বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড জয় নিয়ে টুইটারে চলছে বন্দনা। এ মুহূর্তে সামাজিক এ যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি এই জয়। গোটা ক্রিকেট দুনিয়াই যেন উদ্‌যাপন করছে বাংলাদেশের এই জয়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, ক্রিকেট সাংবাদিক তাঁদের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে এই টেস্ট নিয়ে পোস্ট করে যাচ্ছেন একের পর এক তথ্য, মতামত। কিন্তু যাদের সবচেয়ে আগে উদ্‌যাপন করার কথা, তাদেরই থাকল না কোনো হেলদোল। অবস্থা যদি এই হয়, তাহলে বিসিবির অফিশিয়াল টুইটার রাখার কী দরকার, দেশ-বিদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা সে প্রশ্নও করছেন।

বাংলাদেশ ঐতিহাসিক এ জয়ের সুবাস পাচ্ছিল গতকাল থেকেই। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের চতুর্থ দিন শেষ বিকেলেই বাংলাদেশ জয়ের পথে এগিয়ে গিয়েছিল অনেকটা পথ। পঞ্চম দিন সকালে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং শুরু করেছিল মাত্র ১৭ রান এগিয়ে থেকে। এমন একটা অবস্থায় বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই যে বেশি, সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ ছিলেন প্রায় সবাই।

default-image

বাংলাদেশ জিতে যেতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে অনেক ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব এমন ভবিষ্যদ্বাণীই করছিলেন। দেশের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরাও নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন ভোরে উঠে এ আনন্দময় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে।


কিন্তু নিজেদের দেশের ক্রিকেট বোর্ডের টুইটার হ্যান্ডলই জয় নিয়ে পোস্ট দিতে সবচেয়ে দেরি করল। শুধু তা–ই নয়, পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের গর্ব করার মতো ছোট-বড় কত বিষয়ই তো আছে। প্রথম ইনিংসে বল হাতে শরীফুল, মিরাজদের সাফল্য। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত পেস চতুষ্টয়ের বিপক্ষে মাহমুদুল, নাজমুল, লিটন, মুমিনুল আর মিরাজদের চোয়ালবদ্ধ লড়াই। তৃতীয় ইনিংসে ইবাদতের গতির তোপে কিউইদের উড়ে যাওয়া।

বিসিবির টুইটার হ্যান্ডলে এই পাঁচ দিন চোখ বোলালে এসব ঘটনার কোনোটারই ছাপ পাওয়া যাবে না। দিন শেষে একেকটা গ্রাফিকস দেওয়ার মাধ্যমে স্কোরকার্ড পোস্ট করা আর যেকোনো একজন ক্রিকেটারের বক্তব্যসর্বস্ব ভিডিও, ব্যস, বিসিবি টুইটারের দায়িত্ব শেষ যেন এখানেই।

default-image

ওদিকে যে দেশ বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে টেস্ট হারছে, তুলনামূলক বিচারে তাদের টুইটার অ্যাকাউন্ট যথেষ্ট সরব। নিজেরা পোস্ট করে হোক বা অন্যের টুইট রিটুইট করে হোক, টুইটারে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ‘ব্ল্যাকক্যাপস’ ম্যাচের প্রতিটি উইকেট, ক্রিকেটারদের প্রতিটি অর্জনের পোস্ট করেছে আলাদা আলাদাভাবে। এ যুগে টুইটার-ফেসবুক যেখানে প্রায় সব ক্রীড়া সংস্থা ও ক্লাবের যোগাযোগ ও প্রচারণার বড় অনুষঙ্গ, সেখানে এমন একটা মুহূর্ত বিসিবির টুইটার হ্যান্ডলের নীরবতা, তাদের পেশাদারত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

default-image

বিসিবির টুইটার ও ফেসবুক পেজ নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন আছে। সময়ের পোস্ট সময়ে না দেওয়া, ভুলভাল তথ্যের সন্নিবেশন, ভুল ছবি বাছাই ও সর্বোপরি নিষ্ক্রিয়তা—বিসিবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে আছে এন্তার অভিযোগ। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচের পর বাংলাদেশের অভিষিক্ত ক্রিকেটার শহিদুলের ছবি দিতে গিয়ে বিতর্কিত কাণ্ড করে বসেছিল তারা। সাকিব আল হাসানের ২০১৯ বিশ্বকাপের ছবির গলা কেটে রকিবুলের গলা বসিয়ে পোস্ট করে ক্রিকেটপ্রেমীদের তীব্র রোষের সম্মুখীন হয় বিসিবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

সেটির রেশ না কাটতেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গৌরবময় ও আনন্দঘন মুহূর্তের পোস্ট সময়মতো না দিয়ে ঘুমিয়ে থাকল তারা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে বিসিবির ঘুম কবে ভাঙবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এ অর্জনের মধ্যেই এ প্রশ্ন উঠছে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন