই কেটেছে তাসকিনের করোনাকাল।

default-image

পরিকল্পনা সাজিয়ে অনুশীলন শুরু করেন। ট্রেনার হিসেবে নিয়েছেন এক বডিবিল্ডারকে। মেদ ঝরিয়ে শক্তি বাড়িয়েছেন। দক্ষতা নিয়ে কাজ করেছেন দিনরাত। আর তাসকিনকে ফিরিয়ে আনার পুরো ছক এঁকেছেন তাঁর প্রিয় কোচ মাহবুব আলী। বোলিং অ্যাকশন সমস্যার সময়ও এই মাহবুবই তাসকিনের সঙ্গে কাজ করেছেন। এবার তিনি কাজ শুরু করেছেন এ পেসারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বাঁক আনার লক্ষ্যে। তাসকিনের জন্য দুই বছর দীর্ঘ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন মাহবুব। জাতীয় দলের দায়িত্বের ফাঁকে ফাঁকে তাসকিনের সঙ্গে কাজ করে যাবেন তিনি।

default-image

কঠোর পরিশ্রমের ফল এখন তাসকিনের চোখের সামনে স্পষ্ট। পাল্লেকেলে টেস্টে তিন পেসারের মধ্যে তাসকিনই সর্বোচ্চ ৩০ ওভার বল করেন। ১১২ রানে নেন ৩ উইকেট। তাসকিন ফিরেছেন, এটি প্রমাণ হয়েছে পাল্লেকেলে টেস্টের তৃতীয় দিন মধ্যাহ্নবিরতির আগে ও পরে মিলিয়ে তাঁর ৭ ওভারের স্পেলেই। এরপর নতুন কিংবা পুরোনো বল—প্রতি স্পেলেই তাসকিনের গতি ১৪০ কিলোমিটারের আশপাশে। নতুন দক্ষতাও নিজের বোলিংয়ে যোগ করেছেন তিনি। নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে নাকল বল করতে দেখা গেছে পাল্লেকেলে টেস্টে। শ্রীলঙ্কার সেঞ্চুরি করা দুই ব্যাটসম্যান দিমুথ করুণারত্নে ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে নাকল বলে ভড়কে দিয়েছেন। আবার পরের বলেই গতি দিয়ে পরাস্ত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এখন থেকে তাসকিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজেকে ফিট রাখা। দারুণ ছন্দে থাকা এই পেসারকে টানা সব সংস্করণে খেলানোর প্রবণতা থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে সেটি হতে হবে তাসকিনের শরীরের সহনশীলতা বুঝেই। তাসকিন আবার চোট-আঘাতে হারিয়ে গেলে ক্ষতি তো বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন