বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের আগে ডেভিড ওয়ার্নারকে বলছিলাম, ‘আমি চাই, তুমি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হও। আমাকে নিরাশ করো না।’

এ কথাটা ওকে বলেছিলাম, কারণ, আমি বিশ্বাস করি, ও এমন এক খেলোয়াড় যে বড় ম্যাচে এবং বড় টুর্নামেন্টে ভালো খেলে এবং আমার এ ধারণা এখনো বদলায়নি। অ্যারন ফিঞ্চ কিছুটা হলেও ফর্ম খুঁজে পেয়েছে, মিচেল মার্শ ভালো মারতে পারছে এবং ম্যাক্সওয়েলও সুযোগ পেলে ভালো করবে।

default-image

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ‘আন্ডারডগ’ হয়ে এবং সবার দৃষ্টি অন্যদের দিকে থাকায় ওদের জন্য খুব সুবিধাই হয়েছে। যখন আপনি ইংল্যান্ডের মতো ঐতিহ্য ও সাফল্য নিয়ে ফেবারিট হয়ে বিশ্বকাপে যাবেন, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস হয়তো বেশি থাকবে কিন্তু আপনার প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও বাড়বে। আমার মনে হয়, আমরা যোগ্য চার দলকেই সেমি ফাইনালে পেয়েছি। এখানে একটা মজার ব্যাপার হলো, এ চার দলের মধ্যে উপমহাদেশের দল মাত্র একটি!

আমরা ভেবেছিলাম যে এখানকার কন্ডিশন ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানকে বেশ সুবিধা দেবে, কিন্তু আসলে তেমন ঘটেনি। অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের মূল কারণ হলো সঠিকভাবে দলের স্পিনারদের ব্যবহার করা। ব্যাট হাতে আমাদের কিছু অসাধারণ খেলোয়াড় আছে, যারা স্পিন খুব ভালো সামলাতে পারে।

ওরা এ টুর্নামেন্টে সেটা করেও দেখিয়েছে। কিন্তু দলের প্রধান অস্ত্র হলো অ্যাডাম জাম্পা।

বল ঘোরানোর জন্য ওর ফর্মটাই আসল এবং অস্ট্রেলিয়া ওকে দলে পেয়ে এখন একটু ভিন্নভাবে টি-টোয়েন্টিটা খেলে। আগে হিসাবটা ছিল খুবই সাধারণ, ১৭০–এর মতো রান করো এবং ফাস্ট বোলার দিয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দাও। কিন্তু ওরা জানে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এটা করা সম্ভব নয়। ফলে একজন স্পিনার খেলানোয় দল উপকৃত হয়েছে।

default-image

এ ধরনের ম্যাচগুলোর জন্যই আমরা ক্রিকেটাররা বেঁচে থাকি। সেই দলটাই এমন টুর্নামেন্টগুলোতে জয়ী হয়, যারা মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকঠাকভাবে মাঠে প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ কোনো রানআউট বা নো বল যেন না হয় সেটা নিশ্চিত করা, খুব দ্রুত দৌড়ে দুই রান নেওয়া—এগুলো বোঝাচ্ছি। এ বিষয়গুলো আমি ভালোবাসি।

গতানুগতিক একটা কথা আছে যে এ ম্যাচটা অন্য ম্যাচগুলোর মতোই। কিন্তু এটা মোটেও তা না। এটা বিশ্বকাপের একটা সেমিফাইনাল।

আপনি ম্যাচটা জিতবেন না হারবেন—তা নির্ভর করবে কীভাবে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং কীভাবে পরিকল্পনাগুলোকে কাজে লাগাচ্ছেন। আমি যে উপদেশটা দিব—ম্যাচটা উপভোগ করো। এত দূর পর্যন্ত আসাটা উপভোগ করো।

নিজের এবং সেমিফাইনালের বাকি দলগুলোর শক্তিমত্তার জায়গার দিকে নজর দাও, এই দলগুলো খেলার সব মৌলিক বিষয়গুলো টুর্নামেন্টের অন্য সব দলের থেকে ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে। টি-টোয়েন্টি খেলাটা পুরোপুরি বড় রান, বড় সংগ্রহ এবং ম্যাচজয়ীদের খেলা। তবে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মুহূর্তগুলোও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

default-image

এমন পরিস্থিতির জন্য অস্ট্রেলিয়া দল বেশ অভিজ্ঞ। বেশ কিছু খেলোয়াড় ২০১৫ বিশ্বকাপ জিতেছে, চার বছর পর ২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেও খেলেছে। এসব অভিজ্ঞতা খেলার শেষের দিকে প্রচণ্ড চাপের মুহূর্তে সাহায্য করে। যদি আপনি তেমন মুহুর্ত পাড়ি দিয়ে আসেন, হার–জিত যাই হোক না কেন, ওই অভিজ্ঞতা থেকে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন এবং চাপে থেকেও খেলতে পারবেন।

আজকের ম্যাচের যে বিষয়টা আমার কাছে সবচেয়ে মজার সেটা হলো, এ ম্যাচ আমার দুই পুরোনো সতীর্থকে একে অন্যের মুখোমুখি করবে। কে ভেবেছিল যে জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং ম্যাথু হেইডেনের মতো দুজন কিংবদন্তি একে অন্যের বিপরীত দলে থাকবে?

জাস্টিন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ এবং ম্যাটি (ম্যাথু হেইডেন) পাকিস্তান দলের ব্যাটিং পরামর্শক— এই দুজন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বছরের পর বছর ইনিংস উদ্বোধন করেছে এবং ওরা টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে অন্যতম।

মাঠে তাদের ভ্রাতৃত্ববোধ বহুবার দেখা গেছে, আমি জানি, ওরা আজ যখন মাঠে নামবে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। তারা নিজ দলের জন্য প্রাণপণ লড়বে, এ বিষয়টা আসলে বেশ মজার! ম্যাটির মুকুটে এটি আরেকটি পালক যোগ করবে। পাকিস্তানের কখনোই প্রতিভার কোনো কমতি ছিল না, কিন্তু মূল ব্যাপারটা হলো সে প্রতিভার যত্ন নেওয়া এবং তা কাজে লাগিয়ে দারুণ এক দল প্রস্তুত করা।

ম্যাটি সেটা করে দেখিয়েছে। সে সব সময়ই একজন দুর্দান্ত নেতা, তাঁর উপস্থিতি পাকিস্তানের জন্য দারুণ একটা ব্যাপার এবং আমি মনে করি, এটা ক্রিকেটের জন্যও ভালো। কিন্তু আমরা খুব বেশি দূরে তাকাতে চাই না।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন