default-image

২৯ অক্টোবর, তারিখটা সাকিব আল হাসানকে মনে রাখতেই হবে। তা কি শুধু আজ নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল বলেই? এটি অবশ্যই বড় কারণ। তবে নিখাদ এক ক্রিকেটীয় কারণেও ২৯ অক্টোবর দিনটা ভোলার কথা নয় সাকিবের।

১১ বছর আগে এই দিনেই যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম ঝোড়ো ইনিংসটি খেলেছিলেন সাকিব। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬৮ বলেই সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি। ওয়ানডেতে যেটি এখনো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা সাকিব গড়েছিলেন মাস দু-এক আগেই। বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেটিও ছিল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। ২০০৯ সালের ১১ আগস্টের সেই ম্যাচে ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন সাকিব। ১০৪ রানের ইনিংস খেলা সাকিব সেদিন ছক্কা মেরেছিলেন ৮টি।

২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবরের ইনিংসটায় অবশ্য ছক্কা বৃষ্টি হয়নি। সাকিব সেদিন মেরেছেন মোটে ৩টি ছক্কা। তবে সাকিবীয় সব শটে ১৫টি চার মেরেছিলেন ওই ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশকে সেদিন ২২০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছিল জিম্বাবুয়ে। রান তাড়ায় কী ঝোড়ো শুরুই না করেছিলেন তামিম ইকবাল ও জুনায়েদ সিদ্দিক। উদ্বোধনী জুটিতে ৩.৪ ওভারেই ৪৪ রান ওঠার পর ছন্দপতন। এল্টন চিগুম্বুরার করা ওভারের পঞ্চম বলে ফিরত ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ১২ বলে ২৩ রান করা জুনায়েদ। এরপর ১৩ বল ও ১২ রানের মধ্যেই ফিরলেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও তামিম ইকবালও। ৫৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুইয়ানরা আশা দেখছিলেন।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরি

জিম্বাবুয়ের আশা অবশ্য উইকেটে এসেই এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন সাকিব। তাঁর মারকাটারি ব্যাটিংয়ে আর কোনো উইকেট না হারিয়েই ২৯.৩ ওভারে ম্যাচটি জিতে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচে যা কিছু সংশয় ছিল সাকিব সেঞ্চুরি পাবেন কিনা তা নিয়েই।
বাংলাদেশের ম্যাচ জিততে যখন ২৮ রান দরকার, সেঞ্চুরি থেকে ২০ রান দূরে সাকিব। চামু চিবাবার করা ২৮তম ওভারেই সংশয়টা মোটামুটি দূর হয়ে যায়। ওই ওভারে পাঁচ বল খেলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৪ রান তোলেন সাকিব। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের তখন দরকার ২০ ওভারে ১২ রান, সেঞ্চুরি পেতে সাকিবের ৬ রান। এক ওভার পরে সমীকরণটা দাঁড়ায় ৭ ও ৩ রানের।

default-image

৩০তম ওভারের দ্বিতীয় বলটাকে থার্ডম্যান দিয়ে সীমানা ছাড়া করেই তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন সাকিব। পরের বলে আরেকটি চার মেরে দলের জয়টাও নিশ্চিত করে সিরিজে সমতা ফেরান অধিনায়ক। সাকিবের ইনিংসটা সেদিন উইকেটের অন্য প্রান্ত থেকে প্রায় দর্শক হিসেবে দেখেছেন ১৬৫ রানের অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে সঙ্গী রকিবুল হাসান। ৭৫ বলে ৩৯ রান করেছিলেন রকিবুল।

ব্যাট হাতে এমন একচ্ছত্র আধিপত্যের আগে বোলিংয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। তবু ম্যাচসেরার পুরস্কারটা হাতে ওঠেনি তাঁর। ম্যাচসেরা হয়েছিলেন আবদুর রাজ্জাক। বাঁহাতি স্পিনার সেদিন ২৯ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0