বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উইকেটগুলো বাংলাদেশ যেভাবে হারিয়েছে, তাতে অবশ্য জিম্বাবুয়ের বোলার বা হারারের কন্ডিশনের চেয়ে ব্যাটসম্যানদের ভুলের ‘অবদান’ই বেশি। তামিম ইকবাল কট বিহাইন্ড হয়েছেন শরীরের খুব কাছে চলে আসা বলে কাট করতে গিয়ে।

মোসাদ্দেক, মিঠুন আবার ব্যাট চালিয়েছেন বলের সঙ্গে যতটা সম্ভব দূরত্ব রেখে। ফুটওয়ার্ক বলতে কিছুই ছিল না। এই তিনটি ক্যাচই গেছে উইকেটকিপার রেজিস চাকাভার হাতে। আর কাভারে ক্যাচ দেওয়া সাকিব তো যেন শুরু থেকেই ভুগছিলেন অস্থিরতায়!

জিম্বাবুয়ে অনেক দিন পর পেল এমন বাংলাদেশকে। ওয়াডেতে দুই দলের গত ১৬ সাক্ষাতের প্রতিটিতেই তারা মাঠ ছেড়েছে হারের জ্বালা নিয়ে। একসময় যে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের জয়টাও ছিল অবধারিত, চোখের সামনে দিয়ে সেই বাংলাদেশকে তরতর করে এগিয়ে যেতে দেখা, তাদের বিপক্ষেই একটার পর একটা হারের যন্ত্রণা সইতে হওয়া কষ্টকর বৈকি।

২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুলাই। প্রায় সাত বছর ধরে এ রকমই একটা সময়ের অপেক্ষায় ছিল জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ দল আবারও তাদের দেশে খেলতে আসবে, অবসান হবে ওয়ানডেতে দলটার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের টানা ব্যর্থতার।

এবারের আগে বাংলাদেশ দল সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফর করেছে ২০১৩ সালের এপ্রিল-মে মাসে। হারারের এ মাঠেই দুই টেস্টের সিরিজটা ১-১ ড্র হওয়ার পর বুলাওয়েতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে।

এরপর থেকেই ঘরের মাঠে আরও একবার বাংলাদেশকে পাওয়ার অপেক্ষার শুরু আফ্রিকার দলটির। মাঝের এই সাত বছরে বাংলাদেশে গিয়ে চারটি ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে খেলেছে ওই ১৬টি ওয়ানডে। এই সময়ে বাংলাদেশে গিয়ে খেলা ৬টি টেস্টের মধ্যেও ৫টিতেই তারা হেরেছে, জিতেছে শুধু ২০১৮ সালের নভেম্বরে সিলেট টেস্টে।

অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে এই সময়ে বাংলাদেশে গিয়েই তারা বাংলাদেশর বিপক্ষে জিতেছে তিন ম্যাচ। অবশ্য বিচ্ছিন্ন এই সাফল্যগুলো জিম্বাবুয়ের জন্য কেবল সাময়িক সান্ত্বনাই ছিল।

দীর্ঘ সাত বছর পর বাংলাদেশকে ঘরের মাঠে পেয়ে এবার যেন একটু নড়েচড়ে বসেছে জিম্বাবুয়ে। মাঝে তাদের ক্রিকেট প্রশাসনেও ব্যাপক রদবদল হয়েছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে একসময়ের নিয়িমিত ‘যোদ্ধা’, ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে খেলার সুবাদেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের যার ভালো করেই চেনা, সেই হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এখন আছেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বে।

টেস্টে হারলেও ওয়ানেডেতে যে তারা এবার অন্য রকম কিছুই চায়, সেটি বোঝা গেছে দল ঘোষণার আগে এক টিমিসেন মারুমাকে নিয়েই ব্যাপক গবেষণায়। অন্যদিকে তামিম ইকবালের বাংলাদেশ যেন ভাঙা তরি!

পারিবারিক কারণে ওয়ানডে সিরিজের আগেই মুশফিকুর রহিম ফিরে গেছেন দেশে। জিম্বাবুয়েতে ১৮টি ওয়ানডে খেলে তাঁর রেকর্ড একেবারে খারাপ নয়। ৩৭.৮০ গড়ে ৫৬৭ রান করেছেন। ২০১১ সালের আগস্টে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠেই করেছিলেন সেঞ্চুরি।

এদিকে ডান পায়ের গোড়ালির চোটের কারণে প্রথম ওয়ানেডেতে খেলতে পারছেন না পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও। অধিনায়ক তামিমকে তো খেলতে হচ্ছে হাঁটুর চোটের সঙ্গে মানিয়েই! আজ ম্যাচে দুবার চোট পেয়েও শেষ পর্যন্ত উঠে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং করছেন লিটন।

চোট-আঘাতের এই ভিড়ে সাকিবের ফর্মহীনতা চোখে পড়ছে আলাদা করেই। হারানো ফর্মটা যদি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ফিরে না পান, আর কবে পাবেন, সে প্রশ্ন তো জাগেই।
লিটনের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি ভেঙে এইমাত্র আউট হয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহও।

default-image

মিডিয়াম পেসার লুক জংওয়ের বাউন্সারে শূন্যে ব্যাট চালিয়ে কট বিহাইন্ড। ১৬৭ রানে বাংলাদেশ হারাল পঞ্চম উইকেট। খেলা হয়ে গেছে ৩৬ ওভার। বাকি ব্যাটসম্যানরা মিলে কি পারবেন জিম্বাবুয়ের সামনে অনতিক্রম্য কোনো লক্ষ্য দিতে?

বোলিং-ফিল্ডিংটাও হবে তো ম্যাচ জেতানোর মতো? নাকি জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের মুখে ফিরে আসবে হারানো দিনের হাসিটা! অনেক দিন পর যে ঘরের মাঠে এমন বাংলাদেশকে পেল তারা!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন