এভাবেও টেস্ট জেতা যায়—দেখিয়ে দিচ্ছে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন রুট ও বেয়ারস্টোছবি: রয়টার্স

চাইলে কাল জো রুটের রিভার্স সুইপকে রূপক হিসেবে ধরতে পারেন। টেস্টে যখন টি–টোয়েন্টির শট, তখন তো একটু অবাক লাগবেই। কিন্তু এই ইংল্যান্ডে যেভাবে খেলছে তাতে অবাক হওয়ার সুযোগ খুব কমই।

রুটের জায়গায় অধিনায়ক হলেন বেন স্টোকস। ক্রিস সিলভারউডের জায়গায় কোচ হলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তখন গুঞ্জন উঠেছিল, স্টোকস-ম্যাককালামের এই ইংল্যান্ড টেস্ট খেলার ধরন পাল্টে দিতে পারে, ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ঠিক যেভাবে ওয়ানডেতে খেলার ধরন খোলনলচে পাল্টে ফেলেছিল এউইন মরগানের ইংল্যান্ড।

স্টোকস ও ম্যাককালাম জুটি নিজেদের প্রথম মিশনেই ধারনাটা দিয়ে দিলেন—টেস্ট ক্রিকেটকে পাল্টে ফেলার ‘সাইনবোর্ড’ হতে পারে এই ইংল্যান্ড!

আরও পড়ুন

কীভাবে? লর্ডসে প্রথম টেস্ট ৫ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। সে ম্যাচে মার মার কাট কাট ইংল্যান্ডকে সেভাবে দেখা যায়নি। লো-স্কোরিং ম্যাচে ২৭৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে রুটের তুলে নেওয়া শতক ছিল সত্তর স্ট্রাইক রেটের কাছাকাছি। পরিবর্তনটা স্পষ্ট বোঝা গেছে ট্রেন্ট ব্রিজে পরের টেস্টে। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে রুটের শতকে স্ট্রাইক রেট ছিল ৮৩.৪১। স্টোকসের ৪৬ রানে স্ট্রাইক রেট ১৩৯.৩৯।

দলের সেরা দুই ক্রিকেটার যেন সামনে থেকে দেখিয়ে দেন, এভাবেও টেস্ট খেলা সম্ভব। আর এই দেখিয়ে দেওয়ার কাজটা ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে গিয়ে দারুণভাবে করেন জনি বেয়ারস্টো। ১৪৭ স্ট্রাইকরেটে তাঁর ১৩৬ রানের ইনিংসে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নজির গড়ে ইংল্যান্ড। সেখানে অধিনায়ক স্টোকসের ১০৭ স্ট্রাইক রেটে ৭৫ রানের ইনিংসটিও ছিল মহামূল্য।

আরও পড়ুন
ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করে অর্ধশতক তুলে নেন বেয়ারস্টো
ছবি: রয়টার্স

হেডিংলিতে আজ অন্তত মারমার কাটকাট ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন ছিল না। জয়ের জন্য ২৯৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড কাল ২ উইকেটে ১৮৩ রানে চতুর্থ দিন পার করার পরই বোঝা গিয়েছে, অলৌকিক কিছু না ঘটলে তিন ম্যাচের সিরিজ আজই ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেবে ইংল্যান্ড। ঘটেছেও ঠিক তাই। যেখানে রুটের ৬৮.৮০ স্ট্রাইকরেটে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি যদি হয় দলের হাল ধরার পরিচায়ক, অন্য প্রান্তে তাহলে নিশ্চিতভাবেই ‘স্পিডবোট’ চালিয়েছেন বেয়ারস্টো—৪৪ বলে অপরাজিত ৭১। স্ট্রাইকরেট ১৬১.৩৬!

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

নিজের ঘরের মাঠে বেয়ারস্টোর ইনিংসটি নিশ্চিতভাবেই টেস্টে পাল্টে যাওয়া ইংল্যান্ডের ‘সাইনবোর্ড’ হয়ে থাকবে। এর পাশাপাশি ওলি পোপের কথা না বললে অন্যায়ই হয়। টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫১.২২ স্ট্রাইকরেটের এই ব্যাটসম্যান ৮২ রান করেছেন ৭৫.৮২ স্ট্রাইকরেটে। ইংল্যান্ডও ৭ উইকেটের জয়ে টেস্টে নিজেদের রেকর্ড বইয়ের একটি জায়গা ওলট-পালট করেছে। টেস্টে এটি ইংল্যান্ডের সপ্তম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নজির। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে ১টি করে উইকেট পেয়েছেন মাইকেল ব্রেসওয়েল ও টিম সাউদি।

হারের পর মাঠ ছাড়ছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন
ছবি: এএফপি

জয়ের পর এই পাল্টে যাওয়ার কথা সরাসরি বলেননি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক জো রুট। কিন্তু কথায় ইঙ্গিতটা বোঝা গেল, ‘মনে হচ্ছিল, ৫০ ওভারের ম্যাচ। সে (বেয়ারস্টো) বেশ ভালো মেরে খেলেছে। অসাধারণ এক খেলোয়াড়। এই সিরিজে অন্যতম সেরা বিষয় হলো, খেলোয়াড়েরা কীভাবে খেলবে সে ব্যাপারে ক্রমশ আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। আসলে উপভোগ করতে না পারলে খেলে কি লাভ? আমার মনে হয়, গত কয়েক সপ্তাহে দল যেভাবে খেলেছে তাতে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট এবং পরের সিরিজ নিয়েও বেনের (স্টোকস) যে পরিকল্পনা আছে, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।’

ভারত, সাবধান! টেস্টের এই ইংল্যান্ড কিন্তু ভয়ংকর!

আরও পড়ুন