default-image

লিস্ট এ–তে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চের রেকর্ডও আজ ভেঙে যাবে বলে মনে হচ্ছিল। ৩৯তম ওভারেই ১৮০ পেরিয়ে গেছেন এনামুল হক। বাকি ৯ ওভারে মাত্র ২৮ রান করলেই চলত তাঁর। লিস্ট এ–তে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংসটি সৌম্য সরকারের। ২০১৯ বিশ্বকাপে বিশ্বকাপের আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হঠাৎ ঝড় তুলেছিলেন সৌম্য সরকার। শেখ জামাল ধানমন্ডির দেওয়া ৩১৮ রানের লক্ষ্যে উদ্বোধনী জুটিতেই ৩১২ রান তুলেছিল আবাহনী।

এর পেছনে সৌম্যের ২০৮ রানের অপরাজিত এক ইনিংস ভূমিকা রেখেছিল। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম কোনো ব্যাটসম্যানের দ্বিশতক ছিল সেটি। সেটাই একমাত্র হয়ে আছে। আজ সে রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু পায়েলের ফুল লেংথের এক বল সে সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছে।

শাইনপুকুরের পেসারের বলেই তাঁর বিদায় এনামুলের ইনিংসকে একদিক থেকে পূর্ণতাও দিয়েছে। এনামুল ঝড়ের শুরুটাও যে আজ পায়েলের বলেই হয়েছে। ইনিংসের প্রথম বলেই অফ স্টাম্পের বাইরে খাটো লেংথের বল করেছিলেন পায়েল। পুল করে চার মেরেছেন এনামুল পরের বল স্টাম্পেই ছিল, কিন্তু এবার বল আরও খাটো লেংথে ছিল। এবারের পুল আরও দুর্দান্ত হলো। এবার মিড উইকেট দিয়ে। ইনিংসের শুরু টানা দুই চারে।

পায়ের পরের ওভারের প্রথম বলেও স্ট্রাইকে এনামুল। এবারও শর্ট বল। আবার পুল এনামুলের। এবার আর সীমানা ছাড়ার আগে বল মাটির স্পর্শ পেল না, ছক্কা। ওভারের শেষ বলে একস্ট্রা কাভার দিয়ে চার। শুধু যে পেসারদের বিপক্ষে দাপট এমন নয়, প্রতিপক্ষ উপায় না দেখে স্পিনার ডেকে এনেও থামাতে পারেননি এনামুলকে। ইনিংসের দশম ওভারেই স্ট্রেট ড্রাইভে দারুণ এক চারে অর্ধশতক হয়ে গেল এই ওপেনারের। ৩৭ বলের মধ্যে ৭ চার ও ২ ছক্কা হয়ে গেছে এনামুলের।

default-image

শাইনপুকুরের কোনো স্পিনারকে থিতু হতে দেননি এনামুল। ওপেনিং সঙ্গী শাহাদাত দিপুও ছিলেন আক্রমণাত্মক। ৪৭ বলে ৪৭ রান করে সিকান্দার রাজার বলে ফিরেছেন দিপু। ২২ ওভারে যখন প্রথম উইকেটের পতন ঘটল, তখন প্রাইমের রান ১৬২। ওদিকে থামার কোনো লক্ষণ নেই এনামুলের। ৯৩ রানে থেকেও বিশাল ছক্কা মেরেছেন। এরপর নড়বড়ে নিরানব্বইয়ের দুশ্চিন্তায় টানা তিন ডট বল। ৭৬তম বলে কভারে ঠেলেই শতকের দেখা পেয়ে গেলেন।

পরের পঞ্চাশ একটু ধীরগতিতে এগিয়েছেন। ৭৬ রানের জুটি গড়ে অভিমন্যু (৩০) ফিরে গেছেন। কিন্তু এর মধ্যেই ১৫০ হয়ে গেছে এনামুলের। সেটাও দারুণ এক শটে। ১২০তম বলে একস্ট্রা কাভার দিয়ে চমৎকার শটে দেড় পেরিয়ে আবার আক্রমণাত্মক হয়েছেন এনামুল। মিঠুনও নেমেই আগ্রাসন দেখিয়েছেন। ৩৪ বলে ৪৮ রানের জুটিটা শেষ হয়েছে এনামুলের বিদায়ে। ১৮ চার ও ৮ ছক্কার ইনিংসটা থেমেছে ইনিংসের ৯ ওভার বাকি থাকতে।

এরপরের কাজটা নাসির বুঝে নিয়েছেন। ২৬ বলে ৩৮ রান করে মিঠুন ৪৫তম ওভারে ফিরেছেন। কিন্তু ৩২ বলে ৩ চার ও ৫ ছকায় ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন নাসির।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন