পূজারা হ্যাজলউডদের ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছেন।
পূজারা হ্যাজলউডদের ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছেন। ফাইল ছবি: এএফপি

সিরিজের মাঝপথে কত সমালোচনা। চেতেশ্বর পূজারা নাকি বেশি ধীরে ব্যাট করছেন। তাঁর মন্থর ব্যাটিং নাকি ভারতের অন্য ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে! কিন্তু সেসব কথা সবাইকে গিলে নিতে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে গ্যাবায় ৩২ বছরে প্রথমবারের মতো হার উপহার দিয়েছে ভারত। সে সঙ্গে চোটাঘাতে জর্জরিত এক দল নিয়েও সিরিজ জয়ের আনন্দ সঙ্গী করে দেশে ফিরেছে অজিঙ্কা রাহানে ও তাঁর দল। যে অর্জনে সবচেয়ে বড় অবদান পূজারার। তাঁর হার না মানা দৃঢ়চেতা মনোভাবই যে ভারতকে কঠিন এক সিরিজে পথ দেখিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন পূজারার। সিরিজজুড়েই বলের পর বল খেলে অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করার দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সে সুবাদে বাউন্সার আর শর্ট বলে তাঁর পরীক্ষা নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডরা। যতটা সম্ভব রক্ষণাত্মক খেলে সেসব সামলে নিয়েছেন। কিন্তু মাঝে মাঝেই বল তাঁর রক্ষণ ভেদ করে গায়ে আঘাত হেনেছে। কিন্তু হাল ছাড়েননি পূজারা।

অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলানোর মন্ত্রটা জানিয়েছেন পূজারা। সহজ উত্তর তাঁর, যত আঘাতই করা হোক, সেটা সহ্য করার ক্ষমতা রাখেন। কারণ, পাল্টা আঘাত হানতে পারবেন, এই আত্মবিশ্বাস তাঁর আছে।

বিজ্ঞাপন

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের মানসিকতার দিকটা তুলে ধরেছেন পূজারা। তাঁর মানসিকতার সঙ্গে একজন বক্সারের তুলনা করে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল বক্সিং নিয়মিত দেখেন কি না। গুজরাটের এই ব্যাটসম্যান হেসে ফেললেন এমন প্রশ্নে। হাসতে হাসতেই উত্তর দিলেন, ‘না। আমি বক্সিংয়ের ভক্ত না। দেখতে অবশ্য আপত্তি নেই। মাঝে মাঝে বক্সারদের কাহিনি দেখি—কত কষ্টের মধ্য দিয়ে বড় হন, কত বড় বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকেন, কীভাবে অনুশীলন করেন।’

গ্যাবার শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা পূজারাকে যেন বক্সিংয়ের পাঞ্চিং ব্যাগ বানিয়ে বসেছিলেন। গুনে গুনে নয়বার তাঁর গায়ে বল লেগেছিল। কিন্তু সে আঘাত গায়ে মাখেননি পূজারা, ‘যদি আমি বক্সার হতাম, তাহলে আমি দেখতে চাইতাম আমাকে অন্য খেলোয়াড় কতক্ষণ মারতে পারে। একবার তার মারা শেষ হলে, আমি মারা শুরু করতাম। এভাবেই আমি খেলতে নামি। আমাকে যত খুশি ঘুষি মারুন। এরপর আমি ঘুষি ছুড়ব। এভাবেই আমি পরিকল্পনা করি।’

default-image

গ্যাবায় পঞ্চম দিনে যখন নেমেছিলেন, এর আগেই সিরিজে ৭১৭ বল খেলে ফেলেছিলেন। সেদিনও অস্ট্রেলিয়ার চরম পরীক্ষা নিয়েছেন। উইকেটে ৩১৪ মিনিট কাটিয়েছেন। ২১১ বল খেলে ৫৬ রান করেছেন। আর এ সময়টায় গায়ে বল লেগেছে নয়বার। এর মধ্যে হেলমেটেই বল লেগেছে তিনবার। কিন্তু পূজারা ভয় পাননি। জেতার লক্ষ্য নিয়ে নামা ভারতের এক প্রান্ত ধরে রাখার দায়িত্বটা যে তাঁরই ছিল, ‘প্রথম যে বলটা গায়ে লেগেছে, সেটা কাঁধের নিচে লেগেছে। একটা বুকের হাড়ে লেগেছে। হ্যাজলউডের একটা বল কাঁধে লেগেছে আবার। তখন একটু ব্যথা পেতে শুরু করলাম, কারণ একই জায়গায় লেগেছিল। হেলমেটে বল লাগলে দেখতে ভয়ংকর মনে হয়। কিন্তু সেখানে সুরক্ষা থাকে, তাই ওগুলোকে গুরুতর আঘাত বলি না আমি। একটু ব্যথা লাগা শুরু হয়েছিল কিন্তু খুব বেশি ব্যথা লাগেনি।’

তাঁর মূল দুশ্চিন্তা ছিল অন্য এক আঘাত নিয়ে। হাতের আঙুলে মেলবোর্নে ব্যথা পেয়েছিলেন। সে ব্যথা নিয়ে সিডনি টেস্ট কাটিয়ে দিলেও ব্রিসবেনে আবার আঘাত লেগেছিল পূজারার, ‘সবচেয়ে বেশি ব্যথা লেগেছিল যখন আঙুলে লাগল। কারণ, মেলবোর্নে অনুশীলনে ব্যথা পেয়েছিলাম এবং সিডনি টেস্ট ওই ব্যথা নিয়ে খেলেছি। সিডনিতে খেলা শুরুর আগে দুশ্চিন্তা ছিল, কিন্তু সবকিছু ভালোই গেল। ব্রিসবেনে যখন আবার আঘাত লাগল, অনেক ব্যথা লাগছিল। ভেবেছিলাম আঙুল ভেঙে গেছে।’
পূজারার এই সহ্যক্ষমতা ছিল বলেই না ভারত এমন একটা সিরিজ জিততে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন