এক বলে তিন আউট, চায়ের টেবিলে বাউন্ডারি...

বিজ্ঞাপন
default-image

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে অ্যালেক স্টুয়ার্ট অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তাঁকে আরেকটি কারণে মনে রেখেছেন অনেকে। জন্মদিন এলে স্টুয়ার্টকে নিয়ে এ আলোচনা শুরু হয়। কীভাবে এই অসম্ভবটা সম্ভব হলো!

কাল ৫৮ বছরে পা রাখলেন স্টুয়ার্ট। ১৯৬৩ সালের ৮ এপ্রিল জন্মেছিলেন। অর্থাৎ ৮-৪-৬৩। স্টুয়ার্টের টেস্ট ক্যারিয়ারের রানসংখ্যা একবার খেয়াল করেছেন? ৮৪৬৩! কাকতালীয়, ভীষণ কাকতালীয়। এমন আরও একটি ঘটনা আছে। ১৮৭৭ সালে মেলবোর্নে ইতিহাসের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৪৫ রানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ঠিক এর ১০০ বছর পর একই ভেন্যুতে, একই সংস্করণে এমনকি একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একই ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

ক্রিকেটে এমন বিস্ময়জাগানিয়া ঘটনার অভাব নেই। এর মধ্যে কিছু কিছু ভীষণ মজার, অদ্ভুত আর চমকজাগানিয়া। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে ঘরে বসে অলস এ সময়ে ফিরে দেখতে পারেন ক্রিকেটের সব মজার ঘটনা।

১৯৫৪ সালে টন্টনে এক ম্যাচে সমারসেটের হয়ে সেঞ্চুরি করেন লেসলি অ্যাঞ্জেল। সে ম্যাচে মধ্যাহ্নভোজের আগে এক ওভারে চারটি ডেলিভারি ডান হাতে এবং বাকি দুটি ডেলিভারি বাঁ হাতে করেছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি হানিফ মোহাম্মদ। চা-বিরতির পর আরেকটি ওভারে ঠিক একইভাবে বল করেছিলেন তিনি।

default-image

পরের বছর ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এক ম্যাচে ওভারে টানা তিনটি ডেলিভারি তিনটি আলাদা বলে করেছিলেন রবিন মারলার। এর মধ্যে প্রথম দুটি ডেলিভারি মেরে মাঠ ছাড়া করেছিলেন আর জি ব্রডবেন্ট। দুটি বলই হারিয়ে যায়। ১৯৭৯ সালে ক্যালাইসে ফরাসি কাস্টমস অফিসে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন এক ক্রিকেটার। কাস্টমস কর্মকর্তাকে তিনি কোনোভাবেই বোঝাতে পারেননি ওই উইলোখন্ডটির কাজ কী। শেষ পর্যন্ত ১.২৫ ফ্রাঁর বিনিময়ে ব্যাটটি ছাড়াতে হয়েছিল তাঁকে।

আগের দিনের ক্রিকেটে বেশ মজার এক কাণ্ড হতো। একটি স্ট্রোকে ছয়ের বেশি রান হয়েছে বহুবার। তার কারণ বলটা দেখা গেলে তা হারানো ধরা হতো না। এমসিসির ইতিহাস বলছে, অস্ট্রেলিয়ায় একবার এক ম্যাচে ব্যাটসম্যানের স্ট্রোকে বলটা ভাসতে ভাসতে গিয়ে আটকে যায় একটি লম্বা গাছের দুটি ডালের মাঝে। বলটা সবার চোখের সামনেই ছিল কিন্তু কেউ তা মাটিতে নামাতে পারছিল না। ফিল্ডাররা নাকি শেষ পর্যন্ত শটগান দিয়ে গুলি করে বলটা নামিয়ে এনেছিলেন! ব্যাটসম্যানেরা এর মধ্যে প্রান্ত বদল করেছেন ২৮৬বার!

বাউন্ডারি ঠেকাতে ফিল্ডারদের চেষ্টার শেষ থাকে না। পা দিয়ে বল ঠেকাতে গিয়ে কখনো কখনো দুর্ঘটনাবশত বল সীমানাও পার হয়ে যায়। হোভে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাসেক্সের ম্যাচে অবশ্য অন্য এক ঘটনা ঘটেছিল। ক্যারিবিয়ান স্পিনার আলফ ভ্যালেন্টাইনকে স্কয়ার লেগ দিয়ে বেশ জোরের সঙ্গেই ড্রাইভ করেছিলেন সাসেক্সের এন আই থম্পসন। হঠাৎ কালো একটি কুকুর বলটা নিয়ে দৌড়ে গিয়ে সীমানা পার করে দেয়! ফিল্ডার ও আম্পায়াররা মিলে দৌড়েও তাকে ধরতে পারেনি। চার রান পেয়েছিলেন থম্পসন!

ওয়ারউইকশায়ারের সঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাচ। নরম্যান হোর্নার একটি ডেলিভারিতে চার মারেন। কিন্তু আম্পায়ার সিগন্যাল দেন ওটা বাই-চার। চা-বিরতির সময় সেই একই আম্পায়ারের কী যেন মনে হয়েছিল। সিদ্ধান্ত পাল্টে ওই চার রান যোগ করেন হোর্নারের পাশে। চায়ের টেবিলে কোনো ব্যাটসম্যানের বাউন্ডারি মারার ওটাই সম্ভবত প্রথম ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসে।
র‌্যাডলে কলেজের ইতিহাস বলছে, ডব্লিউ.ই.ডব্লিউ কলিন্স এক ডেলিভারিতে তিনজনকে ড্রেসিংরুমে পাঠিয়েছিলেন, ‘প্রথম (স্ট্রাইকে যিনি) শিকারের হাতে বুড়ো আঙুলে বল লেগে প্রচুর রক্ত ঝরছিল। তিনি বের হয়ে যান। ওপাশে তার সঙ্গী অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং পরের ডাউনে যাঁর ব্যাটিংয়ে আসার কথা তিনি আর নামেননি।’

ক্যাচ ধরতে সবারই ভালো লাগে। তবে এমন কিছু ক্যাচ আছে যেগুলো ফিল্ডার অবচেতনভাবেই ধরে ফেলেছেন। ১৯৫৯ সালে কানপুর টেস্টে এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল নিল হার্ভের সঙ্গে। ভারতের নরি কন্ট্রাক্টর পুল করেছিলেন। শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা হার্ভে তৎক্ষণাৎ ঘুরে গিয়ে ‘ডাক’ করেছিলেন। বলটা তাঁর দুই উরুর মাঝে আটকে ছিল। ১৯৬৪ সালে গ্লামারগনের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। বোলারের প্রান্তের আম্পায়ার অস্ট্রেলিয়ার ব্যারি জার্মানকে ক্যাচ আউট দেন। কিন্তু লেগ আম্পায়ার জানান তিনি স্টাম্পড হয়েছেন। স্কোরবোর্ডে লেখা হয়েছিল উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়েছেন।

default-image

ক্রিকেটে দ্রুততম ‘পেয়ার’—দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট—কোনটি? ইতিহাস বলছে গ্লামারগনের পিটার জাজ এই রেকর্ডের (!) মালিক। কার্ডিফে ভারতের বিপক্ষে তাঁকে প্রথম বলেই আউট করেছিলেন চান্দু সারওয়াতে। ফলো অনে পড়েছিল কাউন্টি দলটি। সময় বাঁচাতে জাজ আর মাঠ ছাড়েননি। সতীর্থ জে.সি ক্লে-কে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেন করেন জাজ। এবারও সারওয়াতের লেগ স্পিনে জাজ আউট প্রথম বলে! পেয়ার তো পেয়ার একেবারে কিং পেয়ার!

মজার ঘটনাটা জানিয়েছিল ‘ডেইলি মিরর’। ১৯৬৪ সালের ২৫ মে কেন্টের মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্টিন ওয়াল্টার লিমিটেডের ছেলেদের একটি দল খেলতে নেমেছিল। মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যে দলটি অলআউট হয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান না তুলেই! এই দলের সচিব থেকে স্কোরারের দায়িত্ব পালন করতেন ২৮ বছর বয়সী নারী জ্যাঁ দে ভেরে। এই ম্যাচের পর তিনি বলেছিলেন, তাঁর স্বামী যদি বাসায় বাচ্চা-কাচ্চা দেখাশোনা করেন তাহলে তিনি কোচের দায়িত্ব নিতে চান, খেলোয়াড়দের নেট অনুশীলন দেখভাল করবেন।

আউট হয়ে ক্ষোভে ব্যাট ছুড়ে মারতে দেখা গেছে অনেককেই। জেমস ব্রডব্রিজ অবশ্য তেমন কিছু করেননি। ১৮২৯ সালে এক ম্যাচে ওয়াইড বল খেলতে ব্যাটটা ছুড়ে মেরেছিলেন তিনি। পরিণতি, ক্যাচ দেন পয়েন্টে। আরেকটি মজার ঘটনা ঘটেছিল ১৯৬৭ সালের ১০ আগস্ট। এডেনের ভেঞ্চার্স ক্রিকেট ক্লাবের এক ম্যাচের স্কোরকার্ডে লেখা হয়েছিল, খেলা ১০ মিনিট দেরিতে শুরু হয়েছে মর্টার হামলার জন্য।

তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো, টুইটার, দ্য ক্রিকেটার, গার্ডিয়ান

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন