বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিন্তু মুশফিকের সমালোচনা যতটা না তাঁর খেলার কারণে হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি হয় অদ্ভুত কিছু কাণ্ডের জন্য। শুক্রবার যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে, পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয়তার তোয়াক্কা না করেই এমন এক কাণ্ড করে বসলেন।

ম্যাচের তখন ১৩.৩ ওভার চলছে। লিটন দাসের সঙ্গে মুশফিকের জুটি জমে যাচ্ছে। ১৭ বলে ৩০ রান এসেছে। দলের রান ৯০। রবি রামপল বোলিং করছেন। আহামরি কিছু নয়। মুশফিকের মতো ব্যাটসম্যানের বিচলিত হওয়ার মতো তো নয়ই। দুটি বলে রান এল না, মুশফিক করে বসলেন এক স্কুপ—তাঁর প্রিয় শট। বল ব্যাটে-বলে হলো না। নিরীহ-নির্বিষ বলে মুশফিক আউট। দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, মুশফিককে যখন উইকেটে খুবই দরকার, ঠিক তখনই তিনি আউট। এমন একটা শট খেলতে গিয়ে আউট, যেটি না খেললে, খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

default-image

অনেকেই বলতে পারেন, মুশফিক আউট হওয়ার পরেও তো বাংলাদেশ ম্যাচে ছিল। লিটন দাস ছিলেন, মাহমুদউল্লাহও বেশ ভালোই খেলেছেন। কিন্তু মুশফিককে কাঠগড়ায় তুলতে হবে কেন! কিন্তু মুশফিকের সেই আলোচনা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে। রামপল নিজেও বোধ হয় নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দেবেন। এত সহজে প্রতিপক্ষের একজন ‘সেরা’ ব্যাটসম্যান উইকেট উপহার দিতে পারেন! এমন না যে রান তুলতে হাঁসফাঁস করছিলেন সে ব্যাটসম্যান। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কাছ থেকে ওই মুহূর্তে সেটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বেশ বড় এক ধাক্কাই। হোটেলে ফিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণ করতে বসে, তাহলে মুশফিককে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই হবে। বাংলাদেশ দলে জবাবদিহির কোনো ব্যাপার আছে কিনা, সেটি অজানা, তবে এ জন্য অবশ্যই মুশফিকের কাছে জবাবদিহি তলব করা উচিত কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে ওমানের এক বোলারের নিরীহ এক বলে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। এমন হাস্যকর ছিল আউটটা! কিন্তু সেদিন কে ভেবেছিল, মূল প্রতিযোগিতায় গিয়েও মুশফিক ‘স্কুপপ্রেম’ ছাড়তে পারবেন না। কোয়ালিফায়ারে এসে অবশ্য স্কুপের সঙ্গে রিভার্স সুইপের প্রেমে পড়ে গেলেন মুশফিক। রিভার্স সুইপ খেলা শুরু করলেন। কোয়ালিফায়ারে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও রিভার্স সুইপ করে আউট হলেন। সে ম্যাচটা হেরেই সব অশান্তির শুরু বাংলাদেশের। রিভার্স সুইপের প্রেমে নিজেকে বলি দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও। লেগ স্পিনার লিয়াম লিভিংস্টোনকে তিনি রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লুর ফাঁদে পা দেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্কুপ খেলার আকুতির কথা আগেই বলা হয়েছে। চেষ্টা করে গেছেন প্রাণপণে, শেষ বলে সফল হয়েছিলেন।

সেই প্রেরণা থেকেই আজ তিনি আবার স্কুপ খেললেন। কিন্তু এবার সেটিকে আত্মহত্যা ছাড়া আর কীইবা বলা চলে! মুশফিকের ‘আত্মহত্যা’ প্রীতি সত্যিই চমকে দেয় সবাইকে। বিস্ময়াভিভূত করে, কীভাবে পারেন তিনি!

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার টুয়েলভের ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিক ‘সমালোচনা’ নিয়ে অনেক কিছুই বলেছিলেন। সমালোচনা নিয়ে কথা বলতে বলতে তিনি সমালোচকদের আয়নায় নিজেদের মুখ দেখতে বলেছিলেন। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরিস্থিতির বিবেচনা না করে তিনি যে কাণ্ড করলেন, বিবেকের আয়নায় চেহারা দেখেই তাঁর সমালোচনাটা করতেই হচ্ছে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন