default-image

'উইকেট দেখে মনে হবে না ইংল্যান্ডে খেলা হচ্ছে!'-ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে চতুর্থ দিনের বাইশ গজ দেখে বলছিলেন পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। এই উইকেটেই পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে ২৭৭ রান তাড়া করতে হতো ইংলিশদের।

কঠিন কাজ। ইংল্যান্ডের ওপরের সারির পাঁচ ব্যাটসম্যান ১১৭ রানে আউট হওয়ায় কাজটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। মনের ভেতর ২৭৭ রান তখন ক্রমশ দ্বিগুণ। দ্বিতীয় সেশনের মাঝ পথ থেকে শুরু হলো প্রতি আক্রমণ। জস বাটলার ও ক্রিস ওকস মিলে পাল্টে দিলেন টেস্টের ভাগ্য।
দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ইংল্যান্ডকে টিকিয়ে রাখতে দুজনই খেলেছেন দারুণ। সুইপ, রিভার্স সুইপে দমিয়ে রাখলেন পিচের ক্ষতে ভয়ংকর হয়ে ওঠা ইয়াসির শাহকে। বল পুরোনো হওয়ার পরও রিভার্স সুইং খুঁজে পাচ্ছিলেন না পাকিস্তানি পেসাররা। ফুল লেংথে বেশি বল করার সাহসও হয়নি পাকিস্তানি পেসারদের। ওকস-বাটলারকে দ্রুত ফেরাতে ছিল না বল তোলার তেমন চেস্টাও।
তবু পুল ও কাট শটে বেশ কিছু বাউন্ডারি যোগ করেন বাটলার-ওকস। টেস্টের মানসিকতা বদলে ওয়ানডে মেজাজে খেলে দ্রুত রান তোলেন দুজন। অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে যোগ করে ১৩৮ বলে ১৩৯ রান। ১১৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে ২৫৬ রানে নিয়ে আউট হন বাটলার। জয় ততক্ষণে প্রায় মুঠোবন্দী।
বাটলারের পর স্টুয়ার্ট ব্রড আউট হলেও শেষ পর্যন্ত ছিলেন ওকস। ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এই পেস বোলিং ইংলিশ অলরাউন্ডার। ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ৩ উইকেটের জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জো রুট প্রশংসায় ভাসান বাটলার ও ওকসকে, ‘আজকের পারফরম্যান্সে আমি খুবই গর্বিত। ওরা জুটি বেঁধে যেভাবে খেলেছে সেটা এক কথায় দারুণ। গত গ্রীষ্মের পর আমরা বিশ্বাস করা বন্ধ করি না। আজ সেটাই দেখা গেল। বাটলার আজ যা দেখাল, সেটা তাঁর মানসিক শক্তির প্রমান। এমন অবস্থায় যে ঝুঁকি গুলো সে নিয়েছে, সেগুলো অসাধারণ। ওকসও দুর্দান্ত খেলেছে।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৩২৬ ও ৪৬.৪ ওভারে ১৬৯ (ইয়াসির ৩৩, শফিক ২৯, রিজওয়ান ২৭; ব্রড ৩/৩৭, ওকস ২/১১, স্টোকস ২/১১)।
ইংল্যান্ড: ২১৯ ও ৫৩ ওভারে ২৭৭/৭ (বাটলার ৭৫, ওকস ৮৪*; ইয়াসির ৪/৯৯, নাসিম ১/৪৫, আব্বাস ১/৩৬, শাহীন ১/৬১)।
ফল : ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে জয়ী

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0