বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুমিনুল অবশ্য নড়বড়ে ছিলেন শুরু থেকেই। রান-আউট থেকে বেঁচেছেন, ক্যাচ তুলেও ধরা পড়েননি স্লিপের গ্যাপ বা ওপর দিয়ে যাওয়াতে। শর্ট লেগেও ক্যাচ তুলেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম বলে সাউদিকে চার মেরে শুরু করা বাংলাদেশ অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ওয়াগনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুললেংথের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন। প্রথম স্লিপে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা টেলরের হাতে ধরা পড়ে ফেরার আগে মুমিনুল করেছেন ৬৩ বলে ৩৭ রান।

দ্বিতীয় বলেই ইয়াসির ফিরতে পারতেন, ওয়াগনারের শর্ট বলে উঠেছিল ক্যাচ। গালিতে থাকা হেনরি নিকোলস পেছন ফিরে ঝাঁপ দিয়ে হাতে বল লাগালেও রাখতে পারেননি, নাগালে পাননি স্লিপ থেকে ছুটতে থাকা ল্যাথাম ও টেলরও। টেলরের থ্রো সরাসরি লাগলে ইয়াসির হতে পারতেন রান-আউটও। ওয়াগনারের পরের ওভারে অবশ্য ঠিকই ফিরতে হয় প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করা এ ডানহাতিকে। এবারও শর্ট বলে বেসামাল হয়ে পড়া ইয়াসিরের গ্লাভস ছুঁয়ে বল ওঠে ওপরে, স্লিপ থেকে সামনে এসে সহজ ক্যাচ নেন ল্যাথাম।

সেশনের শেষটা অবশ্য ইতিবাচক ছিল বাংলাদেশের। নিল ওয়াগনারের দুটি শর্ট বলে দারুণ পুলে দুটি চার মারেন লিটন—প্রথমটি বিহাইন্ড দ্য স্কয়ারের, পরেরটি ইনফ্রন্ট অব স্কয়ারে। বিরতিতে যাওয়ার সময় লিটন অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে, নুরুলের রান ছিল ৬।

এর আগে ৩৯৫ রানে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশকে অনুমিতভাবেই ফলো-অন করান কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। সর্বশেষ ৩ টেস্টের মাঝে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফলো-অনে পড়ল বাংলাদেশ, সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল তারা।

default-image

ইনিংসের প্রথম বলেই টিম সাউদিকে ডাউন দ্য লেগে চার মেরে শুরু করা সাদমান ছিলেন ইতিবাচকই। এরপর সাউদি ও জেমিসনকে কাভার ড্রাইভে দুটি চার মারেন। প্রথম ইনিংসের চেয়ে আগেভাগেই বোলিংয়ে প্রথম পরিবর্তন আনতে হয় ল্যাথামকে। দশম ওভারে আসেন কাইল জেমিসন, প্রথম ব্রেকথ্রুও দেন তিনি।

জেমিসনের লেগসাইডের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়া টম ব্লান্ডেলের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন সাদমান। আউট হওয়ার আগপর্যন্ত বেশ দৃঢ় মনে হলেও আলগা শটে ৪৮ বলে ২১ রান করে ফিরতে হয় এ বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে, ২৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ইতিবাচক শুরু করেন নাজমুলও—মুখোমুখি হওয়া তৃতীয় বলে জেমিসনকে ফ্লিক করে মারেন চার । ৪ রানে দাঁড়িয়ে সে ওভারেই জীবনও পান তিনি। তৃতীয় স্লিপ থেকে ডানদিকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ড্যারিল মিচেল, তবে ক্যাচটা অনায়াস হতে পারত দ্বিতীয় স্লিপে থাকা ল্যাথামের জন্য।

default-image

জেমিসনকে আরেকটি চার মারার পর ওয়াগনারের ‘শর্ট বল থিওরি’র মুখোমুখি হতে হয় নাজমুলকে। দ্বৈরথটাও জমে ওঠে। প্রথমে রাউন্ড উইকেট থেকে আসা ওয়াগনারকে হুক করে ছয় মারেন নাজমুল, ঠিক পরের বলে মারেন চার। পরের ওভারে আবার ক্রিজের দুই পাশে ক্লোজ-ইন ফিল্ডার নিয়ে আসা ওয়াগনার শুরু করেন ওভার দ্য উইকেট থেকে। দারুণ টাইমিংয়ের পুলে নাজমুল মারেন চার। স্টাম্পের ওদিক থেকে আসা ওয়াগনারের পরের বলে মারেন আরেকটি।

পরের ওভারে ফেরেন ওয়াগনার, একই ফিল্ড সেট-আপ নিয়ে। এবার রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা শর্ট বলের ফাঁদে ধরা দেন নাজমুল। পুল করলেও সেটা যায় সরাসরি ডিপ ফাইন লেগে বোল্টের হাতে। ৩৬ বলে ২৯ রান করে ফিরতে হয় তাঁকে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন