বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রশ্ন: লাপোর্তা বলেছেন যে তিনি ভেবেছিলেন আপনি বিনা বেতনে খেলতে চাইবেন। আপনাকে এমনটা বলা হলে আপনি রাজি হতেন?

মেসি: সত্যিটা হচ্ছে, আমার (বার্সা থেকে) বিদায়ের দিনে যেটা বলেছি, আমি থাকার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করেছিলাম। সেখানে একটা মুহূর্তের জন্যও কেউ বিনা বেতনে খেলার কথা বলেনি আমাকে। আমার বেতন ৫০ শতাংশ কমাতে অনুরোধ করেছিল, কোনো প্রশ্ন ছাড়াই সেটা করেছি আমি। ক্লাবকে আরও সাহায্য করতে তৈরি ছিলাম।

আমার ও আমার পরিবারের ইচ্ছা ছিল বার্সেলোনায় থাকার। কেউ তখন বিনা বেতনে খেলার প্রসঙ্গ তোলেনি, কিন্তু এখন সভাপতির (বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা) কথাগুলো শুনে মনে হয়েছে, এগুলো অযথাই বলেছেন। কষ্ট পেয়েছি কথাগুলোয়, কারণ তাঁর এগুলো বলার কোনো দরকার ছিল না। এগুলো মানুষের মনে একটা সন্দেহ জাগিয়ে তোলে, যেটা আমার প্রাপ্য ছিল না।

প্রশ্ন: এরপর লাপোর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে?

মেসি: না।

প্রশ্ন: পিএসজির সঙ্গে চুক্তি শেষে আবার বার্সেলোনায় ফিরবেন?

মেসি: পিএসজির সঙ্গে চুক্তি শেষে কী হবে সেটা নিয়ে ভাবি না। আপাতত এতটুকু নিশ্চিত, আমরা বসবাসের জন্য আবার বার্সেলোনায় ফিরব।

প্রশ্ন: আর বার্সায় ফেরা?

মেসি: সব সময়ই বলেছি, ক্লাবের কাজে আসে, ক্লাবকে আরও ভালো করতে সাহায্য করে এমন কোনো ভূমিকায় থেকে আমি ক্লাবকে সাহায্য করতে চাই। কোনো একটা পর্যায়ে আমি টেকনিক্যাল সেক্রেটারি হতে চাইব। সেটা বার্সেলোনায়ই হবে, নাকি অন্য কোথাও আমি জানি না।

প্রশ্ন: এই মুহূর্তে বার্সাকে কেমন দেখছেন?

মেসি: ভালো একটা স্কোয়াড আছে তাদের। যখনই সুযোগ পাই, তাদের ম্যাচ দেখি। গাভির মতো নতুন অনেকে দারুণভাবে উঠে এসেছে। দল হিসেবে ওরা ঠিকই আছে, কুন (আগুয়েরো) ও দেম্বেলে ফিরলে আরও ভালো করবে।

default-image

প্রশ্ন: বার্সায় সতীর্থদের কারও সঙ্গে এখনো যোগাযোগ হয়?

মেসি: হ্যাঁ, কুন আগুয়েরোর সঙ্গে নিয়মিতই কথা হয়। ওর সঙ্গে অবশ্য বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলা হয়নি, তবে ও আমার খুব ভালো বন্ধু। বুসি (বুসকেতস), জর্দি আলবাদের সঙ্গেও নিয়মিত কথা হয়।

প্রশ্ন: বার্সা ছাড়ার সময় তাঁদের কারও কারণে কষ্ট পেয়েছেন?

মেসি: না, কষ্ট পাইনি। কারণ ওদের সবাইকে হৃদয় থেকেই চিনি আমি। যারা ওই মুহূর্তে আমার পাশে থাকবে বলে ভেবেছিলাম, সবাই ছিল। (আমার বার্সা ছাড়ার খবরে) আমার মতো ওরাও চমকে গিয়েছিল।

প্রশ্ন: পিএসজিতে প্রথম কয়েক মাস কেমন কেটেছে?

মেসি: আসার পর মনে হয়েছে, এই ড্রেসিংরুমে আমি অনেক দিন ধরেই ছিলাম। কারণ এখানে আমার অনেক দিনের চেনাজানা অনেকে আছে, অনেকেই স্প্যানিশ বলে, যেটা মানিয়ে নেওয়াটা সহজ করেছে।

খেলার দিক থেকে বললে, মাঝেমধ্যে মনে হয় এখনো ঠিকভাবে শুরুই করতে পারিনি, কারণ প্রতি মাসেই জাতীয় দলে ম্যাচ থাকছে। মানিয়ে নেওয়ার আগেই আবার ক্লাব ছেড়ে (জাতীয় দলে) যাই, এটা সবকিছু আরেকটু কঠিন করে দিয়েছে। তবে ধীরে ধীরে ক্লাবের সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি। কারণ, যদিও এখানে আছি দুই মাস হয়েছে, খুব বেশি ম্যাচ কিন্তু খেলা হয়নি।

প্রশ্ন: পিএসজিতে আপনার লক্ষ্য কী? নিজেদের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফেবারিট ভাবেন?

মেসি: এখানে আসার পেছনে আমার মূল কারণগুলোর একটি ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাই। কারণ, এখানে দলটা দারুণ, ক্লাব হিসেবে বেড়ে ওঠার ইচ্ছা সবার আছে, এত বছরের চেষ্টার পর চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চায় সবাই।

default-image

প্রশ্ন: নেইমার-এমবাপ্পের সঙ্গে সম্পর্কটা কেমন?

মেসি: সত্যি বলতে ড্রেসিংরুমের সবাই-ই দারুণ। নেই-র (নেইমার) সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব তো অনেক পুরোনো। যখন একসঙ্গে খেলতাম না, তখনো নিয়মিত কথা হতো। কিলিয়ানের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে সবকিছু একটু অদ্ভুত ছিল, কারণ ও তখন ক্লাবে থাকবে কি না, সেটা জানতাম না। তবে আস্তে আস্তে আমরা মাঠে, মাঠের বাইরে একে অন্যকে আরেকটু ভালোভাবে জানতে পারছি। আমাদের মধ্যে সবকিছু সহজই।

প্রশ্ন: প্যারিসে জীবন কেমন? বার্সেলোনার চেয়ে অনেক ভিন্ন?

মেসি: অনেক ভিন্ন। কাস্তেদেফেলে (বার্সায় মেসিরা যেখানে থাকতেন) আমরা একেবারে অভ্যস্ত ছিলাম। সবকিছু সহজ ছিল, হাতের নাগালে ছিল। কিন্তু এখানে আমি বাচ্চাদের স্কুলে থেকে নিয়ে এসে অনুশীলনে যাওয়ার সময় পাই না।

বাচ্চাদের জন্য, আন্তোনেল্লার (মেসির স্ত্রী) জন্য বদলটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। কারণ, ওখানে ওরা বাড়ির বাইরে যেতে পারত, বন্ধুদের সঙ্গে থাকতে পারত। বাচ্চাদের ছোট্ট বন্ধুরা সব সময় বাসায় আসত। এখন ওরা নতুন করে বন্ধু খুঁজে নিচ্ছে, শহরটার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

প্রশ্ন: তাদের জন্য সবকিছু কষ্টকর ছিল?

মেসি: হ্যাঁ। গত বছরও কষ্টের ছিল, যখন বুরোফ্যাক্স পাঠিয়ে আমি ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলাম। সে সময় ওদের সময় নিয়ে বুঝিয়েছিলাম সবকিছু। কিন্তু এবার সব হঠাৎ হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরে ওদের বলে এসেছি আমরা বার্সেলোনায় থাকব। ওরা ওদের সহকর্মী, বন্ধুদের সেটা জানিয়েছে। এরপর হঠাৎ আমাদের বার্সেলোনা ছাড়তে হলো, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন আরেকটা শহরে চলে এলাম। সবার জন্যই কঠিন ছিল সবকিছু।

প্রশ্ন: প্যারিস দেখা হয়েছে?

মেসি: মাঝেমধ্যে খেতে বেরিয়েছি। তবে বাচ্চারা স্কুল শুরু করার পর দিনের রুটিনে সব মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ঘুরতে এখনো সেভাবে বের হওয়া হয়নি।

default-image

প্রশ্ন: ২০২২ সালে বিশ্বকাপ আছে। সেটার অপেক্ষায় আছেন?

মেসি: বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করতে আমি মুখিয়ে আছি। এত বছরের অপেক্ষার পর, এতবার এত কাছে গিয়েও আর্জেন্টিনার জার্সিতে কিছু জিততে না পারার কষ্টের পর এবারের কোপা আমেরিকা জয়ের স্মৃতি এখনো তাজা আমাদের। এখন সামনে কী করব, এ নিয়ে আমাদের জড়িয়ে কল্পনা অনেক আছে।

তবে আমরা আপাতত আজ শুধু আজকেরটাই ভাবছি। আমাদের এখনো শিরোপার দাবিদার হওয়ার মতো দল হয়ে উঠতে হবে। আমরা এখনো তা নই, কারণ আমাদের চেয়ে ভালো অনেক দল আছে। আমরা ঠিক পথে এগোচ্ছি ঠিকই, দলের খেলার ধরন ঠিক আছে, পরিবেশও সুন্দর। জয় এ ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে, এই (কোপা আমেরিকা) জয়টা আমাদের আরও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

প্রশ্ন: ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আপনার বয়স হবে ৩৫। ওই টুর্নামেন্টে কী আশা করেন? এরপরই অবসর?

মেসি: তেমন কিছু নয়। (বার্সেলোনায়) আমার ক্ষেত্রে যা হলো, এরপর আমি এখন দিন ধরে ধরে, বছর ধরে ধরে পরিকল্পনা করি। বিশ্বকাপে কী হবে, বা বিশ্বকাপের পর কী হবে আমি সেটা নিয়ে এখনই ভাবি না। ওই মুহূর্তে যেটা হওয়ার সেটাই হবে।

প্রশ্ন: সপ্তম ব্যালন ডি’অর জিতবেন বলে মনে করেন? আপনার চোখে কে ফেবারিট?

মেসি: সত্যি বলতে, আমি এটা নিয়ে ভাবি না। আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার আমি জাতীয় দলেই পেয়ে গেছি। এমন একটা অর্জনের জন্য এত বছর ধরে লড়াই করে যাওয়ার পর, এই পুরস্কারটা (কোপা আমেরিকা) যে দাম দিয়ে এসেছে, সব মিলিয়ে সবকিছু দারুণ হয়েছে। এরপর ব্যালন ডি’অর এলে সেটা দারুণ হবে। সাতটা ব্যালন ডি’অর জেতা পাগলাটে কিছু! কিন্তু সেটা না হলেও কিছুই আসবে-যাবে না।

প্রশ্ন: আপনার অচেনা একটা রূপ ইদানীং দেখতে পাই। বার্সা ছাড়ার সময়ে কেঁদেছেন, কোপা আমেরিকা জেতার পরও, এরপর (কোপা আমেরিকার) ট্রফি নিয়ে স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে উদ্‌যাপনের সময়...আমরা কি এ পর্যায়ে এসে মেসির আবেগময় দিকটা দেখছি?

মেসি: হা হা হা। জাতীয় দলে কিছু জিততে পারা আর আর্জেন্টিনার মানুষের সঙ্গে সেটি উদ্‌যাপন করা তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার ছিল। (কোপার ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপনের) ওই ম্যাচ দিয়েই করোনাকালে প্রথমবার দর্শক মাঠে এসেছেন। কতবার যে এভাবে দর্শকের সামনে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার কল্পনা করেছিলাম! বার্সেলোনায় সেটা অনেকবার করার সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু আমার দেশের হয়ে এত দিন পারিনি। এরপর (বার্সা ছাড়ার ক্ষেত্রে) আমি ২০ বছর পর ঘর ছাড়ছিলাম, সেটা তো সহজ কিছু নয়।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন