default-image

ডেল স্টেইন যেমন মানতেই রাজি নন। ১৯৯২, ১৯৯৬ বা ১৯৯৯ বিশ্বকাপের দল কী করেছে বা করতে পারেনি, সেটির কর্মফলে এই প্রজন্মের ক্রিকেটারদেরও কেন চোকার বলা হবে! মাথায় ঢোকে না স্টেইনের। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অনেকেরও একই কথা মনে হতে পারে। বিশ্বকাপের লড়াইয়ে ভারত এগিয়ে ৫-০-তে। কিন্তু প্রথমবার যাঁরা খেলেছেন, তাঁরা তো শুরু করছেন ০-০ থেকেই!
তবে স্টেইনের আপত্তিও যেমন ধোপে টেকে না, পাকিস্তানের নবীন ক্রিকেটাররা ওসব বললেও লাভ নেই। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে ‘৫-০’ তাই বারবার ঘুরেফিরে আসেই। শুধু ওয়ানডে বিশ্বকাপই বা কেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চারবার খেলে ভারতকে একবারও হারাতে পারেনি পাকিস্তান। এবার পুরোনোরা চান এই ইতিহাস বদলে দিতে, নতুনরা চান নতুন ইতিহাস গড়ে যাত্রা শুরু করতে।
গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারের পর মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্য পাকিস্তানে মুণ্ডুপাত হয়েছিল মিসবাহ-উল-হকের। সময়ের পরিক্রমায় সেই তিনিই এবার অধিনায়ক। দেশবাসীকে শোনাচ্ছেন আশার কথা, ‘আমি জানি না আগের দলগুলো কেন পারেনি। হয়তো ওই ম্যাচের চাপ সামলাতে পারেনি। এবার আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ইতিহাস বদলে দিতে।’
১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বকাপের ভারতের কাছে হেরেছেন শহীদ আফ্রিদি, গত বিশ্বকাপের হারে ছিলেন অধিনায়ক। ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন ৬৬ ওয়ানডে। ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য শেষবারের মতো ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে আফ্রিদির কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাস, ‘আমার স্থির বিশ্বাস, এবার আমরা ইতিহাস বদলে দিয়ে ভারতকে হারাব। জিততে পারলে দলের মনোবল উঠে যাবে অন্য উচ্চতায়, সামনের পথচলায় যেটি অনুপ্রেরণা জোগাবে প্রবল।’ পেছনে তাকিয়েই শুধু নন, ইউনিস খান ম্যাচটি জিততে চান ভবিষ্যৎ ভেবেও, ‘প্রথম ম্যাচেই ভারতকে হারাতে পারলে এর চেয়ে আদর্শ কিছু হয় না। পরের সব ম্যাচের জন্য সেটি হবে দারুণ অনুপ্রেরণা।’
প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন মোহাম্মদ ইরফান। পাক পেস আক্রমণের নেতাও তিনি। ভারতের বিপক্ষে ৪ ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৩ উইকেট। নিজ সামর্থ্যে তবু প্রবল আস্থা ৭ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা বাঁহাতি পেসারের, ‘আমি জানি আমার কাছে দলের প্রত্যাশা কতটা। ভারতের বিপক্ষে আগেও পারফর্মও করেছি, এবারও পারব বলে বিশ্বাস।’ সোহেব মাকসুদ ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন একটিই ম্যাচ। গত এশিয়া কাপে মিরপুরে সেই ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছিল ১ উইকেটে, মাকসুদ করেছিলেন ৩৮ রান। পাকিস্তানের ফিনিশার হওয়ার পথে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা ব্যাটসম্যানের লক্ষ্য এবার আরও বড়, ‘দারুণ হয় যদি আমরা ভারতকে হারাতে পারি আর আমি জয়ে অবদান রাখি সেঞ্চুরি করে!’
গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন ওয়াহাব রিয়াজ। দলের হারে পরে মিলিয়ে গিয়েছিল সেই আনন্দ। এবার এই বাঁহাতি পেসারের চাওয়া উপভোগের আনন্দ, ‘গত বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভালো স্মৃতি আছে আমার, ৫ উইকেট পেয়েছিলাম। কিন্তু দল হেরে গিয়েছিল, নিজের সাফল্য উদ্যাপনই করতে পারিনি। এবারও বল হাতে তেমন কিছু করতে চাই। সতীর্থদের কাছে অনুরোধ, এবার যেন আমার ভালো বোলিং ভেস্তে না যায়!’
অনুরোধ তো নিমিত্তমাত্র। নতুন ইতিহাস গড়ার তাড়না তো পাকিস্তানের সবার এমনিতেই আছে! এএফপি, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন