default-image

‘বাংলাদেশ টেস্টে অতি রক্ষণাত্মক’। কথাটা শুনতে শুনতে বোধ হয় কান পচে গেছে তাঁর। চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে ​চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে তাই এক রকম ঘোষণার সুরেই যেন বলে দিলেন, এবার আক্রমণাত্মক খেলবে তাঁর দল।

টানা তিন দিন বর্ষণের পর চট্টগ্রামের আকাশে রোদের দেখো মিলেছে আজ। নতুন দিন শুরুর আহ্বান জানাচ্ছে এমন আকাশ। ওয়ানডে সিরিজের সুখস্মৃতি নিয়ে বাংলাদেশ দলও নামছে নতুন মিশনে, নতুন অর্জনের প্রত্যাশায়। এবার লক্ষ্য, টেস্টে সাফল্য পাওয়া। টেস্টে ভালো করতে আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ করতে চান কোচও।
ওয়ানডেতে নিয়মিত সাফল্য পাচ্ছে বাংলাদেশ। টানা তিনটি শীর্ষ দলকে সিরিজে হারিয়েছে। কিন্তু টেস্টে ভালো দল হয়ে ওঠা এখনো যেন অনেক দূরের পথ। অতীত রেকর্ড তো আছেই; এ বছর খেলা তিন টেস্টের একটিতেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করেছিল। কিন্তু মিরপুরেই আবার বড় ব্যবধানে হার। জুনে ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র হয়েছিল হয়েছিল বৃষ্টির বদান্যতায়। প্রতিটি ম্যাচেই রানের পাহাড় গড়েছিল প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশের বোলিং ছিল বাবু রাম সাপুড়ের সাপের মতো নির্বিষ।
এবার টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ কিছু উপহার দিতে পারবে বাংলাদেশ? হাথুরু বললেন, ‘আমাদের মানসিকতা থাকবে দারুণ ছন্দে খেলা। নিজেদের ওপর আস্থা রেখে আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাই। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এমন মুহূর্তগুলো বিচক্ষণতার সঙ্গে সামলাতে হবে। আমি টেস্ট দলকে নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী। এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে যায় এমন দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে আমাদের দলে। মুমিনুল আসায় ভারসাম্য এসেছে টপ অর্ডারে। ইমরুল কায়েসও রান পেয়েছে সর্বশেষ সিরিজে।’
ক্রিকেটের বড় সংস্করণে বাংলাদেশ খুব একটা ভালো নয়, এ ধারণাটা আপাতত সরিয়ে রেখে টেস্টে ভালো করার কথাই বলতে চাইলেন হাথুরু, ‘যথার্থ ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াটা জরুরি। যদি আমরা ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারি, তবে টেস্টেও ভালো করতে পারব। আগে কী হয়েছে, সেগুলোর নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না। আমরা একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল পেয়েছি, যেটি প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে সামর্থ্য রাখে। টেস্টেও আমাদের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’
টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে যোগ হয়েছেন ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডারের মতো দারুণ কিছু বোলার। তবে হাথুরু মনে করেন, টেস্টে বড় চ্যালেঞ্জে অপেক্ষা করছে প্রোটিয়া বোলারদের, ‘বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হবে তাদের বোলারদের। টেস্টে বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণ রয়েছে তাদের। তাদের ফাস্ট বোলারদের আমাদের ব্যাটসম্যানরা কীভাবে সামলায়, সেটির ওপর অনেকটা নির্ভর করছে সাফল্য।’
‘আক্রমণাত্মক’ হওয়ার আগেও ঠারেঠোরে বললেও শেষে একাদশে আবিষ্কার করা গেছে আট ব্যাটসম্যান। টেস্টে প্রতি পক্ষের ২০ উইকেট নিতে গেলে ৫ স্পেশালিস্ট বোলারের বিকল্প কি আছে? তবে কি বাংলাদেশ এবার আর আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলবে না? উত্তরটা আগামীকালের জন্যই তোলা থাকল। এটাও যেমন এখনো নিশ্চিত নয়, আগামীকালই টেস্ট অভিষেক হয়ে যাচ্ছে কিনা মুস্তাফিজুর রহমানের। কোচ অবশ্য ইতিবাচক ইঙ্গিতই দিলেন। তাঁর মনে হচ্ছে, পাঁচ দিনের ক্রিকেটের জন্য মুস্তাফিজ তৈরি।

অারও পড়ুন :-

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন