ম্যাচ শেষে পুরানের সংবাদ সম্মেলনেও এল মাহমুদউল্লাহকে নো বলে বোল্ড করার প্রসঙ্গটি। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলছিলেন, ‘অবশ্যই প্রত্যাশিত নয়। আমি জানি ছেলেরা আমাকে এ জন্য মেরে ফেলবে। এটা অবশ্যই হতাশার।’

এ তো গেল বোল্ডের কথা। নিজের করা ইনিংসের ২৫তম ওভারে মাহমুদউল্লাহর বিপক্ষে এলবিডব্লুর জোরাল আবেদন করেও রিভিউ নেননি পুরান। ৬ ব্যাটসম্যানের বাংলাদেশ দলের তখন ৪ উইকেট নেই। জয়ের জন্য আরও ৩২ রান দরকার। এমন সময়ও যদি মাহমুদউল্লাহকে ফেরানো যেত, তাহলেও হয়তো ম্যাচের গল্পটা ভিন্ন হতে পারত।

পুরান অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলছিলেন, ‘মাহমুদউল্লাহর হয়তো ভাগ্যটা ভালো ছিল। আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম। কারণ বলটা অনেক বাঁক খেয়েছিল। শেই (শেই হোপ) বলছিল, বলটা নাকি বেশিই বাঁক খেয়েছে। আমিও তা-ই বলছিলাম। বাকিরা অবশ্য বলছিল রিভিউ নিতে। কারণ তাদের মনে হয়েছে সেটা নিশ্চিত আউট ছিল। আমি তাদের কথা শুনে অবাক হয়েছিলাম। এখন তো সবাই আমাকে মেরে ফেলতে চাইছে। কোচ, ক্রিকেটার সবাই। আমার রিভিউ নেওয়া উচিত ছিল। কারণ দুটি রিভিউ ছিল আমাদের হাতে। কে জানে, হয়তো রিভিউটা নিলে খেলাটা বদলে যেতে পারত। তখনো ৩৫-৪০ রান দরকার ছিল তাদের।’

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরাজয়ের মূল কারণ অবশ্য এসব নয়। আগে ব্যাট করে আরও কিছু রান করতে পারলে ম্যাচের ছবিটা হয়তো অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করছেন পুরান, ‘স্কোরবোর্ডে অবশ্যই যথেষ্ট রান তুলতে পারিনি। ১৭৫ রানের মতো যদি করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচটা কোনদিকে যেত সেটা দেখার বিষয় ছিল। পাওয়াত প্লে-তে আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। স্পিনাররা উইকেট নিতে পারেনি। তবে এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমাদের খুঁজে নিতে হবে কীভাবে আমরা ওয়ানডেটা খেলব।’

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি জিতে বাংলাদেশ দল এখন আরেকটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে। দুই দলের সর্বশেষ তিনটি ওয়ানডে সিরিজের তিনটিই জিতেছে বাংলাদেশ। এবারও কি সে পথেই এগোচ্ছে সিরিজটি? ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য আশার কথাই শুনিয়েছেন পুরান, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা শেষ কয়েকটি ওয়ানডে সিরিজে হেরেছি। তবে আমার মনে হয় ১-০-তে পিছিয়ে থাকলেও এই সিরিজটা আমরা জিতব। আমরা আগামীকাল আজকের ম্যাচটা নিয়ে ভেবে দেখব। পরশুর জন্য ভালো পরিকল্পনা করব এবং অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন