default-image

অক্টোবর-নভেম্বরে বাংলাদেশে কী ত্রাহি দশাটাই না হলো জিম্বাবুয়ের! বাংলাদেশের বিপক্ষে বাজে অভিজ্ঞতার পর জিম্বাবুয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামল বিশ্বকাপে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। প্রোটিয়ারা আবার প্রথমে ব্যাট করে ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনির সেঞ্চুরিতে গড়ল ৩৩৯ রানের পাহাড়! বিরাট লক্ষ্যে ভড়কে না গিয়ে বরং দারুণ জবাবই দিল জিম্বাবুয়ে। হ্যামিল্টনে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৬২ রানে হারলেও এ ম্যাচে জিম্বাবুইয়ানদের পাওয়ার ছিল অনেকই। স্কোরকার্ড হয়তো প্রোটিয়াদের জয়ের কথা বলবে, তবে জিম্বাবুয়ের দারুণ লড়াইটা কি ভোলার উপায় আছে?

৩৪০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩২ রান। ভারনন ফিল্যান্ডারের বলে ফেরার আগে ওপেনার সিকান্দার রাজার সংগ্রহ ৫ রান। কিন্তু এরপরই দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে চামু চিবাবা-হ্যামিল্টন মাসাকাদজা তোলেন ১০৫ রান। ইমরান তাহিরের শিকার হওয়ার আগে চিবাবার সংগ্রহ ৬৪ রান। তৃতীয় উইকেটে আরেকটি দারুণ জুটি গড়ার চেষ্টা করে জিম্বাবুয়ে। মাসাকাদজা-টেলরের এ জুটিতে আসে ৫৩ রান। ৩২.৫ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৯১ রান। এরপর প্রোটিয়া স্পিন ভালোভাবে বুঝতে পারলে লড়াইটা আরও প্রতিদ্বিন্দ্বতাপূর্ণ হতো। মাত্র ৭ ওভারের ব্যবধানে ৫৪ রানে তুলতেই জিম্বাবুয়ে হারিয়েছে পরের ৬ উইকেট। সলোমন মায়ার-চাতারার নবম উইকেটে ২০ বলে ২৭ রানের কল্যাণে ৪৮.২ ওভারে জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ২৭৭ রানে। সর্বোচ্চ ৮০ রান করা মাসাকাদজা ফিরেছেন তাহিরের বলে।
দুই প্রোটিয়া স্পিনার তাহির-ডুমিনি বেশ ভালোই ভুগিয়েছেন জিম্বাবুয়েকে। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট তাহিরের সংগ্রহে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের নেতা ডেল স্টেইনকে যথেষ্ট ভুগিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। বেশ মার খেয়েছেন আরেক পেসার ফারহান বেহারডিয়েনও। এ ছাড়া মরনে মরকেলের শট বল বেশ কবার সীমানাছাড়া করে নিজেদের সামর্থ্যের ভালোই জানান দিয়েছেন জিম্বাবুইয়ানরা।
কেবল ব্যাটে নয়, বল হাতেও শুরুটা দারুণ করেছিল জিম্বাবুয়ে। ৮৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল প্রোটিয়ারা। এরপর পঞ্চম উইকেটে ডুমিনি-িমলারের রেকর্ড অবিচ্ছিন্ন ২৫৬ রান দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহটা বড় করে। মিলার অপরাজিত ছিলেন ১৩৮ রানে ও ডুমিনি ১১৫ রানে।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খারাপ হলেও বিশ্বকাপ-মিশনে অন্য চেহারায় জিম্বাবুয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচে তো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৮০ রানের লক্ষ্য নিয়েও জিতেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফল না আসা ম্যাচেও জিম্বাবুইয়ান বোলারদের বিপক্ষে খাবি খেয়েছে কিউইরা। সেদিন ৩০.১ ওভারে ১৫৭ রানে তুলতেই নিউজিল্যান্ড হারিয়েছিল ৭ উইকেট। শুধু তা-ই নয়, দুটি আন-অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচেও হারেনি জিম্বাবুয়ে। নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের চেয়ে ঢের ভালো অবস্থায় বিশ্বকাপ শুরু করেছে তারা। আজকের ম্যাচেও অন্তত অসহায় আত্মসমর্পণ জিম্বাবুয়ে করেনি। মাত্র দুই মাস আগেই দায়িত্ব নেওয়া ডেভ হোয়াটমোর তাহলে দারুণভাবেই বদলে দিয়েছেন চাল-চুলোহীন দলটিকে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন