বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কিন্তু এমনকি পরামর্শ দিয়েছিলেন ওয়াসিম-ওয়াকারেরা, যেটা পছন্দ হয়নি নাফীসের?
ওয়াসিম বিসিবির সমালোচনা করেছেন বেশ। তিনি বলেন, এ দেশের বোর্ড নিজেদের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ভাবলেও আসলে তা না, ‘দুই সপ্তাহ ধরে আমি বলছি, যখন থেকে আমরা এ অনুষ্ঠান শুরু করেছি, সে দেশের মানুষ অনেক ভালোবাসে ক্রিকেট। কিন্তু বাংলাদেশের সবাই, বিশেষ করে দেশটার ক্রিকেট বোর্ড মনে করে তারা সবচেয়ে ভালো ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। আমি তাদের একটা কথা বলতে চাই, আপনারা সেরা ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ নন। আপনারা ক্রিকেট বোর্ড চালাতে পারেন ঠিক আছে, কিন্তু আপনারা ক্রিকেট নিয়ে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন না। কিছু মানুষকে নিয়োগ দিতে হবে আপনাদের, খালি কোচ নিয়োগ দিলেই তো সবকিছু হয় না।’


ওদিকে মিসবাহর চোখে পড়েছে ব্যাটসম্যানদের লেগ স্পিন খেলতে না পারার দুর্বলতা, ‘সে কোচদেরও ঠিকঠাক কাজ করতে দেওয়া হয় না। তাঁদের দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করতে দেন না। আপনি বাংলাদেশের খেলা দেখলে বুঝতে পারবেন গতি আর বাউন্স খেলতে পারে না তারা। আগের ম্যাচেও এমনটাই হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা গতি আর বাউন্সে পরাস্ত করেছে তাদের। বল একটু উঁচু হলেই তাদের সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। আরেকটা বিষয় হলো, ওরা ওদের অফ স্পিনার আর ফিঙ্গার স্পিনারদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। লেগ স্পিন খেলতে পারে না তারা। গুগলি, লেগ স্পিন—বুঝতেই পারছে না। অ্যাডাম জাম্পা পাঁচ উইকেট পেয়ে যাচ্ছে তাদের বিপক্ষে। আপনাদের যেহেতু লেগ স্পিনার নেই, সে হিসেবে কাজ করতে হবে আপনাদের। যখন আপনাদের লেগ স্পিনার আসবে তাদের দলে আনতে হবে। আর লেগ স্পিনার তখনই আসবে যখন পিচ ভালো হবে। কারণ, টার্নিং পিচেই ফিঙ্গার স্পিনার বেশি কার্যকর। যে কারণে ভালো পিচে খেলতে গেলে সমস্যা হয়ে যায় ওদের।’

default-image

ওদিকে ওয়াহাব রিয়াজের কাছে মনে হয়েছে, বল না বুঝে মারতে গিয়ে আউট হয়ে ফিরছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা, ‘ওদের শরীরী ভাষা দেখলেই মনে হয় তারা জেতার জন্য খেলছে না, খেলতে হয় বলে খেলছে। বুঝলাম, তারা একটা ম্যাচও জেতেনি, সব ম্যাচ হেরেছে। কিন্তু শরীরী ভাষা একটা ম্যাচের ফলাফলে অনেক বড় প্রভাব ফেলে। আজ আমরা দেখলাম ওদের ব্যাটসম্যানরা শুধু এল আর গেল। কারোর খেলা দেখে মনে হয়নি তারা অনেকক্ষণ খেলতে চায়। বল মিস করছে তারা, ব্যাটের কানায় লাগছে। স্পিন বুঝতে পারছে না, গুগলি বুঝতে পারছে না। তাও তাকেই আক্রমণ করতে যাচ্ছে। দলের রসায়ন, জেতার ইচ্ছা, পরিকল্পনা—কিছুই বোঝা যায়নি তাদের খেলায়।’


বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি কীভাবে সম্ভব, ওয়াসিমের এমন প্রশ্নে ওয়াহাব বলেন, ‘ওরা অনেক বেশি বাঁহাতি স্পিনারের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি দলে অন্তত দুজন থাকে। পেস বোলার সেখানে তেমন পাওয়াই যায় না। এত দিন পর শরিফুল বলে একজন বোলার এসেছে, মোস্তাফিজ তো আছেই। কিন্তু এরা ছাড়া ওদের পেস বোলার তেমন কেউ নেই। ওদের যে অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি, তিনি দলটাকে অনেক ভালোভাবে আগলে রেখেছিলেন। অধিনায়কত্বেও (মাহমুদউল্লাহর) তেমন কিছু দেখিনি। দলের বাকিদের মধ্যেও সে ইচ্ছাটা দেখিনি।’

default-image

ওয়াসিমের চোখে পড়েছে দলে কবজির মোচড় দিয়ে বল করার কেউ না থাকার বিষয়টা, ‘আইসিসির বোলিং র‍্যাংকিংয়ে প্রথম ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই রিস্ট স্পিনার। আজ (পরশু) জাম্পাও আলো ছড়াল। আমার মনে হয় এটা এমন এক তথ্য যেখান থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে, দলে রিস্ট স্পিনার খেলাও। পাকিস্তানের দিকে যদি তাকাই, অনেক রিস্ট স্পিনার আছে আমাদের। শাদাব আছে, বেঞ্চে উসমান কাদির আছে। যুব দল থেকেও অনেকে উঠে আসছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে সমস্যাটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের। হ্যাঁ, জিত-হার খেলার অংশ, তাই বলে এভাবে কেউ হারে না। সত্তরে অলআউট (৭৩), ছিয়াত্তরে অলআউট (৮৪)। ব্যাট করতে গেলে কারোর পা বের হচ্ছে না। জেতার ইচ্ছা নেই কারোর। বাংলাদেশের জন্য এটা অনেক লজ্জাজনক।’


মিসবাহর কাছে মনে হয়েছে, প্রতি দলে অন্তত একজন করে লেগ স্পিনারের পরিচর্যা করা উচিত, যা পাকিস্তান ২০১৯ সাল থেকে করে আসছে, ‘২০১৯ বিশ্বকাপের পর আমাদেরও এমন সমস্যা হচ্ছিল। আমরা লেগ স্পিন খেলতে পারছিলাম না। চায়নাম্যান বোলার খেলতে পারতাম না। বাংলাদেশ এখন একই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আপনাকে সময় দিতে হবে, ধৈর্য্য ধরতে হবে, খেলোয়াড়দের পরিচর্যা করতে হবে, এখন যেটা শ্রীলঙ্কা করছে। এ ব্যাপারটা বাংলাদেশে নেই, তারা ধৈর্য্য ধরতে চায় না। স্বল্প মেয়াদে সাফল্য খোঁজে তারা। এভাবে সফল হওয়া যায় না। আমরা যেমনটা করেছিলাম, ২০১৯ সালের পর আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রতি স্কোয়াডে খুঁজে খুঁজে একজন করে লেগ স্পিনার খেলিয়েছি। আমরা দেখেছি আমাদের দলগুলোর শক্তির জায়গা কোথায়। দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা করতে হবে, পিচের উন্নতি করতে হবে। এসব হলে আপনাদের ব্যাটসম্যানদের টেকনিকও ভালো হবে।’

default-image

এসব পরামর্শ ঠিক মনে ধরেনি শাহরিয়ার নাফীসের। নিজের ফেসবুক পেজে জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার লিখেছিলেন, ‘পাকিস্তান দল এখন যেমন খেলছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু পাকিস্তানি কিংবদন্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, স্যার আপনাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে ভাবার দরকার নেই।’


পরে এ স্ট্যাটাস মুছে ফেলেন নাফীস।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন