বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জন্য এমবাপ্পের মন আনচান করার বিষয়টি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পিএসজি সমর্থকেরা। যে কারণে গত রাতেও এমবাপ্পেকে সমানে দুয়ো দিয়ে গেছেন তাঁরা। এমবাপ্পের প্রতি তাঁদের ক্ষোভ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে শুধু এমবাপ্পেই নন, এমন অনেক খেলোয়াড়ই আছেন, যারা দল ছাড়তে গিয়ে ছাড়তে না পেরে সমর্থকদের রোষানলের শিকার হয়েছেন। এমন কয়েকজনের ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক!

default-image

নেইমার
পছন্দের ক্লাবে যেতে চেয়েও যেতে না পেরে সমর্থকদের দুয়ো শুনতে কেমন লাগে, এমবাপ্পে চাইলে ‘বড় ভাই’ নেইমারের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। নেইমার নিজেও তো বার্সেলোনায় ফেরার জন্য ব্যাকুল ছিলেন কয়েক দিন আগেও! গত বছরের কথাই ধরুন, গোটা গ্রীষ্মকালীন দলবদল জুড়ে বার্সায় ফেরার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করেছিলেন এই ব্রাজিল তারকা। বার্সার আর্থিক অনটনের কারণেই হোক বা পিএসজির অনিচ্ছার কারণে, নেইমারের ইচ্ছেপূরণ হয়নি। সমর্থকেরাও ব্যাপারটাকে ভালোভাবে নেননি। স্ত্রাসবুর্গের বিপক্ষে মাঠে যখন নামলেন, দুয়োর শব্দে কান পাতা যাচ্ছিল না। এমনকি শেষ মুহূর্তে দারুণ এক বাইসাইকেল কিকে এক গোল করে দলকে জিতিয়েও সমর্থকদের মন জয় করতে পারেননি নেইমার।

ওয়েইন রুনি
ম্যানচেস্টার সিটি তখন সদ্যই টাকার কুমিরে পরিণত হয়েছে। দেদার টাকা উড়িয়ে চোখের সামনে পছন্দের যাকে পাচ্ছে, তাকেই কিনে নিচ্ছে দলটা। ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিক গোল করতে পারেন এমন অনেককেই সিটি দলে টেনেছিল অপেক্ষাকৃত ছোট দল থেকে। পোর্টসমাউথের বেনজানি থেকে শুরু করে ওয়েস্ট হামের ক্রেইগ বেলামি, ব্ল্যাকবার্নের রকি সান্তা ক্রুজ, আর্সেনালের ইমানুয়েল আদেবায়োর— এই তালিকায় অনেকেই ছিলেন।

default-image

তাও সিটির মন ভরছিল না। শহরের আরেক বড় ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ওয়েইন রুনিকে দলে নেওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছে তারা। রুনি নিজেও ২০১০ সালের দিকে সিটির অর্থকড়ির লোভে পড়ে গিয়েছিলেন। যে কারণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে বেশি বেতনের নতুন চুক্তি দাবি করে বসেছিলেন। কিন্তু ইউনাইটেডের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন কী সহজে শিষ্যের দাবি মেনে নেওয়ার পাত্র? তিনিও সোজাসুজি বলে দেন, রুনির দাবির সামনে মাথা নোয়াবেন না তিনি। বেশ কিছু ম্যাচ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয় রুনিকে। এমনকি ইউনাইটেডের শিরোপা জয়ের উৎসবেও ইউনাইটেড সমর্থকেরা রুনিকে ইচ্ছেমতো দুয়ো দেন। পরে ফার্গুসনের কাছেই মাথা নোয়াতে হয় রুনিকে। ক্লাবের শর্তমতো নতুন চুক্তিতে সই করেন তিনি। পরে রুনিকে না পেয়ে এদিন জেকো আর মারিও বালোতেল্লিকে দলে টানে সিটি।

default-image

সামুয়েল উমতিতি
বার্সেলোনা ডিফেন্ডারের এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে সম্প্রতি। চোটের কারণে বহুদিন ধরেই এই ফরাসি তারকা মূল একাদশের বাইরে। আর্থিক অনটনে থাকা বার্সেলোনা বহুদিন ধরেই উমতিতিকে বিক্রি করে বেতন বিল কমাতে চাইছে। কিন্তু শুয়ে-বসে বেশি বেতন কামানো উমতিতি ক্লাবের ঋণের বোঝা কমানোর জন্য কম বেতনে ছোট ক্লাবে-ই বা যাবেন কেন? বার্সেলোনাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলে শুধু এমন ক্লাবেই যেতে চান তিনি। বেতন কমিয়ে অন্য ক্লাবে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহও নেই তাঁর। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। সমর্থকদের চোখের শূল এখন উমতিতি। হোয়ান গাম্পার ট্রফিতে, লিগের প্রথম ম্যাচে বার্সা সমর্থকেরা ইচ্ছেমতো দুয়ো দিয়েছে উমতিতিকে।

default-image

রিও ফার্ডিনান্ড
২০০৮ সালে ধনকুবেরের স্পর্শ পেয়ে সিটি যেমন বদলে গিয়েছিল, লিগের প্রতিভাবান সকল খেলোয়াড়কে দলে টানার চেষ্টা শুরু করেছিল, একই কাজ ২০০৩-০৪ সালের দিকে করা শুরু করেছিল চেলসি। লন্ডনের ক্লাবটিকে তখন সদ্যই রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ কিনেছেন। আরিয়ান রোবেন, ক্লদ ম্যাকেলেলে, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, দিদিয়ের দ্রগবা, পিওতর চেক, ড্যামিয়েন ডাফ, ওয়েইন ব্রিজ, জন ওবি মিকেল, মাইকেল এসিয়েন, পাওলো ফেরেইরা, রিকার্ড কারভালিওর মতো একাধিক খেলোয়াড়কে নিয়মিতই দলে টানছিল চেলসি। হাত বাড়িয়েছিল প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিভাবান ইংলিশ সেন্টারব্যাক রিও ফার্ডিনান্ডের দিকেও। চেলসির আগ্রহ দেখে ফার্ডিনান্ডেরও মাথা ঘুরে গিয়েছিল নিশ্চিত। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন চুক্তির প্রস্তাব প্রথমে ফিরিয়ে দিলেও চেলসির প্রধান নির্বাহী পিটার ক্যানিওনের সঙ্গে দেখা করতে চলে গেলেন। সেই ছবি আবার প্রকাশ পেয়ে গেল। ব্যস, আর পায় কে! ২০০৫ সালের প্রাক-মৌসুমে ফার্ডিনান্ডকে ইচ্ছেমতো দুয়ো দিলেন ইউনাইটেড সমর্থকেরা। যদিও পরে ইউনাইটেডেই থেকে যান ফার্ডিনান্ড। সই করেন নতুন চুক্তিতে।

default-image

হাভিয়ের মাচেরানো
লিভারপুলের তখন ঘোর দুর্দিন। একে একে ক্লাব ছেড়ে যাচ্ছেন জাবি আলোনসো, আলভারো আরবেলোয়া, ইয়োসি বেনায়ুন, রায়ান বাবেল, সামি হুপিয়ার মতো একাধিক নির্ভরযোগ্য তারকা। মালিকপক্ষের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ক্লাব ছেড়েছিলেন রাফায়েল বেনিতেজও। সব মিলিয়ে দলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার হাভিয়ের মাচেরানোও হয়ে পড়লেন বিরক্ত। পাড়ি জমাতে চাইলেন বার্সেলোনায়। কিন্তু লিভারপুলের নতুন ম্যানেজার রয় হজসন সেটি হতে দেবেন কেন? মাচেরানোকে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। ওদিকে বেপরোয়া মাচেরানোও জানিয়ে দিলেন, লিভারপুলের হয়ে মাঠে নামতে চান না তিনি। এক ম্যাচে বেঞ্চে বসে বসে সমর্থকদের দুয়োও শুনলেন। পরে যদিও মাচেরানোর ইচ্ছেই পূরণ হয়। পেপ গার্দিওলার ডাকে সাড়া দিয়ে বার্সায় চলে যান তিনি।

default-image

রায়ান গিগস
রায়ান গিগসও সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়ো শুনেছেন? এ-ও কী সম্ভব? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকেরা গিগসকেও ছাড়েননি। তবে এর পেছনে গিগসেরও দোষ ছিল। ২০০২-০৩ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে মোটেও ভালো খেলছিলেন না গিগস। ইন্টার মিলানে নাম লেখানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। ইন্টারের সে সময়ের সভাপতি মাসিমো মোরাত্তি তখন জানিয়েও দেন, গিগসের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা মোটেও ভালো ঠেকেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকদের কাছে। ওদরিংটন কাপের সেমিফাইনালে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে গিগসকে সমানে দুয়ো দিয়ে যান ইউনাইটেড ভক্তরা। পরে গিগসও ইউনাইটেড ছাড়েননি। উল্টো ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় হয়েই ক্যারিয়ার শেষ করেছেন।

default-image

গ্যারেথ ব্যারি
লিভারপুলের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে তখন জাবি আলোনসো, হাভিয়ের মাচেরানোর মতো তারকারা ছিলেন। তার পরেও ক্লাবটির তৎকালীন ম্যানেজার রাফায়েল বেনিতেজ চাইলেন অ্যাস্টন ভিলার ইংলিশ মিডফিল্ডার গ্যারেথ ব্যারিকে দলে আনতে। ব্যারি নিজেও ইংলিশ ট্যাবলয়েড ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ এক সাক্ষাৎকার দিয়ে জানিয়ে দিলেন, লিভারপুলে যোগ দিতে চান তিনি। ক্ষতিটা হলো সব দিক দিয়েই। অ্যাস্টন ভিলার সমর্থকেরা দুয়ো দিলেন ব্যারিকে। ব্যারির সঙ্গে ভিলার ম্যানেজার মার্টিন ও’নিলের সম্পর্কও খারাপ হলো। দুই সপ্তাহের বেতন কাটা হলো ব্যারির। ওদিকে ব্যারিকে বেনিতেজ দলে টানতে চান শুনে আলোনসোও চটলেন লিভারপুলের ওপর। পাড়ি জমালেন রিয়াল মাদ্রিদে। কিন্তু আলোনসো যাওয়ার পরেও ব্যারিকে দলে টানতে পারেনি বেনিতেজ। উল্টো সিটি এসে নিয়ে যায় এই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে।

default-image

গ্যাব্রিয়েল হাইন্সা
সমর্থকদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ এক অপরাধ করতে বসেছিলেন আর্জেন্টিনার লেফটব্যাক গ্যাব্রিয়েল হাইন্সা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে যোগ দিতে চেয়েছিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলে! ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার পেছনে হাইন্সার কারণও ছিল। প্যাট্রিস এভরার কারণে একাদশে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ওদিকে হন্যে হয়ে লিভারপুল খুঁজছিল একজন লেফটব্যাক। কিন্তু ফার্গুসন নিজের হাতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তিশালী করবেন কেন? হাইন্সাকে লিভারপুলের কাছে বিক্রি করতে চাননি এই স্কটিশ ম্যানেজার। কিন্তু তত দিনে ইউনাইটেডের সমর্থকদের ‘শত্রু’ বনে গিয়েছিলেন হাইন্সা। সমর্থকদের দুয়োও শুনেছেন অনেক। শেষমেশ লিভারপুলে নয়, রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমান এই আর্জেন্টাইন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন