এটাই শুধু বাকি ছিল সাকিবের!

বিজ্ঞাপন
default-image
>সাকিব আল হাসান ব্যাটিং-বোলিং—সব বিভাগে রাঙিয়ে চলেছেন প্রতিটি ম্যাচে। ধারাবাহিক অসাধারণ ব্যাটিংয়ের পর আজ দুর্দান্ত বোলিং—বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো বোলার হিসেবেই শুধু ৫ উইকেট পাননি, ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংটাই করেছেন সাকিব

লন্ডন, কার্ডিফ, ব্রিস্টল, টন্টন, নটিংহাম হয়ে বাংলাদেশ টাইটানিকের ঘাট সাউদাম্পটনে নোঙর করেছে কি ডুবতে? কাল আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব হুমকি দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে নিয়ে ডুববেন! তিনি মাশরাফিদের ডোবাতে চেয়েছিলেন স্পিনের জাল বিছিয়ে। অথচ সে জালেই আটকা পড়ে আজ হ্যাম্পশায়ার বোলে হাঁসফাঁস করল আফগানিস্তান।

আফগানিস্তানের রশিদ খান আছেন, মুজিব উর রহমান আছেন; আছেন মোহাম্মদ নবী—আফগান স্পিনত্রয়ী বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খেলবেন, অনেক কথাই হলো ম্যাচটার আগে। ভারতের বিপক্ষে ভালো করায় কথাটা এত জোরালো হলো, প্রশ্ন উঠল, মন্থর এই উইকেটে আফগানিস্তানের স্পিনারদের সামলাতে পারবে তো বাংলাদেশ?

সাকিব আল হাসান হয়তো এসব শুনে মুচকি হেসেছেন। ‘এত স্পিন-স্পিন করছেন, আমার বল ওরা সামলাতে পারবে তো?’—ক্রিকেটীয় সৌজন্য মেনে প্রশ্নটা তিনি করেননি। কিন্তু আজ আফগান ব্যাটসম্যানদের যেভাবে নাচিয়ে ছাড়লেন, তাতে অমন প্রশ্ন করলে কেউ কিছু মনেও করত না নিশ্চিত!

হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেটের এ মাঠটা অনেক বড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়ার হিটারদেরও এই মাঠে তুলে মারতে বেগ পেতে হবে। দৌলত জারদানের যে বলটা মুশফিকুর রহিমের এগিয়ে গিয়ে লং অন দিয়ে বিশাল ছক্কা মারলেন, সেটি সীমানা পেরোতে ৮০ মিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। সাকিব এটি জানেন বলেই মাঠের আয়তনটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন, ফ্লাইটের কারুকাজ দেখিয়েছেন। রহমত শাহ বলের ফ্লাইট আর স্কিড না বুঝে পুল করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ হয়েছেন তামিম ইকবালের। সাকিব আসগর আফগানকেও ফিরিয়েছেন একই ফাঁদে ফেলে।

গুলবদিনের আউটে একটু মাশরাফি বিন মুর্তজারও ভূমিকা আছে। শর্ট মিড অফে লিটন দাসকে দাঁড় করিয়ে যে ফাঁদ পাতা হয়েছিল, সেটিই পা দিয়েছেন আফগান অধিনায়ক। মোহাম্মদ নবীকে সাকিব হারিয়ে দিয়েছেন শুধুই স্কিলে। প্রথম বলটা ঠিকঠাক রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে পেরেছিলেন নবী। যে বলে বোল্ড হয়েছেন, সেটিরও লেংথ একই ছিল। পার্থক্য হচ্ছে, সাকিব এবার বলটা একটু ভেতরে ঢুকিয়েছেন। তাতেই ব্যাট-প্যাড গলে নবীর বেল পড়ে গেছে!

প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ৫ উইকেটের কীর্তি গড়া, ক্যারিয়ারসেরা বোলিং—স্বপ্নের মতো এক বোলিং সাকিবের। এই বিশ্বকাপে এটা করাই তাঁর বাকি ছিল। ধারাবাহিক দুর্দান্ত ব্যাটিং করছেন। ২ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটিতে ৪৭৬ রান করে আবারও শীর্ষ রানসংগ্রাহকের চেয়ারটা নিজের অধিকারে নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ের মতো অসাধারণ বোলিং তাঁর কাছে পাওনা হয়ে গিয়েছিল, সেটিও দেখা গেল আজ সাউদাম্পটনে। আজ কত রেকর্ড ধরা দিল তাঁর কাছে, ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা বোলিং, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছেন ১ হাজার রান পূর্ণ। শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নয়, সাকিবের ছবি আঁকা হলো আরও বড় ক্যানভাসে ।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অলরাউন্ডার হিসেবে ১ হাজার রান আর ৩০ উইকেট পাওয়ার কীর্তিটা তাঁর। আর যুবরাজ সিংয়ের পর দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপের ম্যাচে করেছেন ফিফটি আর বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এ বিশ্বকাপের সেরা বোলিং ফিগারও এখন তাঁর।

অতি উজ্জ্বল এই সাকিবকে দেখে প্রেসবক্সে একজন বলে উঠলেন, টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটা এখনই তাঁকে দিয়ে দিলেই তো হয়!

বোলার

বোলিং পরিসংখ্যান

প্রতিপক্ষ

বিশ্বকাপ

সাকিব আল হাসান

২৯/৫ (১০)

আফগানিস্তান

২০১৯

শফিউল ইসলাম

২১/৪ (৮.০)

আয়ারল্যান্ড

২০১১

মাশরাফি বিন মর্তুজা

৩৮/৪ (৯.৩)

ভারত

২০০৭

রুবেল হোসেন

৫৩/৪ (৯.৩)

ইংল্যান্ড

২০১৫

সাকিব আল হাসান

৫৫/৪ (৮.৫)

নিউজিল্যান্ড

২০১৫

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন